প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, ‘জুলাই সনদ’ কেবল কালো কালিতে লেখা একটি নথি নয়, বরং এটি প্রাণ উৎসর্গকারী বীরদের রক্তের অক্ষরে লিখিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের ত্যাগের বিনিময়েই এই সনদ রচিত হয়েছে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত গণভোট প্রচার বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদের যে কপি আপনাদের হাতে পৌঁছেছে, তা কালো কালিতে মুদ্রিত। কিন্তু বিশ্বাস করুন, এর প্রতিটি শব্দ লেখা হয়েছে তাজা রক্ত দিয়ে।” তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন যে, এই সনদটি ‘ইউনুস সরকারের’ কোনো নির্দিষ্ট এজেন্ডা নয়, বরং এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করবে। তিনি বলেন, “গত তিনটি নির্বাচনকে নির্বাচন বলে অভিহিত করা অপমানজনক। নিশীথরাতের নির্বাচন বা ডামি নির্বাচন সম্ভব হয়েছে বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামোর দুর্বলতার কারণেই।”
সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘জুলাই সনদে’ ‘বিসমিল্লাহ’ বাদ দেওয়ার বা মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করার কোনো প্রস্তাব নেই। এ ধরনের বক্তব্য সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর। তিনি উল্লেখ করেন যে, ৩৯ পৃষ্ঠার এই সনদে এমন কোনো বিষয় অন্তর্ভুক্ত নেই। রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংস্কৃতির উল্লেখ রয়েছে, যা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাপত্রের মূল আদর্শের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। তাই এই সনদকে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী বলা একটি মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছু নয়।
ধর্ম নিরপেক্ষতা (সেকুলারিজম) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি বহুজাতিগোষ্ঠী, বহুধর্মী, বহুভাষী ও বহুসংস্কৃতির দেশ। এই বাস্তবতা স্বীকার করেই ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতিকে রাষ্ট্রের মূল মূল্যবোধ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এতে কোনো ধর্মবিরোধিতা নেই। তিনি বলেন, “রক্ত দিয়ে লেখা এই জুলাই সনদের সঙ্গে, প্রাণের বিনিময়ে মানুষের রাষ্ট্র পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে আপনি আছেন কি না—এইটাই সিদ্ধান্তের জায়গা।”
সভায় শাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘জুলাই বিপ্লব’ ছিল অপরিহার্য। পরপর তিনটি নির্বাচন বাংলাদেশকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। গণভোটের মাধ্যমে ‘জুলাই সনদের’ গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত হলে ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের পথ বন্ধ হবে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমান, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. নিজাম উদ্দিন, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আবদুল লতিফ, লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মো. তাজ উদ্দীন, নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ইকবাল, শাবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. সাজেদুল করিম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ইসমাঈল হোসেন এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
রিপোর্টারের নাম 




















