ঢাকা ০৭:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

‘জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর রক্তের অক্ষরে লেখা’: শাবিপ্রবিতে অধ্যাপক আলী রীয়াজ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪২:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

জুলাই বিপ্লবের শহীদদের মহান আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত ‘জুলাই সনদ’ কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর এজেন্ডা নয়, বরং এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথচলার মূল দিকনির্দেশনা বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, এই সনদের প্রতিটি অক্ষর লেখা হয়েছে রাজপথের তাজা রক্ত দিয়ে, যা কেবল একটি দলিল নয় বরং জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত ‘গণভোট প্রচার বিষয়ক মতবিনিময় সভায়’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “২০২৪ সালের জুলাইয়ে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের রক্তের বিনিময়েই এই সনদ তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো এই সনদের কপি হয়তো কালো কালিতে ছাপা, কিন্তু এর প্রতিটি ছত্রে মিশে আছে শহীদদের রক্ত। এটি কোনো একক সরকারের কর্মসূচি নয়, বরং বাংলাদেশ ভবিষ্যতে কোন পথে এগোবে, তা এই সনদই নির্ধারণ করে দেবে।”

বিগত নির্বাচনগুলোর তীব্র সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, “২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনগুলোকে ‘নির্বাচন’ বলাও এক ধরনের অপমান। সাংবিধানিক কাঠামোর দুর্বলতাকে পুঁজি করে দেশে নিশীথ রাত ও ডামি নির্বাচনের সংস্কৃতি গড়ে তোলা হয়েছিল। এই কাঠামোগত ত্রুটি দূর করাই এখন সময়ের বড় দাবি।”

সংবিধান সংস্কার ও জুলাই সনদ নিয়ে ছড়ানো বিভিন্ন বিভ্রান্তির স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “৩৯ পৃষ্ঠার এই সনদের কোথাও ‘বিসমিল্লাহ’ বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়নি এবং মহান মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করার মতো কোনো বিষয়ও এখানে নেই। বরং সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের মতো মুক্তিযুদ্ধের মূল আদর্শগুলোকেই এখানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জুলাই সনদকে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী বলা সম্পূর্ণ মিথ্যাচার ও অপপ্রচার ছাড়া আর কিছুই নয়।”

দেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য প্রসঙ্গে আলী রীয়াজ বলেন, “বাংলাদেশ একটি বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশ। জুলাই সনদে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতিকে রাষ্ট্রের অন্যতম মূল ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে কোনো ধর্মের বিরোধিতা নেই। এই সনদের সঙ্গে একাত্ম হওয়া মানেই হলো রাষ্ট্র পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে যুক্ত হওয়া।”

অনুষ্ঠানে শাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী বলেন, বিগত তিনটি বিতর্কিত নির্বাচন দেশকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়েছিল, তাই জুলাই বিপ্লব ছিল অপরিহার্য। গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের পথ চিরতরে বন্ধ হবে।

মতবিনিময় সভায় ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমান, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. নিজাম উদ্দিন, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আবদুল লতিফসহ সিলেটের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও প্রশাসনিক উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরাকে তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা

‘জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর রক্তের অক্ষরে লেখা’: শাবিপ্রবিতে অধ্যাপক আলী রীয়াজ

আপডেট সময় : ১০:৪২:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জুলাই বিপ্লবের শহীদদের মহান আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত ‘জুলাই সনদ’ কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর এজেন্ডা নয়, বরং এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথচলার মূল দিকনির্দেশনা বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, এই সনদের প্রতিটি অক্ষর লেখা হয়েছে রাজপথের তাজা রক্ত দিয়ে, যা কেবল একটি দলিল নয় বরং জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত ‘গণভোট প্রচার বিষয়ক মতবিনিময় সভায়’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “২০২৪ সালের জুলাইয়ে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের রক্তের বিনিময়েই এই সনদ তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো এই সনদের কপি হয়তো কালো কালিতে ছাপা, কিন্তু এর প্রতিটি ছত্রে মিশে আছে শহীদদের রক্ত। এটি কোনো একক সরকারের কর্মসূচি নয়, বরং বাংলাদেশ ভবিষ্যতে কোন পথে এগোবে, তা এই সনদই নির্ধারণ করে দেবে।”

বিগত নির্বাচনগুলোর তীব্র সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, “২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনগুলোকে ‘নির্বাচন’ বলাও এক ধরনের অপমান। সাংবিধানিক কাঠামোর দুর্বলতাকে পুঁজি করে দেশে নিশীথ রাত ও ডামি নির্বাচনের সংস্কৃতি গড়ে তোলা হয়েছিল। এই কাঠামোগত ত্রুটি দূর করাই এখন সময়ের বড় দাবি।”

সংবিধান সংস্কার ও জুলাই সনদ নিয়ে ছড়ানো বিভিন্ন বিভ্রান্তির স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “৩৯ পৃষ্ঠার এই সনদের কোথাও ‘বিসমিল্লাহ’ বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়নি এবং মহান মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করার মতো কোনো বিষয়ও এখানে নেই। বরং সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের মতো মুক্তিযুদ্ধের মূল আদর্শগুলোকেই এখানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জুলাই সনদকে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী বলা সম্পূর্ণ মিথ্যাচার ও অপপ্রচার ছাড়া আর কিছুই নয়।”

দেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য প্রসঙ্গে আলী রীয়াজ বলেন, “বাংলাদেশ একটি বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশ। জুলাই সনদে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতিকে রাষ্ট্রের অন্যতম মূল ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে কোনো ধর্মের বিরোধিতা নেই। এই সনদের সঙ্গে একাত্ম হওয়া মানেই হলো রাষ্ট্র পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে যুক্ত হওয়া।”

অনুষ্ঠানে শাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী বলেন, বিগত তিনটি বিতর্কিত নির্বাচন দেশকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়েছিল, তাই জুলাই বিপ্লব ছিল অপরিহার্য। গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের পথ চিরতরে বন্ধ হবে।

মতবিনিময় সভায় ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমান, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. নিজাম উদ্দিন, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আবদুল লতিফসহ সিলেটের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও প্রশাসনিক উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।