ঢাকা ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

“নির্বাচনের দিন ছাড়া অন্য কোনো গণভোট বিএনপি মানবে না, সাফ জানিয়ে দিলেন ফখরুল।”

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:০৩:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩৭ বার পড়া হয়েছে

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট চাওয়ার যে দাবি তোলা হয়েছে, তা ‘অযৌক্তিক এবং ঠিকভাবে না ভেবেই (অবিবেচনাপ্রসূত)’ করা হয়েছে। তিনি পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, জাতীয় নির্বাচনের দিনের বাইরে অন্য কোনো দিন গণভোট করার সিদ্ধান্ত বিএনপি কোনোভাবেই মেনে নেবে না।

আজ বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) ঢাকার গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের অফিসে একটা সংবাদ সম্মেলন করে মির্জা ফখরুল এই কথাগুলো জানান।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের জন্য যে সুপারিশগুলো করেছে, সে ব্যাপারে তিনি অভিযোগ করে বলেন, “জুলাই সনদের কপি হাতে পাওয়ার পর আমরা দেখতে পেলাম যে, বেশ কয়েকটা দফা যেগুলোর ব্যাপারে সবার সম্মতি (ঐকমত্য) ছিল, সেগুলো আমাদের না জানিয়েই (অগোচরে) আবার বদল (সংশোধন) করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “এই মনগড়া প্রস্তাবটা যদি মেনে নেওয়া হয়, তাহলে এটা পুরো জাতিকে ভাগ করে ফেলবে (বিভক্ত করবে) আর এর একটা খুব খারাপ প্রভাব (নেতিবাচক প্রভাব) লম্বা সময় ধরে থাকবে। এটা দেশের মানুষের (জাতির) সাথে একটা তামাশা (প্রহসন) আর ধোঁকা (প্রতারণা)। সবার সম্মতি (ঐকমত্য) না থাকার পরেও কিছু কিছু বিষয় পরে জুলাই সনদে ঢুকিয়ে (সংযুক্ত) দেওয়া হয়েছে। আমরা যেগুলোতে রাজি ছিলাম না (নোট অব ডিসেন্ট), সেগুলো উল্লেখ না করেই সুপারিশ জমা দেওয়া হয়েছে—যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না (সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য)।”

বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য খসড়া আদেশ জারি করার কোনো অধিকার (এখতিয়ার) এই সরকারের নেই। ঐকমত্য কমিশনের এই প্রস্তাবটা আসলে দেশের মানুষের (জাতির) ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

গণতন্ত্রে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আলাদা আলাদা মত (ভিন্ন মত) থাকতেই পারে, এটাকে স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বিএনপি কিন্তু নির্বাচনের ব্যাপারে কোনো অনাস্থা জানায়নি। অনাস্থাটা জানানো হয়েছে শুধু ঐকমত্য কমিশনের ওই সুপারিশগুলোর বিষয়ে। এই মুহূর্তে জাতীয় ঐক্য ধরে রাখাটা (বজায় রাখা) সবচেয়ে জরুরি (অত্যাবশ্যক)।”

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) এই জাতীয় ঐকমত্য কমিশন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের জন্য তাদের সুপারিশগুলো জমা দিয়েছিল (হস্তান্তর করে)।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আলবানিজের পরিবারের মামলা: ফিলিস্তিন ইস্যুতে আইনি লড়াই

“নির্বাচনের দিন ছাড়া অন্য কোনো গণভোট বিএনপি মানবে না, সাফ জানিয়ে দিলেন ফখরুল।”

আপডেট সময় : ০৩:০৩:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট চাওয়ার যে দাবি তোলা হয়েছে, তা ‘অযৌক্তিক এবং ঠিকভাবে না ভেবেই (অবিবেচনাপ্রসূত)’ করা হয়েছে। তিনি পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, জাতীয় নির্বাচনের দিনের বাইরে অন্য কোনো দিন গণভোট করার সিদ্ধান্ত বিএনপি কোনোভাবেই মেনে নেবে না।

আজ বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) ঢাকার গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের অফিসে একটা সংবাদ সম্মেলন করে মির্জা ফখরুল এই কথাগুলো জানান।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের জন্য যে সুপারিশগুলো করেছে, সে ব্যাপারে তিনি অভিযোগ করে বলেন, “জুলাই সনদের কপি হাতে পাওয়ার পর আমরা দেখতে পেলাম যে, বেশ কয়েকটা দফা যেগুলোর ব্যাপারে সবার সম্মতি (ঐকমত্য) ছিল, সেগুলো আমাদের না জানিয়েই (অগোচরে) আবার বদল (সংশোধন) করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “এই মনগড়া প্রস্তাবটা যদি মেনে নেওয়া হয়, তাহলে এটা পুরো জাতিকে ভাগ করে ফেলবে (বিভক্ত করবে) আর এর একটা খুব খারাপ প্রভাব (নেতিবাচক প্রভাব) লম্বা সময় ধরে থাকবে। এটা দেশের মানুষের (জাতির) সাথে একটা তামাশা (প্রহসন) আর ধোঁকা (প্রতারণা)। সবার সম্মতি (ঐকমত্য) না থাকার পরেও কিছু কিছু বিষয় পরে জুলাই সনদে ঢুকিয়ে (সংযুক্ত) দেওয়া হয়েছে। আমরা যেগুলোতে রাজি ছিলাম না (নোট অব ডিসেন্ট), সেগুলো উল্লেখ না করেই সুপারিশ জমা দেওয়া হয়েছে—যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না (সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য)।”

বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য খসড়া আদেশ জারি করার কোনো অধিকার (এখতিয়ার) এই সরকারের নেই। ঐকমত্য কমিশনের এই প্রস্তাবটা আসলে দেশের মানুষের (জাতির) ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

গণতন্ত্রে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আলাদা আলাদা মত (ভিন্ন মত) থাকতেই পারে, এটাকে স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বিএনপি কিন্তু নির্বাচনের ব্যাপারে কোনো অনাস্থা জানায়নি। অনাস্থাটা জানানো হয়েছে শুধু ঐকমত্য কমিশনের ওই সুপারিশগুলোর বিষয়ে। এই মুহূর্তে জাতীয় ঐক্য ধরে রাখাটা (বজায় রাখা) সবচেয়ে জরুরি (অত্যাবশ্যক)।”

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) এই জাতীয় ঐকমত্য কমিশন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের জন্য তাদের সুপারিশগুলো জমা দিয়েছিল (হস্তান্তর করে)।