ঢাকা ০১:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬

অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্তদের তড়িঘড়ি করে পদোন্নতি দেওয়ার চেষ্টা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৫:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

শিরোনাম: বিটিআরসি: অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্তদের পদোন্নতির তোড়জোড়, অডিটে ‘গুরুতর অনিয়ম’

আর্টিকেল:

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ২৯ জন জুনিয়র পরামর্শকের পদোন্নতি দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। সরকারের অডিটে এই নিয়োগকে ‘অবৈধ’ এবং ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও, নতুন সরকার গঠনের পূর্বেই তাদের তড়িঘড়ি করে পদোন্নতি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে। এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্টThe Ministry of Posts and Telecommunications has repeatedly urged the commission to take action, but to no avail.

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, বিগত সরকার আমলে কোনো ধরনের লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষা ছাড়াই এই ২৯ জনকে ‘জুনিয়র পরামর্শক’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সরকারের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়ম এবং দুর্নীতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ থেকে একাধিকবার চিঠি দিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হলেও, বিটিআরসি কর্তৃপক্ষ দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বরং, সাধারণ কর্মীদের অভিযোগ, সাত বছর ধরে অডিট আপত্তিতে থাকা এসব কর্মকর্তার পদোন্নতি নিশ্চিত করতে কমিশন সভার তারিখ বারবার পরিবর্তন করা হচ্ছে।

সম্প্রতি, সরকার টেলিযোগাযোগ খাতে বিগত ১৫ বছরের দুর্নীতি ও অনিয়ম অনুসন্ধানের জন্য একটি শ্বেতপত্র কমিটি গঠন করে। কমিটি তাদের প্রতিবেদনে বিটিআরসি-তে জনবল নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য উঠে এসেছে এবং অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।

বিটিআরসির একাধিক কর্মকর্তার সূত্রে জানা যায়, অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত জুনিয়র পরামর্শকদের পদোন্নতি দিতে কমিশন এখন মরিয়া হয়ে উঠেছে। তাদের পদোন্নতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দুবার কমিশন সভার তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে, যা কমিশনের ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা।

গত ২৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বিভাগীয় পদোন্নতি সভায় (ডিপিসি) সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিয়োগ সংক্রান্ত অডিট আপত্তি রয়েছে, তাদের পদোন্নতি দেওয়া হবে না। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের মনোনীত তিনজন যুগ্ম সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তা এই সিদ্ধান্তে একমত হয়েছিলেন। তবে, সেদিন যোগ্যদের পদোন্নতির বিষয়টি রহস্যজনকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। এরপর, ২৬ জানুয়ারি জুনিয়র কর্মকর্তাদের পদায়ন নিয়ে বৈঠক হলেও পূর্বের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত না করেই বৈঠকটি স্থগিত করা হয়।

জানা যায়, বিটিআরসির ২০০৯ সালের প্রবিধানমালা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই ২০২২ সাল পর্যন্ত পদোন্নতির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে। ২০২২ সালের নতুন প্রবিধানে ‘সহকারী পরিচালক’ থেকে ‘সিনিয়র সহকারী পরিচালক’ পদটিকে পদোন্নতিযোগ্য করা হলেও, প্রবিধানের অস্পষ্টতা ও সংশোধনী চূড়ান্ত না হওয়ার সুযোগে একটি মহল প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। বর্তমানে, বিটিআরসির ৩৫৫ জন স্থায়ী জনবলের মধ্যে ১৫৩ জনের নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে এবং এদের অনেকেই এখন পদোন্নতির দৌড়ে শামিল। পরিচালক পদে চারজন, উপপরিচালক পদে ছয়জনসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদ খালি রয়েছে। যোগ্য ও বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, অযোগ্যদের পথ সুগম করতে তাদের ন্যায্য পদায়ন বিলম্বিত করা হচ্ছে। ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে ছয় থেকে সাতটি পদ শূন্য থাকলেও এই গ্রেডের কর্মচারীরা দীর্ঘদিন পদোন্নতি বঞ্চিত রয়েছেন।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিচালক পদে পদোন্নতিপ্রত্যাশী কর্মকর্তা জানান, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা বঞ্চিত আছি। আশা করেছিলাম, আওয়ামী লীগের পতনের পর যখন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এলো, তখন অবৈধ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং যোগ্যদের পুরস্কৃত করা হবে। কিন্তু, উল্টো যারা আওয়ামী সরকারের সময় অবৈধভাবে নিয়োগ পেয়েছিলেন, তাদেরই আবার পদোন্নতির জন্য তোড়জোড় চলছে।”

এ বিষয়ে জানতে বিটিআরসি চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারীর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দুই ইস্যুতে নিশ্চয়তা চায় যুক্তরাষ্ট্র

অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্তদের তড়িঘড়ি করে পদোন্নতি দেওয়ার চেষ্টা

আপডেট সময় : ০৪:৪৫:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শিরোনাম: বিটিআরসি: অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্তদের পদোন্নতির তোড়জোড়, অডিটে ‘গুরুতর অনিয়ম’

আর্টিকেল:

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ২৯ জন জুনিয়র পরামর্শকের পদোন্নতি দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। সরকারের অডিটে এই নিয়োগকে ‘অবৈধ’ এবং ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও, নতুন সরকার গঠনের পূর্বেই তাদের তড়িঘড়ি করে পদোন্নতি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে। এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্টThe Ministry of Posts and Telecommunications has repeatedly urged the commission to take action, but to no avail.

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, বিগত সরকার আমলে কোনো ধরনের লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষা ছাড়াই এই ২৯ জনকে ‘জুনিয়র পরামর্শক’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সরকারের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়ম এবং দুর্নীতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ থেকে একাধিকবার চিঠি দিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হলেও, বিটিআরসি কর্তৃপক্ষ দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বরং, সাধারণ কর্মীদের অভিযোগ, সাত বছর ধরে অডিট আপত্তিতে থাকা এসব কর্মকর্তার পদোন্নতি নিশ্চিত করতে কমিশন সভার তারিখ বারবার পরিবর্তন করা হচ্ছে।

সম্প্রতি, সরকার টেলিযোগাযোগ খাতে বিগত ১৫ বছরের দুর্নীতি ও অনিয়ম অনুসন্ধানের জন্য একটি শ্বেতপত্র কমিটি গঠন করে। কমিটি তাদের প্রতিবেদনে বিটিআরসি-তে জনবল নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য উঠে এসেছে এবং অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।

বিটিআরসির একাধিক কর্মকর্তার সূত্রে জানা যায়, অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত জুনিয়র পরামর্শকদের পদোন্নতি দিতে কমিশন এখন মরিয়া হয়ে উঠেছে। তাদের পদোন্নতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দুবার কমিশন সভার তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে, যা কমিশনের ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা।

গত ২৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বিভাগীয় পদোন্নতি সভায় (ডিপিসি) সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিয়োগ সংক্রান্ত অডিট আপত্তি রয়েছে, তাদের পদোন্নতি দেওয়া হবে না। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের মনোনীত তিনজন যুগ্ম সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তা এই সিদ্ধান্তে একমত হয়েছিলেন। তবে, সেদিন যোগ্যদের পদোন্নতির বিষয়টি রহস্যজনকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। এরপর, ২৬ জানুয়ারি জুনিয়র কর্মকর্তাদের পদায়ন নিয়ে বৈঠক হলেও পূর্বের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত না করেই বৈঠকটি স্থগিত করা হয়।

জানা যায়, বিটিআরসির ২০০৯ সালের প্রবিধানমালা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই ২০২২ সাল পর্যন্ত পদোন্নতির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে। ২০২২ সালের নতুন প্রবিধানে ‘সহকারী পরিচালক’ থেকে ‘সিনিয়র সহকারী পরিচালক’ পদটিকে পদোন্নতিযোগ্য করা হলেও, প্রবিধানের অস্পষ্টতা ও সংশোধনী চূড়ান্ত না হওয়ার সুযোগে একটি মহল প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। বর্তমানে, বিটিআরসির ৩৫৫ জন স্থায়ী জনবলের মধ্যে ১৫৩ জনের নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে এবং এদের অনেকেই এখন পদোন্নতির দৌড়ে শামিল। পরিচালক পদে চারজন, উপপরিচালক পদে ছয়জনসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদ খালি রয়েছে। যোগ্য ও বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, অযোগ্যদের পথ সুগম করতে তাদের ন্যায্য পদায়ন বিলম্বিত করা হচ্ছে। ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে ছয় থেকে সাতটি পদ শূন্য থাকলেও এই গ্রেডের কর্মচারীরা দীর্ঘদিন পদোন্নতি বঞ্চিত রয়েছেন।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিচালক পদে পদোন্নতিপ্রত্যাশী কর্মকর্তা জানান, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা বঞ্চিত আছি। আশা করেছিলাম, আওয়ামী লীগের পতনের পর যখন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এলো, তখন অবৈধ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং যোগ্যদের পুরস্কৃত করা হবে। কিন্তু, উল্টো যারা আওয়ামী সরকারের সময় অবৈধভাবে নিয়োগ পেয়েছিলেন, তাদেরই আবার পদোন্নতির জন্য তোড়জোড় চলছে।”

এ বিষয়ে জানতে বিটিআরসি চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারীর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।