ঢাকা ০৪:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

ভোটকেন্দ্রের কঠোর নীতিমালা জারি করল ইসি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৩৫:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির জারি করা নতুন পরিপত্র অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের দিন ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে কোনো প্রার্থী বা তাঁর পক্ষে কেউ কোনো নির্বাচনি ক্যাম্প স্থাপন করতে পারবেন না। একই সঙ্গে ভোটকেন্দ্রের চৌহদ্দির মধ্যে কোনো প্রকার পোস্টার, লিফলেট বা প্রচারপত্র থাকলে তা ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই সরিয়ে ফেলতে হবে, যাতে ভোটারদের কোনোভাবে প্রভাবিত বা নিরুৎসাহিত করা না যায়।

নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভোটের দিন ভোটারদের কেন্দ্রে আনার জন্য কোনো প্রার্থী, এজেন্ট বা সমর্থক কোনো ধরনের যানবাহন ব্যবহার করতে পারবেন না। যাতায়াতের জন্য কোনো প্রার্থীর পক্ষ থেকে যানবাহনের ব্যবস্থা করা হলে তা নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবার পৌনে ১৩ কোটি ভোটার (১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৫ জন) এই বিশাল নির্বাচনি যজ্ঞে অংশগ্রহণ করবেন। সারা দেশের ৪২ হাজার ৭৬৬টি ভোটকেন্দ্রে প্রায় আড়াই লাখ ভোটকক্ষে এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

ভোটগ্রহণের সময় ও পদ্ধতি:
১২ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে একটানা বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। ইসি নির্দেশ দিয়েছে যে, কোনো অবস্থাতেই ভোট শুরু করতে বিলম্ব করা যাবে না। প্রতিটি ভোটকক্ষে এবার দুটি করে ‘মার্কিং প্লেস’ বা গোপন কক্ষ থাকবে। যেহেতু একই দিনে সংসদ নির্বাচন এবং ‘জুলাই ন্যাশনাল চার্টার’ বিষয়ক গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তাই প্রত্যেক ভোটারকে দুটি পৃথক ব্যালট পেপারে সিল দিতে হবে। ভোটারদের গোপনীয়তা রক্ষায় জানালার পাশে বা উন্মুক্ত স্থানে গোপন কক্ষ না রাখার জন্য প্রিজাইডিং অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ব্যালট বাক্স ও নির্বাচনি সরঞ্জাম:
সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে প্রতিটি ভোটকক্ষে কেবল স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই অন্য কোনো ধরনের বাক্স ব্যবহার করা যাবে না। প্রতিটি ভোটকক্ষের জন্য একটি এবং প্রতিটি কেন্দ্রে অতিরিক্ত একটি ব্যালট বাক্স সংরক্ষিত থাকবে। কোনো ব্যালট বাক্স পূর্ণ হয়ে গেলে প্রিজাইডিং অফিসার প্রার্থী বা তাঁদের এজেন্টদের উপস্থিতিতে তা বিশেষ ‘পঞ্চম লক’ দিয়ে সিল করে নিরাপদ স্থানে রাখবেন এবং নতুন বাক্স স্থাপন করবেন। এছাড়া ব্যালট পেপারের পেছনে অফিশিয়াল সিল ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বিকেল নাগাদ ভোটারদের চাপ বাড়তে পারে বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুসমন্বয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শঙ্কা মাথায় রেখে প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত আলোর পাশাপাশি বিকল্প আলোর (যেমন- হারিকেন বা চার্জার লাইট) ব্যবস্থা রাখারও নির্দেশ দিয়েছে ইসি। রিটার্নিং অফিসারদের পাঠানো এই নির্দেশনায় জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, এসব বিধি যথাযথ পালনের মাধ্যমেই একটি উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

আলোচিত ছাত্রনেতা রিয়াদ হত্যাচেষ্টা মামলায় রিমান্ডে, জামিন পেলেন ৩ সহ-অভিযুক্ত

ভোটকেন্দ্রের কঠোর নীতিমালা জারি করল ইসি

আপডেট সময় : ০১:৩৫:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির জারি করা নতুন পরিপত্র অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের দিন ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে কোনো প্রার্থী বা তাঁর পক্ষে কেউ কোনো নির্বাচনি ক্যাম্প স্থাপন করতে পারবেন না। একই সঙ্গে ভোটকেন্দ্রের চৌহদ্দির মধ্যে কোনো প্রকার পোস্টার, লিফলেট বা প্রচারপত্র থাকলে তা ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই সরিয়ে ফেলতে হবে, যাতে ভোটারদের কোনোভাবে প্রভাবিত বা নিরুৎসাহিত করা না যায়।

নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভোটের দিন ভোটারদের কেন্দ্রে আনার জন্য কোনো প্রার্থী, এজেন্ট বা সমর্থক কোনো ধরনের যানবাহন ব্যবহার করতে পারবেন না। যাতায়াতের জন্য কোনো প্রার্থীর পক্ষ থেকে যানবাহনের ব্যবস্থা করা হলে তা নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবার পৌনে ১৩ কোটি ভোটার (১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৫ জন) এই বিশাল নির্বাচনি যজ্ঞে অংশগ্রহণ করবেন। সারা দেশের ৪২ হাজার ৭৬৬টি ভোটকেন্দ্রে প্রায় আড়াই লাখ ভোটকক্ষে এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

ভোটগ্রহণের সময় ও পদ্ধতি:
১২ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে একটানা বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। ইসি নির্দেশ দিয়েছে যে, কোনো অবস্থাতেই ভোট শুরু করতে বিলম্ব করা যাবে না। প্রতিটি ভোটকক্ষে এবার দুটি করে ‘মার্কিং প্লেস’ বা গোপন কক্ষ থাকবে। যেহেতু একই দিনে সংসদ নির্বাচন এবং ‘জুলাই ন্যাশনাল চার্টার’ বিষয়ক গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তাই প্রত্যেক ভোটারকে দুটি পৃথক ব্যালট পেপারে সিল দিতে হবে। ভোটারদের গোপনীয়তা রক্ষায় জানালার পাশে বা উন্মুক্ত স্থানে গোপন কক্ষ না রাখার জন্য প্রিজাইডিং অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ব্যালট বাক্স ও নির্বাচনি সরঞ্জাম:
সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে প্রতিটি ভোটকক্ষে কেবল স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই অন্য কোনো ধরনের বাক্স ব্যবহার করা যাবে না। প্রতিটি ভোটকক্ষের জন্য একটি এবং প্রতিটি কেন্দ্রে অতিরিক্ত একটি ব্যালট বাক্স সংরক্ষিত থাকবে। কোনো ব্যালট বাক্স পূর্ণ হয়ে গেলে প্রিজাইডিং অফিসার প্রার্থী বা তাঁদের এজেন্টদের উপস্থিতিতে তা বিশেষ ‘পঞ্চম লক’ দিয়ে সিল করে নিরাপদ স্থানে রাখবেন এবং নতুন বাক্স স্থাপন করবেন। এছাড়া ব্যালট পেপারের পেছনে অফিশিয়াল সিল ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বিকেল নাগাদ ভোটারদের চাপ বাড়তে পারে বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুসমন্বয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শঙ্কা মাথায় রেখে প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত আলোর পাশাপাশি বিকল্প আলোর (যেমন- হারিকেন বা চার্জার লাইট) ব্যবস্থা রাখারও নির্দেশ দিয়েছে ইসি। রিটার্নিং অফিসারদের পাঠানো এই নির্দেশনায় জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, এসব বিধি যথাযথ পালনের মাধ্যমেই একটি উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।