রাজধানী ঢাকার ওয়ারী, যাত্রাবাড়ী ও হাজারীবাগ এলাকা থেকে পৃথক তিনটি ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীসহ তিনজনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ও স্বজনদের ধারণা, এই তিনটি ঘটনাই আত্মহত্যা। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহতরা হলেন যাত্রাবাড়ীর স্কুলছাত্র মো. রনি (১০), হাজারীবাগের তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থী দীন ইসলাম ইমন (২১) এবং ওয়ারীর চা-দোকানের কর্মচারী মানিক (২৬)।
যাত্রাবাড়ীর ঘটনা:
যাত্রাবাড়ীর দোলাইরপাড় এলাকায় নিজেদের ভাড়া বাসায় বাথরুমের ভেতর গামছা পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয় স্কুলছাত্র মো. রনিকে। রনি দোলাইরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা নুর আলম জানান, নোয়াখালী জেলার চাটখিল থানার শিবপুর এলাকায় তাদের গ্রামের বাড়ি। যাত্রাবাড়ীর পুবাইল এলাকায় তারা ভাড়া থাকতেন।
নুর আলম আরও বলেন, পড়াশোনায় ফাঁকি দেওয়ায় শনিবার রাতে রনিকে তার মা বকাঝকা করেন। রাত ১০টার দিকে রনি বাথরুমে ঢোকে। দীর্ঘক্ষণ পরও বের না হওয়ায় দরজা ভেঙে দেখা যায়, সে গলায় গামছা পেঁচিয়ে ফাঁস লাগিয়ে ঝুলে আছে। দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ১২টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক রনির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।
হাজারীবাগের ঘটনা:
তেজগাঁও কলেজের সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী দীন ইসলাম ইমনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয় হাজারীবাগের জিগাতলা নতুন রাস্তা এলাকার একটি মেস থেকে। ইমনের বন্ধু মেহেদী হাসান তোহা জানান, ইমন জিগাতলা নতুন রাস্তা এলাকার পাঁচতলা ভবনের নিচতলায় নাঈম নামের এক যুবকের সঙ্গে মেস ভাড়া করে থাকতেন। তোহা বলেন, “ইমন কী কারণে আত্মহত্যা করেছেন, তা আমার জানা নেই। তবে একটি মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল ইমনের। প্রেমঘটিত কারণে এই ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে হচ্ছে।”
ইমনের মামা মো. মঞ্জু জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি বরগুনার সদর উপজেলার বটতলা এলাকায়। ইমনের বাবা আব্দুল হাকিম গ্রামে থাকেন। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে ইমন ছিল দ্বিতীয়। তিন দিন আগে ইমন ছুটি কাটিয়ে বাড়ি থেকে ঢাকায় এসেছিলেন। গত শনিবার রাতে পুলিশের মাধ্যমে ইমনের মৃত্যুর খবর পান তারা। পরিবারে কোনো সমস্যা ছিল না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
হাজারীবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু সাঈদ জানান, গত শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ৯৯৯-এ কলের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ জিগাতলার ওই মেসে যায়। ভেতর থেকে দরজা বন্ধ থাকায় সেটি ভেঙে রুমের ভেতরে ফ্যানের সঙ্গে বিছানার চাদর দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ইমনের ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায়। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এসআই আরও জানান, মেসের যে রুমে ইমন ও নাঈম থাকতেন, রাতে নাঈম অফিস থেকে ফিরে রুমের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পান। ডাকাডাকির পর ইমন দরজা না খোলায় নাঈম ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে পুলিশকে খবর দেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ইমন হতাশাগ্রস্ত ছিলেন।
ওয়ারীর ঘটনা:
ওয়ারীর বিসিসি রোডে একটি চা-দোকানের কর্মচারী মানিকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওয়ারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আলমগীর মোড়ল জানান, খবর পেয়ে গত শনিবার সন্ধ্যার দিকে ওয়ারীর ওই বাসায় যায় পুলিশ। এ সময় ফ্যানের সঙ্গে গলায় মাফলার প্যাঁচানো ঝুলন্ত অবস্থায় মানিককে দেখতে পান তারা। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, পারিবারিক মনোমালিন্যের কারণে মানিক আত্মহত্যা করেছেন। তার মরদেহও ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এসআই মো. আলমগীর মোড়ল আরও জানান, মৃত মানিকের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর সদর উপজেলার বাকশিলা এলাকায়। তার বাবার নাম মৃত ইউনুস সরকার। মানিক ওয়ারীর বিসিসি রোডের একটি বাড়ির তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন এবং সেখানকার একটি চায়ের দোকানে কাজ করতেন।
রিপোর্টারের নাম 

























