ঢাকা ১১:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

বেসিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা সম্মেলন: ২০২৫-এর সাফল্য ও ২০২৬-এর লক্ষ্যের রূপরেখা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:১৯:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনের মুক্তি মিলনায়তনে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে শতভাগ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বেসিক ব্যাংক পিএলসি-এর ব্যবস্থাপনা সম্মেলন। ২০২৫ সালে অর্জিত সাফল্যের পর্যালোচনা এবং ২০২৬ সালের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ছিল এই সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হেলাল আহমেদ চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে সম্মেলনের শুভ উদ্বোধন করেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. কামরুজ্জামান খান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম সচিব শেখ ফরিদ, সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল আহাদ, সরকারের অবসরপ্রাপ্ত গ্রেড-১ কর্মকর্তা ড. আবু সালেহ্ মোস্তফা কামাল, অবসরপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ ব্যাংকার এস এম ইকবাল হোছাইন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও বেসিক ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের পর্যবেক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম। এছাড়াও, ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালকদ্বয়, মহাব্যবস্থাপকবৃন্দ, শাখা ও উপশাখা ব্যবস্থাপকগণ এবং প্রধান কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে চেয়ারম্যান হেলাল আহমেদ চৌধুরী বলেন, “২০২৪ সালের তুলনায় আমরা ২০২৫ সালে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছি, যা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। তবে, আত্মতুষ্টির কোনো অবকাশ নেই। আমাদের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে আরো পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।” তিনি ব্যাংকের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং এর যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি, নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সকল নির্দেশনা কঠোরভাবে পরিপালন এবং কর্মক্ষেত্রে নৈতিকতার সর্বোচ্চ মান বজায় রাখার ওপর তিনি জোর দেন। গ্রাহকদের উন্নত ও সহজতর সেবা প্রদান এবং লোকসানি শাখাগুলোকে লাভজনক শাখায় রূপান্তরের মাধ্যমে ব্যাংকের আয় বৃদ্ধির আহ্বান জানান তিনি। এই প্রেক্ষাপটে, তিনি নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বিশেষ অতিথি শেখ ফরিদ ব্যাংকিং খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একটি তুলনামূলক আলোচনা উপস্থাপন করেন এবং বেসিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আদায়ে আরো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “নতুন কোনো ঋণ যাতে খেলাপি না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। স্বল্প সুদে আমানত সংগ্রহ বাড়াতে হবে এবং কমিশন আয়সহ অ-সুদখাত আয় বৃদ্ধির ওপর জোর দিতে হবে।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম দেশের বিভিন্ন ব্যাংকের প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর উদাহরণ তুলে ধরে বেসিক ব্যাংকের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “ভালো গ্রাহক নির্বাচন, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং খেলাপি ঋণ আদায় – এই তিনটি বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।”

মো. আব্দুল আহাদ ব্যাংকের আয় বৃদ্ধি ও ব্যয় হ্রাসের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, “ব্যাংকের সর্বস্তরে সুশাসন জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি।” তিনি খেলাপি ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করার পরামর্শ দেন। ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামাল সর্বাবস্থায় নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অন্যদিকে, এস. এম. ইকবাল হোসাইন রেমিট্যান্স আহরণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. কামরুজ্জামান খান সকল শাখা ও উপশাখা প্রধানকে স্বাগত জানান। তিনি ২০২৬ সালের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার সকল বিধিবিধান কঠোরভাবে অনুসরণের জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। সম্মেলনে ব্যাংকের বিভিন্ন কৌশলগত বিষয় নিয়েও শাখা ব্যবস্থাপকদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।

উল্লেখ্য, বেসিক ব্যাংক বর্তমানে ক্রমান্বয়ে উন্নতির পথে অগ্রসর হচ্ছে এবং স্থানীয় ও বৈদেশিক মুদ্রা উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাংকের তারল্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল ও ভালো রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অস্থির তেলের বাজার, দাম বেড়ে এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

বেসিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা সম্মেলন: ২০২৫-এর সাফল্য ও ২০২৬-এর লক্ষ্যের রূপরেখা

আপডেট সময় : ০২:১৯:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনের মুক্তি মিলনায়তনে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে শতভাগ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বেসিক ব্যাংক পিএলসি-এর ব্যবস্থাপনা সম্মেলন। ২০২৫ সালে অর্জিত সাফল্যের পর্যালোচনা এবং ২০২৬ সালের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ছিল এই সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হেলাল আহমেদ চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে সম্মেলনের শুভ উদ্বোধন করেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. কামরুজ্জামান খান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম সচিব শেখ ফরিদ, সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল আহাদ, সরকারের অবসরপ্রাপ্ত গ্রেড-১ কর্মকর্তা ড. আবু সালেহ্ মোস্তফা কামাল, অবসরপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ ব্যাংকার এস এম ইকবাল হোছাইন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও বেসিক ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের পর্যবেক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম। এছাড়াও, ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালকদ্বয়, মহাব্যবস্থাপকবৃন্দ, শাখা ও উপশাখা ব্যবস্থাপকগণ এবং প্রধান কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে চেয়ারম্যান হেলাল আহমেদ চৌধুরী বলেন, “২০২৪ সালের তুলনায় আমরা ২০২৫ সালে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছি, যা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। তবে, আত্মতুষ্টির কোনো অবকাশ নেই। আমাদের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে আরো পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।” তিনি ব্যাংকের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং এর যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি, নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সকল নির্দেশনা কঠোরভাবে পরিপালন এবং কর্মক্ষেত্রে নৈতিকতার সর্বোচ্চ মান বজায় রাখার ওপর তিনি জোর দেন। গ্রাহকদের উন্নত ও সহজতর সেবা প্রদান এবং লোকসানি শাখাগুলোকে লাভজনক শাখায় রূপান্তরের মাধ্যমে ব্যাংকের আয় বৃদ্ধির আহ্বান জানান তিনি। এই প্রেক্ষাপটে, তিনি নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বিশেষ অতিথি শেখ ফরিদ ব্যাংকিং খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একটি তুলনামূলক আলোচনা উপস্থাপন করেন এবং বেসিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আদায়ে আরো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “নতুন কোনো ঋণ যাতে খেলাপি না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। স্বল্প সুদে আমানত সংগ্রহ বাড়াতে হবে এবং কমিশন আয়সহ অ-সুদখাত আয় বৃদ্ধির ওপর জোর দিতে হবে।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম দেশের বিভিন্ন ব্যাংকের প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর উদাহরণ তুলে ধরে বেসিক ব্যাংকের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “ভালো গ্রাহক নির্বাচন, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং খেলাপি ঋণ আদায় – এই তিনটি বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।”

মো. আব্দুল আহাদ ব্যাংকের আয় বৃদ্ধি ও ব্যয় হ্রাসের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, “ব্যাংকের সর্বস্তরে সুশাসন জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি।” তিনি খেলাপি ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করার পরামর্শ দেন। ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামাল সর্বাবস্থায় নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অন্যদিকে, এস. এম. ইকবাল হোসাইন রেমিট্যান্স আহরণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. কামরুজ্জামান খান সকল শাখা ও উপশাখা প্রধানকে স্বাগত জানান। তিনি ২০২৬ সালের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার সকল বিধিবিধান কঠোরভাবে অনুসরণের জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। সম্মেলনে ব্যাংকের বিভিন্ন কৌশলগত বিষয় নিয়েও শাখা ব্যবস্থাপকদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।

উল্লেখ্য, বেসিক ব্যাংক বর্তমানে ক্রমান্বয়ে উন্নতির পথে অগ্রসর হচ্ছে এবং স্থানীয় ও বৈদেশিক মুদ্রা উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাংকের তারল্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল ও ভালো রয়েছে।