বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে অন্তর্বর্তী সরকারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার জন্য মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিওকে চিঠি দিয়েছেন দেশটির দুই প্রভাবশালী কংগ্রেসম্যান। গত মঙ্গলবার পাঠানো এই যৌথ চিঠিতে তারা নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সক্রিয় ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
চিঠিতে স্বাক্ষরকারী দুই সদস্য হলেন ‘কংগ্রেশনাল বাংলাদেশ ককাস’-এর দ্বিদলীয় সহ-সভাপতি জো উইলসন এবং নাইল পাও। তারা উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই প্রথম সাধারণ নির্বাচন দেশটির ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ এবং দেশের আগামীর গতিপথ নির্ধারণের এক ঐতিহাসিক সুযোগ পাবেন।
কংগ্রেস সদস্যরা তাদের চিঠিতে উল্লেখ করেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় এই নির্বাচন একটি ইতিবাচক অগ্রগতির পথ তৈরি করেছে। তারা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার এবং নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত ও নিরাপদ করতে সব ধরনের কারিগরি ও কূটনৈতিক সহায়তা প্রদানের অনুরোধ জানান।
চিঠিতে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলা হয়, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী ওই সময় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ১৪০০-এর বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া ২০১৮ ও ২০২৪ সালের বিগত নির্বাচনগুলো যে অবাধ ও সুষ্ঠু ছিল না, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সেই পূর্ববর্তী মূল্যায়নের কথাও চিঠিতে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিকে কিছুটা নাজুক ও অস্থির উল্লেখ করে দুই কংগ্রেসম্যান উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, এই অস্থিতিশীলতা সহিংসতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে একজন গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনকারী নেতা এবং একজন শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাগুলো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেওয়া ওই চিঠিতে আরও বলা হয়, আসন্ন এই নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য সহিংসতা ও প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার একটি অনন্য সুযোগ। একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে আইনের শাসন ও মৌলিক মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল সরকার গঠনের পথ সুগম হবে। এর ফলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠন এবং দেশে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা সহজ হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পরিশেষে, বাংলাদেশের নির্বাচন ইস্যুতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বর্তমানে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে, সে বিষয়ে কংগ্রেস সদস্যদের অবহিত রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগেই এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত ব্রিফিং প্রদানের জন্য মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জো উইলসন ও নাইল পাও।
রিপোর্টারের নাম 























