ঢাকা ০৬:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

‘বিষ’ খাচ্ছে জাতি? নিরাপদ খাদ্য দিবসেও অস্বাস্থ্যকর খাবারের উদ্বেগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:১৮:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

আজ (সোমবার) পালিত হচ্ছে জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস-২০২৬। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য – ‘খাদ্য নিশ্চিত করি সুস্থ সবল জীবন গড়ি।’ ২০০৮ সালে দেশে প্রথমবারের মতো দিবসটি পালনের পর থেকে জনমনে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, তা হলো—জাতি কি সত্যিই নিরাপদ খাদ্য পাচ্ছে? দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) কর্মকর্তারা নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি উৎপাদন, আমদানি, প্রক্রিয়াকরণ, মজুত, সরবরাহ, বিপণন ও বিক্রয় সংক্রান্ত বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন।

তবে, সংস্থাটির কার্যক্রম সত্ত্বেও বাজারে অস্বাস্থ্যকর খাবারের ছড়াছড়ি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ কাটেনি। বিএফএসএ চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) জাকারিয়া নিজেও খাবারে ট্রান্সফ্যাটের মাত্রা বৃদ্ধির বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে কাজ চলছে এবং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ বন্ধ করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে, তিনি এও বলেন যে, যারা খাদ্য উৎপাদন, সরবরাহ, বিক্রি এবং গ্রহণ করছেন, তাদের সকলকেই সচেতন হতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য উদ্বেগজনক। ট্রান্সফ্যাটঘটিত হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকিতে থাকা শীর্ষ ১৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। দেশে হৃদরোগজনিত মৃত্যুর ৪.৪১ শতাংশের জন্য দায়ী এই ট্রান্সফ্যাট। হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. আফজালুর রহমান ব্যাখ্যা করেন, ট্রান্সফ্যাট হলো এক ধরনের ক্ষতিকর চর্বি যা রক্তে ‘ভালো’ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয় এবং ‘খারাপ’ কোলেস্টরেলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এই অতিরিক্ত খারাপ কোলেস্টেরলই হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

চিকিৎসক ও গবেষকদের মতে, চর্বি ও ট্রান্সফ্যাট হৃদরোগের অন্যতম প্রধান কারণ। বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগে যত মানুষ মারা যান, তার প্রায় অর্ধেকই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে, যার সংখ্যা প্রায় তিন লক্ষ। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হৃদরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিমেল সাহা উল্লেখ করেছেন যে, বাংলাদেশে হৃদরোগের অনেক রোগীর পেছনেই এই ট্রান্সফ্যাট দায়ী। গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞার (প্রগতির জন্য জ্ঞান) নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের জানিয়েছেন, খাদ্যে ট্রান্সফ্যাটের প্রধান উৎস হলো পারশিয়ালি হাইড্রোজেনেটেড অয়েল (পিএইচও), যা সাধারণত ডালডা বা বনস্পতি ঘি নামে পরিচিত। বেকারি পণ্য, প্রক্রিয়াজাত ও ভাজা পোড়া খাবার এবং হোটেল-রেস্তোরাঁ ও রাস্তার ধারের দোকানে বিভিন্ন খাবার তৈরিতে এর ব্যাপক ব্যবহার স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে।

পুষ্টিবিদদের মতে, ট্রান্স ফ্যাটি এসিড (টিএফএ) বা ট্রান্সফ্যাট একটি বিষাক্ত উপাদান যা হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা ধরনের অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এই প্রেক্ষাপটে, বিএফএসএ সকল প্রকার ফ্যাট, তেল এবং খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্সফ্যাটের সর্বোচ্চ সীমা মোট ফ্যাটের ২ শতাংশ নির্ধারণ করে একটি প্রবিধানমালা জারি করেছে।

অন্যদিকে, ফাস্ট ফুডের নামে ‘স্নায়ু বিষ’ মানুষের পেটে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব খাবারের স্বাদ বাড়াতে ব্যবহৃত টেস্টিং সল্ট (মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট) পরিমাণে বেশি খেলে এবং দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে কিডনি বিকলসহ জটিল রোগ দেখা দিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরির এক সমীক্ষায় বাজারে প্রচলিত আলুর চিপস, ৫৫টি নুডুলস, পপকর্ন এবং ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ে অতিমাত্রায় টেস্টিং সল্ট পাওয়া গেছে। পুষ্টিবিদরা বলছেন, টেস্টিং সল্টের পরিবর্তে টমেটো ব্যবহার করলে পুষ্টিগুণ বৃদ্ধির পাশাপাশি খাবারের স্বাদও বাড়ে, কারণ টমেটো ও পনিরে প্রাকৃতিকভাবেই মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট থাকে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেছেন, অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও ট্রান্সফ্যাট হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং ক্যানসারের মতো অসংক্রামক রোগের অন্যতম কারণ। খাদ্যে এসব উপাদানের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। তারা জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনি কাঠামো শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে দেশের মানুষ ‘খাবারের নামে বিষ’ খাওয়া থেকে বিরত থাকে। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদারও এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

সেন্টার ফর ল অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্সের গবেষণায় দেখা গেছে, অধিকাংশ মোড়কজাত খাদ্যে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কোনো সতর্কবার্তা নেই। চিপস ও উচ্চ চিনিযুক্ত পানীয়তে আকর্ষণীয় শব্দ ব্যবহার করে ভোক্তাদের আকৃষ্ট করা হয়। বাজার পর্যবেক্ষণে আরও দেখা গেছে, প্রায় শতভাগ দোকানে এসব পণ্যের বিজ্ঞাপন থাকে, ৭০ শতাংশ দোকানি অতিরিক্ত বিক্রির জন্য কমিশন পান, ৫২ শতাংশ দোকানে ব্র্যান্ডের ফ্রিজ এবং ৩৬ শতাংশ দোকানে সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে।

এসব বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শিব্বির আহমেদ ওসমানী জানিয়েছেন, সরকার মোড়কজাত খাদ্যে চিনি, লবণ ও ট্রান্সফ্যাট সংক্রান্ত তথ্য উল্লেখ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য মোহাম্মদ সোয়েব বলেন, নিরাপদ খাদ্য আইন একটি শক্তিশালী আইন এবং এর আলোকে মোড়কজাত প্রবিধানমালা তৈরি হলেও অনেক ব্যবসায়ী তা মেনে চলছেন না। তিনি ফ্রন্ট প্যাকেটে লেবেলিং বাস্তবায়নে কাজ করার কথা উল্লেখ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য জাপানের ২৬ লাখ ডলার অনুদান: ইউএনএইচসিআর-এর সঙ্গে চুক্তি সই

‘বিষ’ খাচ্ছে জাতি? নিরাপদ খাদ্য দিবসেও অস্বাস্থ্যকর খাবারের উদ্বেগ

আপডেট সময় : ০৬:১৮:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আজ (সোমবার) পালিত হচ্ছে জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস-২০২৬। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য – ‘খাদ্য নিশ্চিত করি সুস্থ সবল জীবন গড়ি।’ ২০০৮ সালে দেশে প্রথমবারের মতো দিবসটি পালনের পর থেকে জনমনে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, তা হলো—জাতি কি সত্যিই নিরাপদ খাদ্য পাচ্ছে? দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) কর্মকর্তারা নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি উৎপাদন, আমদানি, প্রক্রিয়াকরণ, মজুত, সরবরাহ, বিপণন ও বিক্রয় সংক্রান্ত বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন।

তবে, সংস্থাটির কার্যক্রম সত্ত্বেও বাজারে অস্বাস্থ্যকর খাবারের ছড়াছড়ি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ কাটেনি। বিএফএসএ চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) জাকারিয়া নিজেও খাবারে ট্রান্সফ্যাটের মাত্রা বৃদ্ধির বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে কাজ চলছে এবং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ বন্ধ করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে, তিনি এও বলেন যে, যারা খাদ্য উৎপাদন, সরবরাহ, বিক্রি এবং গ্রহণ করছেন, তাদের সকলকেই সচেতন হতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য উদ্বেগজনক। ট্রান্সফ্যাটঘটিত হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকিতে থাকা শীর্ষ ১৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। দেশে হৃদরোগজনিত মৃত্যুর ৪.৪১ শতাংশের জন্য দায়ী এই ট্রান্সফ্যাট। হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. আফজালুর রহমান ব্যাখ্যা করেন, ট্রান্সফ্যাট হলো এক ধরনের ক্ষতিকর চর্বি যা রক্তে ‘ভালো’ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয় এবং ‘খারাপ’ কোলেস্টরেলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এই অতিরিক্ত খারাপ কোলেস্টেরলই হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

চিকিৎসক ও গবেষকদের মতে, চর্বি ও ট্রান্সফ্যাট হৃদরোগের অন্যতম প্রধান কারণ। বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগে যত মানুষ মারা যান, তার প্রায় অর্ধেকই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে, যার সংখ্যা প্রায় তিন লক্ষ। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হৃদরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিমেল সাহা উল্লেখ করেছেন যে, বাংলাদেশে হৃদরোগের অনেক রোগীর পেছনেই এই ট্রান্সফ্যাট দায়ী। গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞার (প্রগতির জন্য জ্ঞান) নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের জানিয়েছেন, খাদ্যে ট্রান্সফ্যাটের প্রধান উৎস হলো পারশিয়ালি হাইড্রোজেনেটেড অয়েল (পিএইচও), যা সাধারণত ডালডা বা বনস্পতি ঘি নামে পরিচিত। বেকারি পণ্য, প্রক্রিয়াজাত ও ভাজা পোড়া খাবার এবং হোটেল-রেস্তোরাঁ ও রাস্তার ধারের দোকানে বিভিন্ন খাবার তৈরিতে এর ব্যাপক ব্যবহার স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে।

পুষ্টিবিদদের মতে, ট্রান্স ফ্যাটি এসিড (টিএফএ) বা ট্রান্সফ্যাট একটি বিষাক্ত উপাদান যা হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা ধরনের অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এই প্রেক্ষাপটে, বিএফএসএ সকল প্রকার ফ্যাট, তেল এবং খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্সফ্যাটের সর্বোচ্চ সীমা মোট ফ্যাটের ২ শতাংশ নির্ধারণ করে একটি প্রবিধানমালা জারি করেছে।

অন্যদিকে, ফাস্ট ফুডের নামে ‘স্নায়ু বিষ’ মানুষের পেটে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব খাবারের স্বাদ বাড়াতে ব্যবহৃত টেস্টিং সল্ট (মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট) পরিমাণে বেশি খেলে এবং দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে কিডনি বিকলসহ জটিল রোগ দেখা দিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরির এক সমীক্ষায় বাজারে প্রচলিত আলুর চিপস, ৫৫টি নুডুলস, পপকর্ন এবং ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ে অতিমাত্রায় টেস্টিং সল্ট পাওয়া গেছে। পুষ্টিবিদরা বলছেন, টেস্টিং সল্টের পরিবর্তে টমেটো ব্যবহার করলে পুষ্টিগুণ বৃদ্ধির পাশাপাশি খাবারের স্বাদও বাড়ে, কারণ টমেটো ও পনিরে প্রাকৃতিকভাবেই মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট থাকে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেছেন, অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও ট্রান্সফ্যাট হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং ক্যানসারের মতো অসংক্রামক রোগের অন্যতম কারণ। খাদ্যে এসব উপাদানের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। তারা জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনি কাঠামো শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে দেশের মানুষ ‘খাবারের নামে বিষ’ খাওয়া থেকে বিরত থাকে। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদারও এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

সেন্টার ফর ল অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্সের গবেষণায় দেখা গেছে, অধিকাংশ মোড়কজাত খাদ্যে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কোনো সতর্কবার্তা নেই। চিপস ও উচ্চ চিনিযুক্ত পানীয়তে আকর্ষণীয় শব্দ ব্যবহার করে ভোক্তাদের আকৃষ্ট করা হয়। বাজার পর্যবেক্ষণে আরও দেখা গেছে, প্রায় শতভাগ দোকানে এসব পণ্যের বিজ্ঞাপন থাকে, ৭০ শতাংশ দোকানি অতিরিক্ত বিক্রির জন্য কমিশন পান, ৫২ শতাংশ দোকানে ব্র্যান্ডের ফ্রিজ এবং ৩৬ শতাংশ দোকানে সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে।

এসব বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শিব্বির আহমেদ ওসমানী জানিয়েছেন, সরকার মোড়কজাত খাদ্যে চিনি, লবণ ও ট্রান্সফ্যাট সংক্রান্ত তথ্য উল্লেখ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য মোহাম্মদ সোয়েব বলেন, নিরাপদ খাদ্য আইন একটি শক্তিশালী আইন এবং এর আলোকে মোড়কজাত প্রবিধানমালা তৈরি হলেও অনেক ব্যবসায়ী তা মেনে চলছেন না। তিনি ফ্রন্ট প্যাকেটে লেবেলিং বাস্তবায়নে কাজ করার কথা উল্লেখ করেন।