বাংলাদেশের গৃহস্থালি ইলেকট্রনিক্স পণ্যের বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করতে এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করতে বড় ধরনের রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেড। তুরস্কের বিখ্যাত কচ হোল্ডিং-এর ফ্ল্যাগশিপ প্রতিষ্ঠান বেকো’র সহযোগী এই প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি উৎপাদন ও রপ্তানি খাতে বেশ কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মানসম্মত পণ্য উৎপাদন এবং দীর্ঘমেয়াদী ব্যবসায়িক উৎকর্ষের লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রমের নতুন এক অধ্যায় সূচনা করেছে।
এই রূপান্তরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোনে (বিএসইজেড) স্থাপিত সিঙ্গার বাংলাদেশের অত্যাধুনিক উৎপাদন কারখানা। প্রায় ৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৯০০ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগে নির্মিত এই কারখানাটি দেশের শিল্প খাতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। নতুন এই কারখানায় বর্তমানে রেফ্রিজারেটর, টেলিভিশন, এয়ার কন্ডিশনার এবং ওয়াশিং মেশিনসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় গৃহস্থালি পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে। কারখানায় উৎপাদিত পণ্যের প্রায় ৯০ শতাংশেরই কাঁচামাল ও প্রক্রিয়া স্থানীয়ভাবে সম্পন্ন হওয়ায় আমদানির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৪ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রেও সিঙ্গার বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে প্রতিষ্ঠানটি ২০২৫ সালে ১৪.৩ শতাংশ রাজস্ব প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির স্থূল মুনাফা ২১৪ মিলিয়ন টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা তাদের টেকসই ব্যবসায়িক কৌশল ও দূরদর্শী বিনিয়োগের ফল। যদিও বড় অঙ্কের বিনিয়োগের ফলে স্বল্প মেয়াদে কিছু আর্থিক চাপ রয়েছে, তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে এই বিনিয়োগ দেশের বাজারে সিঙ্গারের অবস্থানকে অপরাজিত রাখবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে।
উৎপাদনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও নিজেদের সক্ষমতার জানান দিচ্ছে সিঙ্গার বাংলাদেশ। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি ইউরোপের বাজারে প্রথমবারের মতো ‘ওয়্যার হারনেস কম্পোনেন্ট’ রপ্তানি শুরু করেছে। এটি কেবল সিঙ্গারের জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক্স খাতের রপ্তানি সক্ষমতার ক্ষেত্রেও একটি বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নিজস্ব কারখানায় প্রথমবারের মতো এয়ার কন্ডিশনার উৎপাদন শুরু করাও প্রতিষ্ঠানটির প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের একটি বড় প্রমাণ।
গ্রাহকদের জন্য আধুনিক কেনাকাটার অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে সিঙ্গার ইতোমধ্যে দেশে প্রথম কনসেপ্ট স্টোর ও ফ্ল্যাগশিপ স্টোর চালু করেছে। প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কর্মপরিবেশেও আনা হয়েছে আধুনিকতার ছোঁয়া। বাজার পরিস্থিতির পরিবর্তনের সাথে সংগতি রেখে এবং গ্রাহক চাহিদা মাথায় রেখে নেওয়া এসব কৌশলগত উদ্যোগ দেশের শিল্পায়ন ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মূলত পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা, উদ্ভাবনী প্রযুক্তি এবং দক্ষ জনশক্তির সমন্বয়ে সিঙ্গার বাংলাদেশ এখন একটি ভবিষ্যৎমুখী ও শক্তিশালী ব্র্যান্ড হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
রিপোর্টারের নাম 




















