ঢাকা ০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

বৃষ্টি বিঘ্নিত শেষ টি-টোয়েন্টিতে প্রোটিয়াদের হারালো ওয়েস্ট ইন্ডিজ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৩:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে বৃষ্টি বিঘ্নিত শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ডাকওয়ার্থ-লুইস (ডিএলএস) পদ্ধতিতে ৬ রানে পরাজিত করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তিন ম্যাচের সিরিজে প্রথম দুই ম্যাচ জিতে দক্ষিণ আফ্রিকা আগেই সিরিজ নিজেদের করে নেওয়ায় এই জয়টি ক্যারিবীয়দের জন্য কেবলই সান্ত্বনা হয়ে রইল। বৃষ্টির কারণে ১০ ওভারে নেমে আসা এই ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে উইন্ডিজ ৩ উইকেটে ১১৪ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ১২৫ রানের পরিবর্তিত লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ৬ উইকেটে ১১৮ রানের বেশি করতে পারেনি।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ, প্রথম ওভারেই জনসন চার্লসকে হারায় তারা। এরপর বজ্রপাতের কারণে বেশ কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ থাকে। খেলা পুনরায় শুরু হলে শাই হোপ ও শিমরন হেটমায়ারের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়ায় ক্যারিবীয়রা। এই দুই ব্যাটার দ্বিতীয় উইকেটে মাত্র ৪১ বলে ৮৬ রানের অসাধারণ এক জুটি গড়েন। আগ্রাসী ব্যাটিং করে শাই হোপ ২৫ বলে তিনটি চার ও চারটি ছক্কার সাহায্যে ৪৮ রান করেন। অন্যদিকে, হেটমায়ার ২২ বলে একটি চার ও ছয়টি ছক্কায় ৪৮ রানে অপরাজিত থাকেন। শেষদিকে অধিনায়ক রভম্যান পাওয়েল ৭ বলে দুটি ছক্কায় ১৩ রানের কার্যকরী ইনিংস খেললে নির্ধারিত ১০ ওভারে উইন্ডিজের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ১১৪ রান। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের মধ্যে এনগিডি ও মাফাকা একটি করে উইকেট লাভ করেন।

১১৪ রান তাড়া করতে নেমে ডিএলএস পদ্ধতিতে দক্ষিণ আফ্রিকার লক্ষ্য নির্ধারিত হয় ১২৫ রান। এই বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রোটিয়ারা শুরুতেই এইডেন মার্করামকে হারায়। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান কুইন্টন ডি কক ১৪ বলে ২৮ রানের ঝড়ো ইনিংস খেললেও তা যথেষ্ট ছিল না। ডেওয়াল্ড ব্রেভিস ও রায়ান রিকেলটন পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি, যথাক্রমে ১০ বলে ১৭ ও ৭ বলে ১৫ রান করে আউট হন। জর্জ লিন্ডা ৯ বলে একটি চার ও একটি ছক্কায় ১৭ রান যোগ করেন। এরপর জেসন স্মিথ ২৬ রানের ইনিংস খেলে দলের আশা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ ওভারে জয়ের জন্য ১৬ রানের সমীকরণ মেলাতে ব্যর্থ হলে দক্ষিণ আফ্রিকা ৬ উইকেটে ১১৮ রানে থেমে যায়, ফলে ৬ রানের পরাজয় বরণ করে স্বাগতিকরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে বল হাতে গুডাকেশ মোতি ১৭ রানের বিনিময়ে ৩টি উইকেট শিকার করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, শামার জোসেফ নেন ১টি উইকেট।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে বল হাতে গুডাকেশ মোতি ১৭ রানের বিনিময়ে ৩টি উইকেট শিকার করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার এই পারফরম্যান্সের জন্য তিনি ম্যাচসেরার পুরস্কার লাভ করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার কুইন্টন ডি কক সিরিজজুড়ে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ ম্যান অব দ্য সিরিজের খেতাব অর্জন করেন। এই জয়ের মধ্য দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হারলেও শেষ ম্যাচ থেকে কিছু আত্মবিশ্বাস নিয়ে ফিরতে পারল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে হামলায় নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেবে না স্পেন

বৃষ্টি বিঘ্নিত শেষ টি-টোয়েন্টিতে প্রোটিয়াদের হারালো ওয়েস্ট ইন্ডিজ

আপডেট সময় : ০৭:৩৩:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে বৃষ্টি বিঘ্নিত শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ডাকওয়ার্থ-লুইস (ডিএলএস) পদ্ধতিতে ৬ রানে পরাজিত করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তিন ম্যাচের সিরিজে প্রথম দুই ম্যাচ জিতে দক্ষিণ আফ্রিকা আগেই সিরিজ নিজেদের করে নেওয়ায় এই জয়টি ক্যারিবীয়দের জন্য কেবলই সান্ত্বনা হয়ে রইল। বৃষ্টির কারণে ১০ ওভারে নেমে আসা এই ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে উইন্ডিজ ৩ উইকেটে ১১৪ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ১২৫ রানের পরিবর্তিত লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ৬ উইকেটে ১১৮ রানের বেশি করতে পারেনি।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ, প্রথম ওভারেই জনসন চার্লসকে হারায় তারা। এরপর বজ্রপাতের কারণে বেশ কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ থাকে। খেলা পুনরায় শুরু হলে শাই হোপ ও শিমরন হেটমায়ারের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়ায় ক্যারিবীয়রা। এই দুই ব্যাটার দ্বিতীয় উইকেটে মাত্র ৪১ বলে ৮৬ রানের অসাধারণ এক জুটি গড়েন। আগ্রাসী ব্যাটিং করে শাই হোপ ২৫ বলে তিনটি চার ও চারটি ছক্কার সাহায্যে ৪৮ রান করেন। অন্যদিকে, হেটমায়ার ২২ বলে একটি চার ও ছয়টি ছক্কায় ৪৮ রানে অপরাজিত থাকেন। শেষদিকে অধিনায়ক রভম্যান পাওয়েল ৭ বলে দুটি ছক্কায় ১৩ রানের কার্যকরী ইনিংস খেললে নির্ধারিত ১০ ওভারে উইন্ডিজের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ১১৪ রান। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের মধ্যে এনগিডি ও মাফাকা একটি করে উইকেট লাভ করেন।

১১৪ রান তাড়া করতে নেমে ডিএলএস পদ্ধতিতে দক্ষিণ আফ্রিকার লক্ষ্য নির্ধারিত হয় ১২৫ রান। এই বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রোটিয়ারা শুরুতেই এইডেন মার্করামকে হারায়। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান কুইন্টন ডি কক ১৪ বলে ২৮ রানের ঝড়ো ইনিংস খেললেও তা যথেষ্ট ছিল না। ডেওয়াল্ড ব্রেভিস ও রায়ান রিকেলটন পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি, যথাক্রমে ১০ বলে ১৭ ও ৭ বলে ১৫ রান করে আউট হন। জর্জ লিন্ডা ৯ বলে একটি চার ও একটি ছক্কায় ১৭ রান যোগ করেন। এরপর জেসন স্মিথ ২৬ রানের ইনিংস খেলে দলের আশা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ ওভারে জয়ের জন্য ১৬ রানের সমীকরণ মেলাতে ব্যর্থ হলে দক্ষিণ আফ্রিকা ৬ উইকেটে ১১৮ রানে থেমে যায়, ফলে ৬ রানের পরাজয় বরণ করে স্বাগতিকরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে বল হাতে গুডাকেশ মোতি ১৭ রানের বিনিময়ে ৩টি উইকেট শিকার করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, শামার জোসেফ নেন ১টি উইকেট।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে বল হাতে গুডাকেশ মোতি ১৭ রানের বিনিময়ে ৩টি উইকেট শিকার করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার এই পারফরম্যান্সের জন্য তিনি ম্যাচসেরার পুরস্কার লাভ করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার কুইন্টন ডি কক সিরিজজুড়ে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ ম্যান অব দ্য সিরিজের খেতাব অর্জন করেন। এই জয়ের মধ্য দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হারলেও শেষ ম্যাচ থেকে কিছু আত্মবিশ্বাস নিয়ে ফিরতে পারল।