ঢাকা ০৬:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

খুলনার ভোটযুদ্ধ: হিন্দু ভোটারদের গুরুত্ব ও বিএনপি-জামায়াতের ত্রিমুখী লড়াই

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩০:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খুলনা অঞ্চলের ছয়টি সংসদীয় আসনে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনার পারদ চড়ছে। এই আসনগুলোতে মোট ৩৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যাদের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, জোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা রয়েছেন। তবে মাঠের জরিপ অনুযায়ী, মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা মূলত বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। গত নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবার অধিকাংশ প্রার্থীই নতুন মুখ।

গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের আশঙ্কায় বিগত নির্বাচনগুলোতে জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে, এবারের নির্বাচনকে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছে। প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে নিজেদের পক্ষে সমর্থন আদায়ের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তফসিল ঘোষণা, মনোনয়নপত্র দাখিল, প্রত্যাহার এবং প্রতীক বরাদ্দের পর আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হলেও, নির্বাচনের দুই সপ্তাহ আগে থেকেই নির্বাচনী আমেজ প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।

সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের খুলনা সফর এবং সেখানে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এর বিপরীতে, বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে দলটির নেতাকর্মীরা বিশেষ উজ্জীবিত। দীর্ঘ ২২ বছর পর তার খুলনায় উপস্থিতি নির্বাচনকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

পূর্ববর্তী সংসদ নির্বাচনগুলোর ফলাফল বিশ্লেষণ করলে একটি মিশ্র চিত্র পাওয়া যায়। যদিও গত তিনটি নির্বাচনের ফলাফলকে আদর্শ হিসেবে ধরা হচ্ছে না, তবে খুলনা অঞ্চলে আওয়ামী লীগের একটি সুস্পষ্ট প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। খুলনা মহানগরের দুটি আসনে বিএনপি একাধিকবার জয়লাভ করলেও, অন্য চারটি আসনে বেশিরভাগ সময়ই আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়েছে। বিশেষত, হিন্দু অধ্যুষিত আসনগুলোতে ভোটাররা প্রতীকের চেয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী প্রার্থীকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। এছাড়াও, দুটি আসনে জামায়াতের জয়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

বর্তমান নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে, আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি এবং হিন্দু ভোটারদের সমর্থনের বিষয়টি রাজনৈতিক দলগুলোর কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আসন দখলের লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে জামায়াতে ইসলামী তাদের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে একজন সনাতন ধর্মাবলম্বীকে মনোনয়ন দিয়েছে। অন্যদিকে, বিএনপি হিন্দুদের জানমাল রক্ষা এবং তাদের পাশে থাকার অঙ্গীকারের মাধ্যমে তাদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছে।

খুলনা-১ আসনটি এবার সারা দেশে আলোচিত। হিন্দু ভোটার অধ্যুষিত এই আসনে বিএনপির প্রার্থী আমির এজাজ খান, যিনি অতীতে তিনবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছেন। এবার ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে চতুর্থবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন এবং জয়ের ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদী। তিনি মনে করেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ভোটাররা তার পক্ষে রায় দেবেন। এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী, দলের সনাতন শাখার ডুমুরিয়া উপজেলা কমিটির সভাপতি ও ব্যবসায়ী নেতা কৃষ্ণ নন্দী। রাজনীতিতে নবীন হলেও, তার প্রার্থিতা নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

খুলনা-২ আসন, যা সদর ও সোনাডাঙ্গা থানার ১৬টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত, ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ওয়ান-ইলেভেনের সরকারের পাতানো নির্বাচনে নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও এই আসন থেকে বিএনপি মনোনীত নজরুল ইসলাম মঞ্জু নির্বাচিত হয়েছিলেন। দীর্ঘ চার বছরেরও বেশি সময় ধরে দলের পদ-পদবীতে না থাকলেও, মঞ্জুর ব্যক্তি ইমেজ, অমায়িক ব্যবহার এবং আন্তরিকতা তাকে সাধারণ মানুষের কাছে প্রিয় করে তুলেছে। তার গণসংযোগ কার্যক্রমে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মহানগর শাখার সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলাল, যিনি প্রচার ও জনসংযোগে সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়েছেন এবং অনলাইনে প্রচারের ক্ষেত্রেও এগিয়ে রয়েছেন।

খুলনা-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল। ২০১৮ সালের নির্বাচনে পরাজিত হলেও, তিনি নিয়মিতভাবে এলাকাবাসীর পাশে থাকায় তার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষত, করোনাকালে ও পরবর্তী সময়ে তার কার্যক্রম একটি সুদৃঢ় অবস্থান তৈরি করেছে। এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী মহানগরের আমির মাহফুজুর রহমান, যিনি তার সৎ ও ন্যায়নিষ্ঠ ভাবমূর্তির মাধ্যমে ভোটারদের আস্থা অর্জন করেছেন।

খুলনা-৪ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল এবং জামায়াত সমর্থিত খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাওলানা সাখাওয়াত হোসেনের মধ্যে। হেলাল তার ধারাবাহিক কার্যক্রমের মাধ্যমে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন। অন্যদিকে, জামায়াত তাদের দলীয় প্রার্থী প্রত্যাহার করে সাখাওয়াত হোসেনকে মনোনয়ন দিয়েছে এবং তার পক্ষে প্রচার জোরদার করেছে।

খুলনা-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং বিএনপির সাবেক এমপি আলি আসগার লবির মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গোলাম পরওয়ার এই আসন থেকে পূর্বে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং সব সম্প্রদায়ের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা রয়েছে। অন্যদিকে, লবির মনোনয়ন স্থানীয় বিএনপিতে কিছুটা প্রাথমিক অসন্তোষ সৃষ্টি করলেও, পরবর্তীতে তা মিটে গেছে।

উপকূলীয় দুই উপজেলা কয়রা ও পাইকগাছা নিয়ে গঠিত খুলনা-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ এবং বিএনপির জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পীর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। জামায়াতের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী এবং আবুল কালাম আজাদ বিগত কয়েক বছর ধরে এলাকায় ধারাবাহিকভাবে কাজ করছেন। বিএনপির প্রার্থী মনিরুল হাসান বাপ্পী স্থানীয় না হওয়ায় শুরুতে কিছুটা বিরূপ অবস্থায় থাকলেও, সময়ের সাথে সাথে তার জনসভাগুলোতে জনসমাগম বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘জিয়াউর রহমান শিক্ষাব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির ভিত্তি তৈরি করেন’

খুলনার ভোটযুদ্ধ: হিন্দু ভোটারদের গুরুত্ব ও বিএনপি-জামায়াতের ত্রিমুখী লড়াই

আপডেট সময় : ০৯:৩০:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খুলনা অঞ্চলের ছয়টি সংসদীয় আসনে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনার পারদ চড়ছে। এই আসনগুলোতে মোট ৩৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যাদের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, জোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা রয়েছেন। তবে মাঠের জরিপ অনুযায়ী, মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা মূলত বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। গত নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবার অধিকাংশ প্রার্থীই নতুন মুখ।

গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের আশঙ্কায় বিগত নির্বাচনগুলোতে জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে, এবারের নির্বাচনকে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছে। প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে নিজেদের পক্ষে সমর্থন আদায়ের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তফসিল ঘোষণা, মনোনয়নপত্র দাখিল, প্রত্যাহার এবং প্রতীক বরাদ্দের পর আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হলেও, নির্বাচনের দুই সপ্তাহ আগে থেকেই নির্বাচনী আমেজ প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।

সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের খুলনা সফর এবং সেখানে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এর বিপরীতে, বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে দলটির নেতাকর্মীরা বিশেষ উজ্জীবিত। দীর্ঘ ২২ বছর পর তার খুলনায় উপস্থিতি নির্বাচনকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

পূর্ববর্তী সংসদ নির্বাচনগুলোর ফলাফল বিশ্লেষণ করলে একটি মিশ্র চিত্র পাওয়া যায়। যদিও গত তিনটি নির্বাচনের ফলাফলকে আদর্শ হিসেবে ধরা হচ্ছে না, তবে খুলনা অঞ্চলে আওয়ামী লীগের একটি সুস্পষ্ট প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। খুলনা মহানগরের দুটি আসনে বিএনপি একাধিকবার জয়লাভ করলেও, অন্য চারটি আসনে বেশিরভাগ সময়ই আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়েছে। বিশেষত, হিন্দু অধ্যুষিত আসনগুলোতে ভোটাররা প্রতীকের চেয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী প্রার্থীকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। এছাড়াও, দুটি আসনে জামায়াতের জয়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

বর্তমান নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে, আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি এবং হিন্দু ভোটারদের সমর্থনের বিষয়টি রাজনৈতিক দলগুলোর কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আসন দখলের লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে জামায়াতে ইসলামী তাদের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে একজন সনাতন ধর্মাবলম্বীকে মনোনয়ন দিয়েছে। অন্যদিকে, বিএনপি হিন্দুদের জানমাল রক্ষা এবং তাদের পাশে থাকার অঙ্গীকারের মাধ্যমে তাদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছে।

খুলনা-১ আসনটি এবার সারা দেশে আলোচিত। হিন্দু ভোটার অধ্যুষিত এই আসনে বিএনপির প্রার্থী আমির এজাজ খান, যিনি অতীতে তিনবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছেন। এবার ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে চতুর্থবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন এবং জয়ের ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদী। তিনি মনে করেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ভোটাররা তার পক্ষে রায় দেবেন। এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী, দলের সনাতন শাখার ডুমুরিয়া উপজেলা কমিটির সভাপতি ও ব্যবসায়ী নেতা কৃষ্ণ নন্দী। রাজনীতিতে নবীন হলেও, তার প্রার্থিতা নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

খুলনা-২ আসন, যা সদর ও সোনাডাঙ্গা থানার ১৬টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত, ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ওয়ান-ইলেভেনের সরকারের পাতানো নির্বাচনে নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও এই আসন থেকে বিএনপি মনোনীত নজরুল ইসলাম মঞ্জু নির্বাচিত হয়েছিলেন। দীর্ঘ চার বছরেরও বেশি সময় ধরে দলের পদ-পদবীতে না থাকলেও, মঞ্জুর ব্যক্তি ইমেজ, অমায়িক ব্যবহার এবং আন্তরিকতা তাকে সাধারণ মানুষের কাছে প্রিয় করে তুলেছে। তার গণসংযোগ কার্যক্রমে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মহানগর শাখার সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলাল, যিনি প্রচার ও জনসংযোগে সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়েছেন এবং অনলাইনে প্রচারের ক্ষেত্রেও এগিয়ে রয়েছেন।

খুলনা-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল। ২০১৮ সালের নির্বাচনে পরাজিত হলেও, তিনি নিয়মিতভাবে এলাকাবাসীর পাশে থাকায় তার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষত, করোনাকালে ও পরবর্তী সময়ে তার কার্যক্রম একটি সুদৃঢ় অবস্থান তৈরি করেছে। এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী মহানগরের আমির মাহফুজুর রহমান, যিনি তার সৎ ও ন্যায়নিষ্ঠ ভাবমূর্তির মাধ্যমে ভোটারদের আস্থা অর্জন করেছেন।

খুলনা-৪ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল এবং জামায়াত সমর্থিত খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাওলানা সাখাওয়াত হোসেনের মধ্যে। হেলাল তার ধারাবাহিক কার্যক্রমের মাধ্যমে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন। অন্যদিকে, জামায়াত তাদের দলীয় প্রার্থী প্রত্যাহার করে সাখাওয়াত হোসেনকে মনোনয়ন দিয়েছে এবং তার পক্ষে প্রচার জোরদার করেছে।

খুলনা-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং বিএনপির সাবেক এমপি আলি আসগার লবির মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গোলাম পরওয়ার এই আসন থেকে পূর্বে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং সব সম্প্রদায়ের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা রয়েছে। অন্যদিকে, লবির মনোনয়ন স্থানীয় বিএনপিতে কিছুটা প্রাথমিক অসন্তোষ সৃষ্টি করলেও, পরবর্তীতে তা মিটে গেছে।

উপকূলীয় দুই উপজেলা কয়রা ও পাইকগাছা নিয়ে গঠিত খুলনা-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ এবং বিএনপির জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পীর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। জামায়াতের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী এবং আবুল কালাম আজাদ বিগত কয়েক বছর ধরে এলাকায় ধারাবাহিকভাবে কাজ করছেন। বিএনপির প্রার্থী মনিরুল হাসান বাপ্পী স্থানীয় না হওয়ায় শুরুতে কিছুটা বিরূপ অবস্থায় থাকলেও, সময়ের সাথে সাথে তার জনসভাগুলোতে জনসমাগম বৃদ্ধি পাচ্ছে।