আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় গণভোটকে সামনে রেখে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য কঠোর সতর্কবার্তা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সরকারি কোনো ব্যক্তি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের পক্ষে কোনো ধরনের প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। যদি কেউ এই নির্দেশ অমান্য করে কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের হয়ে প্রচারণা চালান বা ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন, তবে তা ‘দণ্ডনীয় অপরাধ’ হিসেবে গণ্য হবে। বৃহস্পতিবার এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয় জানিয়েছে, এই নির্দেশনা কঠোরভাবে নিশ্চিত করার লক্ষ্যে খুব শিগগিরই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হচ্ছে। ইসির নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, নবপ্রণীত ‘গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর ২১ ধারা এবং ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২’-এর অনুচ্ছেদ ৮৬ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি গণভোট বিষয়ে জনগণকে কেবল অবহিত বা সচেতন করার কাজ করতে পারবেন। কিন্তু তিনি কোনো অবস্থাতেই ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’-এর পক্ষে ভোট প্রদানের জন্য জনগণকে আহ্বান জানাতে পারবেন না।
নির্বাচন কমিশনের মতে, সরকারি কর্মকর্তাদের এ ধরনের রাজনৈতিক বা প্রচারণামূলক কর্মকাণ্ড গণভোটের ফলাফলকে সরাসরি প্রভাবিত করার সক্ষমতা রাখে, যা একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট প্রক্রিয়ার পরিপন্থী। ফলে এ ধরনের যেকোনো তৎপরতা আইনি বিধান অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সকল শাখাকে ইতোমধ্যে বার্তা দেওয়া হয়েছে।
এই নির্দেশনা মাঠপর্যায়ে কঠোরভাবে বাস্তবায়নের জন্য সকল বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি), আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। এছাড়া বিষয়টি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ অবহিতকরণ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে নির্দেশনার অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগসহ বাংলাদেশ পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপির সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গণভোটের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রশাসনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকা অপরিহার্য। ১২ ফেব্রুয়ারির এই ভোট নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন, সরকারি কর্মকর্তারা কেবল সেই আইনি সীমানার মধ্যেই তাদের দায়িত্ব পালন করবেন। এর বাইরে কোনো ধরনের প্রচারণায় সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিপোর্টারের নাম 






















