ঢাকা ০১:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬

সরকারি কর্মকর্তাদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারে বাধা কাটছে: সংশোধিত হচ্ছে গণভোট অধ্যাদেশ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০৮:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ সূচক মতের পক্ষে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রচার চালানোর আইনি পথ প্রশস্ত করছে অন্তর্বর্তী সরকার। বিদ্যমান আইনি জটিলতা নিরসনে ‘গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫’ সংশোধনের নীতিগত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে নির্বাচনি বিধিতেও পরিবর্তন আনা হতে পারে। অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, আজ বা আগামীকালকের মধ্যেই এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে পাঠানো একটি চিঠিতে বলা হয়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গণভোট বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে পারলেও ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’—কোনো পক্ষের হয়েই সরাসরি প্রচার চালাতে পারবেন না। কমিশনের এই নির্দেশনার পর সরকারের উচ্চপর্যায়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। বিশেষ করে, যখন তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জোরালো প্রচারের প্রস্তুতি চলছে, তখন রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো এই চিঠি সরকারকে বিস্মিত করেছে। চিঠিতে নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল।

সূত্রমতে, এই নির্দেশনার ফলে মাঠপর্যায়ে প্রচার কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে গণভোটের সাফল্য নিশ্চিতে কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ জরুরি। বিশেষ করে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে সরকার অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। তারেক রহমান দেশবাসীকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার যে আহ্বান জানিয়েছেন, তা জনমনে বড় প্রভাব ফেলবে বলে সরকার বিশ্বাস করে।

নির্বাচন কমিশনের ওই চিঠির পর প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও গণভোট প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি মনে করেন, এই নির্দেশনার ফলে তার নিজের পক্ষেও প্রচার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত সমাধান না হলে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য গত শনিবার অধ্যাপক আলী রীয়াজ প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে আরও কয়েকজন উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে গণভোট অধ্যাদেশের ২১ ধারা সংশোধনসহ বিভিন্ন আইনি দিক নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক ডেকে প্রয়োজনীয় আইনি সংশোধনী আনা হবে, যাতে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রচারে আর কোনো বাধা না থাকে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই আইনি সংস্কারের মাধ্যমে গণভোটের প্রচার কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দুই ইস্যুতে নিশ্চয়তা চায় যুক্তরাষ্ট্র

সরকারি কর্মকর্তাদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারে বাধা কাটছে: সংশোধিত হচ্ছে গণভোট অধ্যাদেশ

আপডেট সময় : ১০:০৮:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ সূচক মতের পক্ষে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রচার চালানোর আইনি পথ প্রশস্ত করছে অন্তর্বর্তী সরকার। বিদ্যমান আইনি জটিলতা নিরসনে ‘গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫’ সংশোধনের নীতিগত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে নির্বাচনি বিধিতেও পরিবর্তন আনা হতে পারে। অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, আজ বা আগামীকালকের মধ্যেই এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে পাঠানো একটি চিঠিতে বলা হয়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গণভোট বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে পারলেও ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’—কোনো পক্ষের হয়েই সরাসরি প্রচার চালাতে পারবেন না। কমিশনের এই নির্দেশনার পর সরকারের উচ্চপর্যায়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। বিশেষ করে, যখন তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জোরালো প্রচারের প্রস্তুতি চলছে, তখন রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো এই চিঠি সরকারকে বিস্মিত করেছে। চিঠিতে নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল।

সূত্রমতে, এই নির্দেশনার ফলে মাঠপর্যায়ে প্রচার কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে গণভোটের সাফল্য নিশ্চিতে কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ জরুরি। বিশেষ করে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে সরকার অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। তারেক রহমান দেশবাসীকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার যে আহ্বান জানিয়েছেন, তা জনমনে বড় প্রভাব ফেলবে বলে সরকার বিশ্বাস করে।

নির্বাচন কমিশনের ওই চিঠির পর প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও গণভোট প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি মনে করেন, এই নির্দেশনার ফলে তার নিজের পক্ষেও প্রচার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত সমাধান না হলে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য গত শনিবার অধ্যাপক আলী রীয়াজ প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে আরও কয়েকজন উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে গণভোট অধ্যাদেশের ২১ ধারা সংশোধনসহ বিভিন্ন আইনি দিক নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক ডেকে প্রয়োজনীয় আইনি সংশোধনী আনা হবে, যাতে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রচারে আর কোনো বাধা না থাকে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই আইনি সংস্কারের মাধ্যমে গণভোটের প্রচার কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।