ঢাকা ১১:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

ইসির ওয়েবসাইট থেকে তথ্য ফাঁসের অভিযোগ: সঠিক ব্যাখ্যা ও বর্তমান পরিস্থিতি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:০০:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের পরিচয়পত্র প্রদানের জন্য তৈরি করা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) একটি বিশেষ ওয়েবসাইট থেকে তথ্য ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। তবে নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, কারিগরি সংস্কারের সময় সাইটটি কিছু সময়ের জন্য উন্মুক্ত হয়ে পড়লেও কোনো তথ্য ‘ফাঁস’ বা ‘হ্যাক’ হওয়ার ঘটনা ঘটেনি।

ঘটনার প্রেক্ষাপট: সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন প্রথমবারের মতো ডিজিটাল পদ্ধতিতে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের কার্ড প্রদানের লক্ষ্যে pr.ecs.gov.bd নামে একটি ওয়েবসাইট চালু করে। গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) অভিযোগ ওঠে যে, এই সাইটটি থেকে প্রায় ১৪ হাজার আবেদনকারী সাংবাদিকের এনআইডি নম্বর, ফোন নম্বর এবং ব্যক্তিগত ছবিসহ বিভিন্ন তথ্য জনসমক্ষে চলে এসেছে। এমনকি ইউআরএলে সামান্য পরিবর্তন করে যে কেউ অন্যের ‘অ্যাডমিন প্যানেল’ বা ড্যাশবোর্ড দেখতে পাচ্ছিলেন বলে দাবি করেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।

নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা: এ বিষয়ে ইসির জনসংযোগ পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিক জানান, সাংবাদিকদের আপত্তির মুখে গত বৃহস্পতিবার আবেদন প্রক্রিয়াটি বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। শনিবার যখন পর্যবেক্ষকদের আবেদনের পথটিও বন্ধ করা হচ্ছিল, তখন কারিগরি কারণে সার্ভারটি সাময়িকভাবে ওপেন ছিল। ওই কয়েক মিনিটে যারা ড্যাশবোর্ডে লগইন করেছেন, তারা অ্যাডমিন প্যানেল দেখতে পেয়েছেন।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন: “তথ্য কেউ ফাঁস করেনি। আমাদের সাইটে কাজ করার সময় এটি সাময়িকভাবে ওপেন ছিল। কোনো তথ্য ডাউনলোডের অপশন ছিল না এবং হ্যাক করে কোনো তথ্য নিয়ে অপকর্ম করার কোনো অভিযোগও আসেনি।”

ওয়েবসাইটটি এআই (AI) দিয়ে তৈরি করা হয়েছে—এমন অভিযোগও নাকচ করে দেন তিনি। তিনি জানান, এটি ইসির নিজস্ব প্রোগ্রামাররা তৈরি করেছেন।

বর্তমান পরিস্থিতি ও পরবর্তী পদক্ষেপ: ডিজিটাল পদ্ধতিতে তথ্য সরবরাহ ও নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে ঘোর আপত্তি আসার পর ইসি ওই অনলাইন প্রক্রিয়া থেকে সরে এসেছে। ইসি জানিয়েছে:

  • ম্যানুয়াল আবেদন: এখন থেকে অনলাইন আবেদনের পরিবর্তে আগের মতোই সরাসরি বা ‘ম্যানুয়াল’ পদ্ধতিতে আবেদন গ্রহণ করা হবে।
  • যাচাই-বাছাই: সরাসরি জমা দেওয়া তথ্য যাচাইয়ের পর সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের কার্ড দেওয়া হবে।
  • কার্ড বিতরণ: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন ও গণভোটের জন্য চলতি সপ্তাহেই পরিচয়পত্র (পাস) ইস্যু করা শুরু হবে।

উল্লেখ্য, এবার প্রায় সাড়ে ৫৫ হাজার দেশি পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ইসি এখন আরও সতর্ক অবস্থানে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

অস্থির তেলের বাজার, দাম বেড়ে এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

ইসির ওয়েবসাইট থেকে তথ্য ফাঁসের অভিযোগ: সঠিক ব্যাখ্যা ও বর্তমান পরিস্থিতি

আপডেট সময় : ০৩:০০:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের পরিচয়পত্র প্রদানের জন্য তৈরি করা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) একটি বিশেষ ওয়েবসাইট থেকে তথ্য ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। তবে নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, কারিগরি সংস্কারের সময় সাইটটি কিছু সময়ের জন্য উন্মুক্ত হয়ে পড়লেও কোনো তথ্য ‘ফাঁস’ বা ‘হ্যাক’ হওয়ার ঘটনা ঘটেনি।

ঘটনার প্রেক্ষাপট: সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন প্রথমবারের মতো ডিজিটাল পদ্ধতিতে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের কার্ড প্রদানের লক্ষ্যে pr.ecs.gov.bd নামে একটি ওয়েবসাইট চালু করে। গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) অভিযোগ ওঠে যে, এই সাইটটি থেকে প্রায় ১৪ হাজার আবেদনকারী সাংবাদিকের এনআইডি নম্বর, ফোন নম্বর এবং ব্যক্তিগত ছবিসহ বিভিন্ন তথ্য জনসমক্ষে চলে এসেছে। এমনকি ইউআরএলে সামান্য পরিবর্তন করে যে কেউ অন্যের ‘অ্যাডমিন প্যানেল’ বা ড্যাশবোর্ড দেখতে পাচ্ছিলেন বলে দাবি করেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।

নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা: এ বিষয়ে ইসির জনসংযোগ পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিক জানান, সাংবাদিকদের আপত্তির মুখে গত বৃহস্পতিবার আবেদন প্রক্রিয়াটি বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। শনিবার যখন পর্যবেক্ষকদের আবেদনের পথটিও বন্ধ করা হচ্ছিল, তখন কারিগরি কারণে সার্ভারটি সাময়িকভাবে ওপেন ছিল। ওই কয়েক মিনিটে যারা ড্যাশবোর্ডে লগইন করেছেন, তারা অ্যাডমিন প্যানেল দেখতে পেয়েছেন।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন: “তথ্য কেউ ফাঁস করেনি। আমাদের সাইটে কাজ করার সময় এটি সাময়িকভাবে ওপেন ছিল। কোনো তথ্য ডাউনলোডের অপশন ছিল না এবং হ্যাক করে কোনো তথ্য নিয়ে অপকর্ম করার কোনো অভিযোগও আসেনি।”

ওয়েবসাইটটি এআই (AI) দিয়ে তৈরি করা হয়েছে—এমন অভিযোগও নাকচ করে দেন তিনি। তিনি জানান, এটি ইসির নিজস্ব প্রোগ্রামাররা তৈরি করেছেন।

বর্তমান পরিস্থিতি ও পরবর্তী পদক্ষেপ: ডিজিটাল পদ্ধতিতে তথ্য সরবরাহ ও নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে ঘোর আপত্তি আসার পর ইসি ওই অনলাইন প্রক্রিয়া থেকে সরে এসেছে। ইসি জানিয়েছে:

  • ম্যানুয়াল আবেদন: এখন থেকে অনলাইন আবেদনের পরিবর্তে আগের মতোই সরাসরি বা ‘ম্যানুয়াল’ পদ্ধতিতে আবেদন গ্রহণ করা হবে।
  • যাচাই-বাছাই: সরাসরি জমা দেওয়া তথ্য যাচাইয়ের পর সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের কার্ড দেওয়া হবে।
  • কার্ড বিতরণ: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন ও গণভোটের জন্য চলতি সপ্তাহেই পরিচয়পত্র (পাস) ইস্যু করা শুরু হবে।

উল্লেখ্য, এবার প্রায় সাড়ে ৫৫ হাজার দেশি পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ইসি এখন আরও সতর্ক অবস্থানে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।