ঢাকা ০৯:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

বাঁশখালীতে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রভাব: জামায়াতের জন্য সুবর্ণ সুযোগ?

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১৩:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম-১৬ আসনের বাঁশখালী, যা ঐতিহাসিকভাবে বিএনপির একটি শক্তিশালী নির্বাচনী কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, বর্তমানে দলটির অভ্যন্তরীণ বিভাজন এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর উত্থানের কারণে এক জটিল পরিস্থিতির সম্মুখীন। এই বিভাজন বিএনপির মূল প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, এবং এর সুবিধা পেতে পারে জামায়াতে ইসলামী।

বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা লিয়াকত আলী, যিনি একসময় দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন, এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার এই সিদ্ধান্ত বিএনপির ভোট ব্যাংককে বিভক্ত করার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি করেছে। ফলে, বিএনপির মূল ভোট দুটি ভাগে ভাগ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা জহিরুল ইসলামের জন্য বিজয়ের পথ প্রশস্ত করতে পারে। তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জয় ছিনিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।

তবে, এই আসনে আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টির ভোটারদের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। তাদের সমর্থন শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে বিজয়ের মালা জুটবে, তা নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলবে। চূড়ান্ত ফলাফল জানতে ভোটারদের ভোট গণনা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

এছাড়াও, এই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা হাফেজ রুহুল্লাহ তালুকদার (হাতপাখা) এবং গণঅধিকার পরিষদের আরিফুল ইসলাম তায়েফ (ট্রাক) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে, মূল লড়াইটি মূলত বিএনপি, জামায়াত এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাঁশখালীতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লক্ষ ৭৬ হাজার ৯০৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লক্ষ ২ হাজার ৩২১ জন এবং মহিলা ভোটার ১ লক্ষ ৭৪ হাজার ৫৮১ জন। এছাড়াও, এই আসনে চারজন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা ধানের শীষ প্রতীকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। কিন্তু, মনোনয়নের শুরু থেকেই চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং গন্ডামারা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এরপর তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীকে পুরোদমে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। লিয়াকত আলী তার নির্বাচনী প্রচারে বলেছেন, “আগামী ১২ তারিখ বাঁশখালীর আপামর জনতা ফুটবল মার্কায় রায় দিয়ে পরিবারতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে মজলুমের পক্ষে রায় দেবেন।” তার এই বক্তব্য স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকার সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশার দাপট: বিশৃঙ্খলা ও দুর্ঘটনার নতুন কারণ

বাঁশখালীতে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রভাব: জামায়াতের জন্য সুবর্ণ সুযোগ?

আপডেট সময় : ১১:১৩:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রাম-১৬ আসনের বাঁশখালী, যা ঐতিহাসিকভাবে বিএনপির একটি শক্তিশালী নির্বাচনী কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, বর্তমানে দলটির অভ্যন্তরীণ বিভাজন এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর উত্থানের কারণে এক জটিল পরিস্থিতির সম্মুখীন। এই বিভাজন বিএনপির মূল প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, এবং এর সুবিধা পেতে পারে জামায়াতে ইসলামী।

বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা লিয়াকত আলী, যিনি একসময় দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন, এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার এই সিদ্ধান্ত বিএনপির ভোট ব্যাংককে বিভক্ত করার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি করেছে। ফলে, বিএনপির মূল ভোট দুটি ভাগে ভাগ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা জহিরুল ইসলামের জন্য বিজয়ের পথ প্রশস্ত করতে পারে। তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জয় ছিনিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।

তবে, এই আসনে আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টির ভোটারদের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। তাদের সমর্থন শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে বিজয়ের মালা জুটবে, তা নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলবে। চূড়ান্ত ফলাফল জানতে ভোটারদের ভোট গণনা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

এছাড়াও, এই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা হাফেজ রুহুল্লাহ তালুকদার (হাতপাখা) এবং গণঅধিকার পরিষদের আরিফুল ইসলাম তায়েফ (ট্রাক) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে, মূল লড়াইটি মূলত বিএনপি, জামায়াত এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাঁশখালীতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লক্ষ ৭৬ হাজার ৯০৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লক্ষ ২ হাজার ৩২১ জন এবং মহিলা ভোটার ১ লক্ষ ৭৪ হাজার ৫৮১ জন। এছাড়াও, এই আসনে চারজন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা ধানের শীষ প্রতীকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। কিন্তু, মনোনয়নের শুরু থেকেই চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং গন্ডামারা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এরপর তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীকে পুরোদমে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। লিয়াকত আলী তার নির্বাচনী প্রচারে বলেছেন, “আগামী ১২ তারিখ বাঁশখালীর আপামর জনতা ফুটবল মার্কায় রায় দিয়ে পরিবারতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে মজলুমের পক্ষে রায় দেবেন।” তার এই বক্তব্য স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।