ঢাকা ১০:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

অর্থনৈতিক ধসের মুখে জাতিসংঘ: জুলাইয়ের মধ্যে তহবিল শূন্য হওয়ার আশঙ্কা মহাসচিবের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

জাতিসংঘ ‘আসন্ন অর্থনৈতিক ধসের’ এক চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন বিশ্বসংস্থাটির মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পক্ষ থেকে নিয়মিত ও বাধ্যতামূলক ফি প্রদান না করায় এই নজিরবিহীন সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। গুতেরেস স্পষ্ট জানিয়েছেন, দ্রুত তহবিলের জোগান না দিলে আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই জাতিসংঘের সব অর্থ শেষ হয়ে যেতে পারে।

সদস্য দেশগুলোকে চিঠি ও নিয়মের পরিবর্তনের ডাক: মহাসচিব জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য দেশের কাছে একটি জরুরি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তিনি রাষ্ট্রগুলোকে তাদের নির্ধারিত ফি পরিশোধ করার বাধ্যবাধকতা মেনে চলার জোর তাগিদ দিয়েছেন। অন্যথায়, সংস্থার আর্থিক ধস ঠেকাতে প্রচলিত অর্থনৈতিক নিয়মনীতিতে আমূল পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, জাতিসংঘ অতীতেও সংকটে পড়েছে, কিন্তু ২০২৫ ও ২৬ সালের বর্তমান পরিস্থিতি ‘স্পষ্টতই ভিন্ন’ এবং অনেক বেশি গুরুতর।

সংকটের মূলে যুক্তরাষ্ট্রের বিমুখতা: জাতিসংঘের তহবিলের সবচেয়ে বড় জোগানদাতা দেশ যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেছে। মার্কিন প্রশাসন জাতিসংঘের নিয়মিত কার্যক্রম এবং শান্তিরক্ষা খাতে নতুন করে অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। শুধু তাই নয়, জাতিসংঘে অর্থ প্রদানকে ‘করদাতাদের ডলারের অপচয়’ হিসেবে অভিহিত করে দেশটি ইতোমধ্যে বেশ কিছু সংস্থা থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে। এছাড়া যুক্তরাজ্য ও জার্মানির মতো দেশগুলোও তাদের বৈদেশিক সহায়তার পরিমাণ কমিয়ে দেওয়ায় সংকটের মাত্রা আরও ঘনীভূত হয়েছে।

জেনিভা সদরদপ্তরে কৃচ্ছ্রসাধন: অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাব সরাসরি দৃশ্যমান হচ্ছে জাতিসংঘের দাপ্তরিক কাজকর্মে। জেনিভায় জাতিসংঘ সদরদপ্তরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সতর্কীকরণ চিহ্ন ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। অর্থ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে এসকেলেটরগুলো বন্ধ রাখা হচ্ছে এবং শীতকালীন হিটিং ব্যবস্থাও সীমিত করা হয়েছে।

পরিসংখ্যান ও বকেয়ার হার: গুতেরেসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে রেকর্ড পরিমাণ তহবিল বকেয়া রয়ে গেছে। বকেয়ার এই পরিমাণ মোট বাজেটের প্রায় ৭৭ শতাংশ। মানবিক সংকট সামাল দেওয়ার জন্য জাতিসংঘ সাধারণত যে পরিমাণ অর্থ চায়, দাতা দেশগুলোর অনিচ্ছায় তার খুব সামান্যই শেষ পর্যন্ত পাওয়া যায়। গত ১২ মাস সংস্থাটির জন্য ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সময় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

এর আগে গত ডিসেম্বর ও অক্টোবরেও গুতেরেস জাতিসংঘ দেউলিয়া হওয়ার পথে ধাবিত হচ্ছে বলে বিশ্বনেতাদের সতর্ক করেছিলেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শান্তিরক্ষা মিশন, খাদ্য সহায়তা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতো জরুরি কার্যক্রমগুলো এই তহবিলের অভাবে স্থবির হয়ে পড়লে বিশ্বজুড়ে মানবিক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান যুদ্ধ নিয়ে সংবাদমাধ্যমের ওপর ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, লাইসেন্স বাতিলের হুমকি

অর্থনৈতিক ধসের মুখে জাতিসংঘ: জুলাইয়ের মধ্যে তহবিল শূন্য হওয়ার আশঙ্কা মহাসচিবের

আপডেট সময় : ১০:১৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

জাতিসংঘ ‘আসন্ন অর্থনৈতিক ধসের’ এক চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন বিশ্বসংস্থাটির মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পক্ষ থেকে নিয়মিত ও বাধ্যতামূলক ফি প্রদান না করায় এই নজিরবিহীন সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। গুতেরেস স্পষ্ট জানিয়েছেন, দ্রুত তহবিলের জোগান না দিলে আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই জাতিসংঘের সব অর্থ শেষ হয়ে যেতে পারে।

সদস্য দেশগুলোকে চিঠি ও নিয়মের পরিবর্তনের ডাক: মহাসচিব জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য দেশের কাছে একটি জরুরি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তিনি রাষ্ট্রগুলোকে তাদের নির্ধারিত ফি পরিশোধ করার বাধ্যবাধকতা মেনে চলার জোর তাগিদ দিয়েছেন। অন্যথায়, সংস্থার আর্থিক ধস ঠেকাতে প্রচলিত অর্থনৈতিক নিয়মনীতিতে আমূল পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, জাতিসংঘ অতীতেও সংকটে পড়েছে, কিন্তু ২০২৫ ও ২৬ সালের বর্তমান পরিস্থিতি ‘স্পষ্টতই ভিন্ন’ এবং অনেক বেশি গুরুতর।

সংকটের মূলে যুক্তরাষ্ট্রের বিমুখতা: জাতিসংঘের তহবিলের সবচেয়ে বড় জোগানদাতা দেশ যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেছে। মার্কিন প্রশাসন জাতিসংঘের নিয়মিত কার্যক্রম এবং শান্তিরক্ষা খাতে নতুন করে অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। শুধু তাই নয়, জাতিসংঘে অর্থ প্রদানকে ‘করদাতাদের ডলারের অপচয়’ হিসেবে অভিহিত করে দেশটি ইতোমধ্যে বেশ কিছু সংস্থা থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে। এছাড়া যুক্তরাজ্য ও জার্মানির মতো দেশগুলোও তাদের বৈদেশিক সহায়তার পরিমাণ কমিয়ে দেওয়ায় সংকটের মাত্রা আরও ঘনীভূত হয়েছে।

জেনিভা সদরদপ্তরে কৃচ্ছ্রসাধন: অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাব সরাসরি দৃশ্যমান হচ্ছে জাতিসংঘের দাপ্তরিক কাজকর্মে। জেনিভায় জাতিসংঘ সদরদপ্তরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সতর্কীকরণ চিহ্ন ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। অর্থ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে এসকেলেটরগুলো বন্ধ রাখা হচ্ছে এবং শীতকালীন হিটিং ব্যবস্থাও সীমিত করা হয়েছে।

পরিসংখ্যান ও বকেয়ার হার: গুতেরেসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে রেকর্ড পরিমাণ তহবিল বকেয়া রয়ে গেছে। বকেয়ার এই পরিমাণ মোট বাজেটের প্রায় ৭৭ শতাংশ। মানবিক সংকট সামাল দেওয়ার জন্য জাতিসংঘ সাধারণত যে পরিমাণ অর্থ চায়, দাতা দেশগুলোর অনিচ্ছায় তার খুব সামান্যই শেষ পর্যন্ত পাওয়া যায়। গত ১২ মাস সংস্থাটির জন্য ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সময় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

এর আগে গত ডিসেম্বর ও অক্টোবরেও গুতেরেস জাতিসংঘ দেউলিয়া হওয়ার পথে ধাবিত হচ্ছে বলে বিশ্বনেতাদের সতর্ক করেছিলেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শান্তিরক্ষা মিশন, খাদ্য সহায়তা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতো জরুরি কার্যক্রমগুলো এই তহবিলের অভাবে স্থবির হয়ে পড়লে বিশ্বজুড়ে মানবিক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।