বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের কর্মজীবী নারীদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া ‘আপত্তিকর’ মন্তব্যের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাস। গত রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্ত চত্বরে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে শিক্ষার্থীরা এই মন্তব্যকে ‘নারীর মর্যাদাহানিকর’ ও ‘কুরুচিপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
সমাবেশে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জামায়াত আমিরের মন্তব্যকে ‘আপত্তিকর’ এবং ‘নারীর মর্যাদাহানিকর’ বলে উল্লেখ করেন। তাদের অভিযোগ, এই ধরনের মন্তব্য সমাজে নারীর অবস্থানকে হেয় প্রতিপন্ন করে এবং তাদের কর্মজীবনের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী হল সংসদের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক এবং হল শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ফারজানা আক্তার টুম্পা বলেন, একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতার পক্ষ থেকে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে এমন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য অত্যন্ত নিন্দনীয়। কর্মজীবী নারীদের পতিতাবৃত্তির সঙ্গে তুলনা করা কেবল নারীদের অপমানই নয়, এটি তাদের মানবিক মর্যাদাকেও মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করে।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক খাদিজাতুল কুবরা জামায়াত আমিরের মন্তব্যকে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যায়িত করে বলেন, কর্মজীবী নারীদের পতিতাবৃত্তির সঙ্গে তুলনা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের ডাক্তার, প্রকৌশলী, শিক্ষক থেকে শুরু করে লাখো পোশাকশ্রমিক নারী বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। এমন মন্তব্য নারীর প্রতি চরম অবমাননার শামিল, যেখানে প্রশ্ন তোলা হয় তারা কি দেহব্যবসা করতে ঘর থেকে বের হন?
খাদিজাতুল কুবরা আরও অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দল একদিকে নিজেদের রাজনৈতিক প্রচারণায় নারীদের ব্যবহার করে, অন্যদিকে তাদের অবমূল্যায়ন করে। তিনি এই ধরনের দ্বিচারিতা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের নারী সমাজ আগামী ১২ তারিখে ব্যালটের মাধ্যমে এর সমুচিত জবাব দেবে।
প্রতিবাদ সমাবেশে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের একাধিক নারী সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তারা জামায়াত আমিরের মন্তব্য প্রত্যাহার ও ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।
রিপোর্টারের নাম 

























