ঢাকা ০৬:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

৫৩ আসনে সহিংসতার শঙ্কা: ভোটের নিরাপত্তায় পুলিশের কঠোর নজরদারি ও বিশেষ পরিকল্পনা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৩২:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৫৩টিকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। এসব আসনে নির্বাচনকালীন সংঘাত ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে বিশেষ নিরাপত্তা ছক তৈরি করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটের দিন হট্টগোল, হামলা ও যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় এসব এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

পুলিশের গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, একাধিক শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর উপস্থিতি, বিগত নির্বাচনগুলোতে সংঘাতের ইতিহাস এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অস্থিতিশীলতার ওপর ভিত্তি করে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব ও চরমপন্থি তৎপরতার মতো বিষয়গুলোকেও ঝুঁকির কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব আসনে ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং ভাসমান জনগোষ্ঠীর আধিক্য বেশি, সেখানে সহিংসতার আশঙ্কা তুলনামূলক বেশি বলে মনে করছে পুলিশ।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঝুঁকিপূর্ণ এসব আসনে আগে থেকেই গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ভোটের দিন সাধারণ পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হবে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি মাঠপর্যায়ে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন। প্রতিটি স্পর্শকাতর কেন্দ্রে পুলিশের বিশেষ মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং ফোর্স, পিকেট পার্টি এবং নিয়মিত টহল জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিট পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও সক্রিয় করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে সব বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। কোনো ধরনের সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না। পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমও একই সুরে জানিয়েছেন, নির্বাচনকে সহিংসতামুক্ত রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার রোধ এবং অপরাধীদের দমনে বিশেষ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের।

পুলিশের তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য ঝুঁকিপূর্ণ আসনগুলোর মধ্যে রয়েছে: ঠাকুরগাঁও-২, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১, দিনাজপুর-২ ও ৫, নীলফামারী-১ ও ৪, রংপুর-১ ও ৪, কুড়িগ্রাম-১, গাইবান্ধা-৩, বগুড়া-৩, নওগাঁ-২ ও ৩, রাজশাহী-৪ ও ৫, নাটোর-১ এবং সিরাজগঞ্জ-৩।

তালিকায় আরও রয়েছে কিশোরগঞ্জ-১, টাঙ্গাইল-৩, পাবনা-৩, নারায়ণগঞ্জ-২ ও ৩, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ ও ৫, গোপালগঞ্জ-১ ও ২, ঝিনাইদহ-১, সাতক্ষীরা-৩, মুন্সীগঞ্জ-১, নোয়াখালী-১ ও ৩, শরীয়তপুর-১ ও ২, চাঁদপুর-১, ময়মনসিংহ-২ ও ৬, ঢাকা-১, ৯, ১৫ ও ১৬, চট্টগ্রাম-১, ২ ও ৬, নরসিংদী-৩, লক্ষ্মীপুর-২, ফরিদপুর-১ ও ৩, মাদারীপুর-১, মৌলভীবাজার-২, কুমিল্লা-৩, ফেনী-১, কক্সবাজার-৪ এবং খাগড়াছড়ি।

পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হবে। মূলত প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের আচরণের ওপর পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা নির্ভর করে, তাই তাদের গতিবিধিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিয়মিত সফর করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার ঠেকাতে এবং নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য জাপানের ২৬ লাখ ডলার অনুদান: ইউএনএইচসিআর-এর সঙ্গে চুক্তি সই

৫৩ আসনে সহিংসতার শঙ্কা: ভোটের নিরাপত্তায় পুলিশের কঠোর নজরদারি ও বিশেষ পরিকল্পনা

আপডেট সময় : ০৫:৩২:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৫৩টিকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। এসব আসনে নির্বাচনকালীন সংঘাত ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে বিশেষ নিরাপত্তা ছক তৈরি করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটের দিন হট্টগোল, হামলা ও যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় এসব এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

পুলিশের গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, একাধিক শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর উপস্থিতি, বিগত নির্বাচনগুলোতে সংঘাতের ইতিহাস এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অস্থিতিশীলতার ওপর ভিত্তি করে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব ও চরমপন্থি তৎপরতার মতো বিষয়গুলোকেও ঝুঁকির কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব আসনে ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং ভাসমান জনগোষ্ঠীর আধিক্য বেশি, সেখানে সহিংসতার আশঙ্কা তুলনামূলক বেশি বলে মনে করছে পুলিশ।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঝুঁকিপূর্ণ এসব আসনে আগে থেকেই গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ভোটের দিন সাধারণ পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হবে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি মাঠপর্যায়ে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন। প্রতিটি স্পর্শকাতর কেন্দ্রে পুলিশের বিশেষ মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং ফোর্স, পিকেট পার্টি এবং নিয়মিত টহল জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিট পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও সক্রিয় করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে সব বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। কোনো ধরনের সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না। পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমও একই সুরে জানিয়েছেন, নির্বাচনকে সহিংসতামুক্ত রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার রোধ এবং অপরাধীদের দমনে বিশেষ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের।

পুলিশের তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য ঝুঁকিপূর্ণ আসনগুলোর মধ্যে রয়েছে: ঠাকুরগাঁও-২, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১, দিনাজপুর-২ ও ৫, নীলফামারী-১ ও ৪, রংপুর-১ ও ৪, কুড়িগ্রাম-১, গাইবান্ধা-৩, বগুড়া-৩, নওগাঁ-২ ও ৩, রাজশাহী-৪ ও ৫, নাটোর-১ এবং সিরাজগঞ্জ-৩।

তালিকায় আরও রয়েছে কিশোরগঞ্জ-১, টাঙ্গাইল-৩, পাবনা-৩, নারায়ণগঞ্জ-২ ও ৩, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ ও ৫, গোপালগঞ্জ-১ ও ২, ঝিনাইদহ-১, সাতক্ষীরা-৩, মুন্সীগঞ্জ-১, নোয়াখালী-১ ও ৩, শরীয়তপুর-১ ও ২, চাঁদপুর-১, ময়মনসিংহ-২ ও ৬, ঢাকা-১, ৯, ১৫ ও ১৬, চট্টগ্রাম-১, ২ ও ৬, নরসিংদী-৩, লক্ষ্মীপুর-২, ফরিদপুর-১ ও ৩, মাদারীপুর-১, মৌলভীবাজার-২, কুমিল্লা-৩, ফেনী-১, কক্সবাজার-৪ এবং খাগড়াছড়ি।

পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হবে। মূলত প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের আচরণের ওপর পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা নির্ভর করে, তাই তাদের গতিবিধিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিয়মিত সফর করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার ঠেকাতে এবং নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে।