বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার ক্রাইম ইউনিট। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ডিবির সাইবার ক্রাইম ইউনিটের যুগ্ম কমিশনার সৈয়দ হারুন অর রশীদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
যুগ্ম কমিশনার জানান, জামায়াত আমিরের পক্ষ থেকে অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার একটি অভিযোগ তারা পেয়েছেন। বিষয়টি আসলেও হ্যাকিং কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। যদি অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হয়ে থাকে, তবে এর পেছনে কারা জড়িত এবং কীভাবে এটি সম্পন্ন হয়েছে, তা শনাক্ত করতে কাজ করছে ডিবি।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, ডা. শফিকুর রহমানের ব্যক্তিগত এক্স হ্যান্ডেল থেকে নারীদের নিয়ে একটি অবমাননাকর ও বিতর্কিত পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রেক্ষিতে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ও ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম জানান, শনিবার বিকেল ৪টার দিকে হঠাৎ করেই ডা. শফিকুর রহমানের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করা হয়। এর কিছুক্ষণ পর, অর্থাৎ বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ওই আইডি থেকে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও কুরুচিপূর্ণ পোস্ট দেওয়া হয়।
সিরাজুল ইসলাম আরও জানান, বিষয়টি নজরে আসার পরপরই দলের সাইবার বিশেষজ্ঞ দল অ্যাকাউন্টটি উদ্ধারে কাজ শুরু করে এবং বিকেল ৫টার দিকে তা পুনরায় নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হয়। দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিতর্কিত পোস্টটি সরিয়ে ফেলা হলেও ততক্ষণে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তা ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানো হয়। এই ঘটনার প্রতিকার চেয়ে রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে, এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলটির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন এক বিবৃতিতে বলেন, জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে নারীদের নিয়ে করা পোস্টটি যদি সত্য হয়, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে যদি অ্যাকাউন্টটি সত্যিই হ্যাক হয়ে থাকে, তবে কেন তাৎক্ষণিকভাবে জনগণকে অবহিত না করে ১২ ঘণ্টা পর সাধারণ ডায়েরি করা হলো, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
পুরো বিষয়টি এখন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তাধীন রয়েছে। হ্যাকিংয়ের প্রকৃত কারণ ও নেপথ্যের কুশীলবদের শনাক্ত করতে কাজ করছে সাইবার বিশেষজ্ঞরা।
রিপোর্টারের নাম 























