ঢাকা ০৯:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে বাড়ছে অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি: ভোক্তা সচেতনতা ও ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিংয়ের ওপর জোর

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৮:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে, যার পেছনে অন্যতম কারণ অনিরাপদ ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি ক্রমবর্ধমান নির্ভরতা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও চর্বিযুক্ত খাবার এসব রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভোক্তাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং (FOPL) ব্যবস্থা চালুর ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি ‘জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস, ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক ওয়েবিনারে বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন।

গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই)-এর সহযোগিতায় গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এই ওয়েবিনারের আয়োজন করে। ‘অসংক্রামক রোগ মোকাবেলায় নিরাপদ খাদ্য এবং আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এই আয়োজনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাংবাদিক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নেন। ওয়েবিনারে জানানো হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৫,৭০,২৬৩ জন মানুষ অসংক্রামক রোগে মারা যায়। গ্লোবাল বারডেন অফ ডিজিজ ২০২১ অনুযায়ী, অতিরিক্ত সোডিয়াম, ট্রান্সফ্যাটযুক্ত খাবার এবং চিনিযুক্ত কোমল পানীয়ের মতো অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে বছরে প্রায় ২৭,৩৮৭ জনের মৃত্যু ঘটে। অথচ, অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বাজেটের মাত্র ৪.২ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়, যা একেবারেই অপ্রতুল।

ওয়েবিনারে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ইপিডেমিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, জনগণের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপসহ অন্যান্য অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমাতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে নির্ভরতা কমানো অত্যন্ত জরুরি। তাঁর সঙ্গে সুর মিলিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. নাজমা শাহীন বলেন, অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও ট্রান্সফ্যাটের মতো স্বাস্থ্যহানিকর খাদ্য উপাদানের পরিমাণ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং ব্যবস্থা গ্রহণ করা অপরিহার্য। এটি দেশে উচ্চ রক্তচাপসহ অন্যান্য অসংক্রামক রোগের প্রকোপ কমাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব জানান, প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে ভোক্তাদের সহজে সচেতন করতে সরকার ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে কাজ করছে এবং দ্রুত এটি বাস্তবায়নের আশা করছেন। জিএইচএআই-এর বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, উচ্চ রক্তচাপের মতো অসংক্রামক রোগ মোকাবেলায় শুধু সচেতনতাই যথেষ্ট নয়, এর পাশাপাশি টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়েরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই ওয়েবিনারটি সঞ্চালনা করেন প্রজ্ঞা’র প্রোগ্রাম অফিসার সামিহা বিনতে কামাল। ‘নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করি, সুস্থ সবল জীবন গড়ি’ – এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই আলোচনাচক্রে অসংক্রামক রোগ মোকাবিলায় নিরাপদ খাদ্যের গুরুত্ব ও করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অফিস সময়ে বাইরে রোগী দেখলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে বাড়ছে অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি: ভোক্তা সচেতনতা ও ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিংয়ের ওপর জোর

আপডেট সময় : ০৮:৫৮:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশে উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে, যার পেছনে অন্যতম কারণ অনিরাপদ ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি ক্রমবর্ধমান নির্ভরতা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও চর্বিযুক্ত খাবার এসব রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভোক্তাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং (FOPL) ব্যবস্থা চালুর ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি ‘জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস, ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক ওয়েবিনারে বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন।

গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই)-এর সহযোগিতায় গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এই ওয়েবিনারের আয়োজন করে। ‘অসংক্রামক রোগ মোকাবেলায় নিরাপদ খাদ্য এবং আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এই আয়োজনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাংবাদিক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নেন। ওয়েবিনারে জানানো হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৫,৭০,২৬৩ জন মানুষ অসংক্রামক রোগে মারা যায়। গ্লোবাল বারডেন অফ ডিজিজ ২০২১ অনুযায়ী, অতিরিক্ত সোডিয়াম, ট্রান্সফ্যাটযুক্ত খাবার এবং চিনিযুক্ত কোমল পানীয়ের মতো অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে বছরে প্রায় ২৭,৩৮৭ জনের মৃত্যু ঘটে। অথচ, অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বাজেটের মাত্র ৪.২ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়, যা একেবারেই অপ্রতুল।

ওয়েবিনারে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ইপিডেমিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, জনগণের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপসহ অন্যান্য অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমাতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে নির্ভরতা কমানো অত্যন্ত জরুরি। তাঁর সঙ্গে সুর মিলিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. নাজমা শাহীন বলেন, অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও ট্রান্সফ্যাটের মতো স্বাস্থ্যহানিকর খাদ্য উপাদানের পরিমাণ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং ব্যবস্থা গ্রহণ করা অপরিহার্য। এটি দেশে উচ্চ রক্তচাপসহ অন্যান্য অসংক্রামক রোগের প্রকোপ কমাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব জানান, প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে ভোক্তাদের সহজে সচেতন করতে সরকার ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে কাজ করছে এবং দ্রুত এটি বাস্তবায়নের আশা করছেন। জিএইচএআই-এর বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, উচ্চ রক্তচাপের মতো অসংক্রামক রোগ মোকাবেলায় শুধু সচেতনতাই যথেষ্ট নয়, এর পাশাপাশি টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়েরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই ওয়েবিনারটি সঞ্চালনা করেন প্রজ্ঞা’র প্রোগ্রাম অফিসার সামিহা বিনতে কামাল। ‘নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করি, সুস্থ সবল জীবন গড়ি’ – এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই আলোচনাচক্রে অসংক্রামক রোগ মোকাবিলায় নিরাপদ খাদ্যের গুরুত্ব ও করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়।