বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন যে, তার দল যদি ভবিষ্যতে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে, তবে দেশের উত্তরাঞ্চলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এই প্রকল্পকে দেশের কৃষিখাত ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য অপরিহার্য উল্লেখ করে তিনি দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তিস্তা নদী বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি ও অর্থনীতির প্রাণপ্রবাহ। শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে এই অঞ্চলের কৃষকরা প্রতি বছর ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হন, যা দেশের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তিস্তা মহাপরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং আধুনিক সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি নিশ্চিত করে কৃষকদের দুর্দশা লাঘব করা। এটি বাস্তবায়ন হলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে বলে মনে করা হয়।
লন্ডন থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে দলের এক কর্মসূচিতে যুক্ত হয়ে তারেক রহমান এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে এবং তারা অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হবে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বিগত সরকারগুলো এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে তেমন কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তারেক রহমান দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, তার দল ক্ষমতায় এলে এই প্রকল্পকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে তারেক রহমানের এই ঘোষণা উত্তরাঞ্চলের ভোটারদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই ইস্যুর সমাধানে কার্যকর উদ্যোগের অভাব নিয়ে বিভিন্ন মহলে অসন্তোষ রয়েছে। এই প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে বিএনপি দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সমস্যা সমাধানে তাদের সদিচ্ছার জানান দিল বলে মনে করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 






















