ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। প্রায় দেড় বছর মেয়াদী এই সরকারের কার্যকাল কেটেছে জনপ্রশাসনের সঙ্গে এক দীর্ঘস্থায়ী টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে, যার ফলস্বরূপ জনগণ তাদের কাঙ্ক্ষিত ও প্রত্যাশিত সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
এই অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই আমলাতন্ত্রের অসহযোগিতা, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব এবং প্রশাসনিক বিরোধের মুখে পড়ে। বিশেষ করে, সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি ও পদায়নসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত স্বার্থ আদায়ের জন্য সরকারকে চাপ সৃষ্টির ঘটনা বারবার পরিলক্ষিত হয়েছে। এসব অভ্যন্তরীণ জটিলতা সরকারের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
এছাড়াও, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মতভেদও সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় ধীরগতি এনে দেয় এবং প্রশাসনিক স্থবিরতা তৈরি করে। এমন পরিস্থিতিতে, সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে উপদেষ্টাদের ঘেরাও করা এবং সচিবালয়কে অচল করে দেওয়ার মতো নজিরবিহীন ঘটনাও একাধিকবার ঘটেছে, যা সরকারের প্রশাসনিক দুর্বলতাকে প্রকটভাবে তুলে ধরে।
প্রশাসনের এই সামগ্রিক অসহযোগিতা, অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং চাপ প্রয়োগের কারণে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের জন্য বহুল কাঙ্ক্ষিত ও প্রত্যাশিত সেবা প্রদানে কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রাক্কালে সরকারের এই ব্যর্থতা জনমনে গভীর হতাশার জন্ম দিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























