ঢাকা ০৭:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

ভোট প্রচারে মায়েদের ওপর হামলা: জামায়াত আমিরের কঠোর হুঁশিয়ারি, ‘কেউ হাত বাড়ালে বসে থাকব না’

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনের প্রচারণার সময় মা-বোনদের ওপর যারা হামলা করেছে, তাদের ক্ষমা চাইতে হবে এবং তওবা করতে হবে। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের অপকর্মের চিন্তাও যেন না করা হয়। মায়েদের গায়ে কেউ হাত বাড়ালে আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমরা হাত গুটিয়ে বসে থাকবো না, গর্জে উঠবো। বুধবার বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের প্রধান বালিকা ক্যাম্পাসে ঢাকা-১৫ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য আয়োজিত এক মহিলা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ভাইদের পাশাপাশি মা-বোনেরাও ভোটের প্রচারে যাবেন—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কিছু জায়গায় মায়েদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের থামিয়ে দেওয়া হচ্ছে, হেনস্থা করা হচ্ছে। এভাবে চোখ রাঙিয়ে তাদের দমানো যাবে না; তারা তাদের দায়িত্ব পালন করে যাবেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যদি কেউ মায়েদের গায়ে হাত বাড়ানোর চেষ্টা করে, তাহলে জামায়াত গালে হাত দিয়ে বসে থাকবে না, যেকোনো মূল্যে মায়েদের মর্যাদা রক্ষা করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তারা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো অপশক্তির কাছে মাথা নত করবে না।

ঢাকা-১৫ আসনের প্রার্থী ডা. শফিকুর রহমান নারী জাতিকে মায়ের জাতি হিসেবে দেখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে প্রতিটি ঘর জান্নাতি হবে এবং দেশ সভ্য হবে। জামায়াত সমাজকে মায়ের স্নেহ ও ভালোবাসায় গড়ে তুলতে চায় এবং মায়েদের সম্মান ও মর্যাদা যেকোনো মূল্যে নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি মেয়েদের জন্য নিরাপদ যানবাহন, কর্মক্ষেত্রে বেবি কর্নার, ব্রেস্টফিডিং ও ডে-কেয়ার ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেন। জামায়াত আমির আরও বলেন, মায়েদের জন্য কর্মঘণ্টা ৫ ঘণ্টা করার প্রস্তাব নিয়ে অনেকে ভুল বুঝে চিৎকার করেছেন। কিন্তু অনেক মা সন্তানের জন্য চাকরি ছেড়ে দেন; তাদের জন্য ৫ ঘণ্টার কর্মঘণ্টা ও বেবি কেয়ার ব্যবস্থা থাকলে চাকরি ছাড়তে হবে না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, মায়েদের পুরুষের সমান কর্মঘণ্টা অবিচার নয় কি? তিনি সুবিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেন এবং জানান, এই সুযোগ শুধু মুসলিম মায়েদের জন্য নয়, সব ধর্মের মায়েদের জন্যই থাকবে। এছাড়া, নারীদের জরুরি প্রয়োজনে মার্কেটে পর্যাপ্ত ওয়াশরুম ও নামাজের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। তিনি নারী-পুরুষ উভয়ের সমন্বয়ে একটি মানবিক সমাজ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির দুটি ভোটের কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ মানে বাংলাদেশ জিতে যাওয়া, ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদী, ‘হ্যাঁ’ জেতা মানে ফ্যাসিবাদ ফিরে না আসা। ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ কে বিজয়ী করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বেশি অতীতে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, চব্বিশের বিপ্লবের পর কার আচার-আচরণ কেমন, কার চলাফেরা কেমন তা পরিষ্কার হয়ে গেছে। যাদের ওপর আস্থা রাখা যাবে, যারা আমানত রক্ষা করতে পারবে, তাদের পক্ষে ভোট দিতে হবে। ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে সবার আমানত পৌঁছে দেওয়া যাবে।

ডা. শফিকুর রহমান একটি পরিশীলিত, সভ্য ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সেখানে যুবক-যুবতীদের পেশাগত শিক্ষা দেওয়া হবে, যাতে তারা কাজ নিয়ে থাকতে পারে। কোনো বেকার ভাতা দেওয়া হবে না, কারণ এটি অপমানের শামিল। তাদের হাতে কাজ তুলে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ১২ তারিখের বিজয় যেন জামায়াতের না হয়ে ১৮ কোটি মানুষের বিজয় হয়। জামায়াত সত্যিকার মানবতার বিজয় চায় এবং কোনো ধর্ম-বর্ণ না দেখে আশরাফুল মাখলুকাত মানুষ হিসেবেই সবাইকে দেখবে। আগামী দিনের বাংলাদেশ মা-বোনদের ইজ্জতের বাংলাদেশ, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার বাংলাদেশ এবং ন্যায়-ইনসাফের বাংলাদেশ হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের নায়েবে আমির ও ঢাকা-১৫ আসন পরিচালক আব্দুর রহমান মুসার সভাপতিত্বে এই সমাবেশে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, শিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলামসহ জামায়াতের মহিলা বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘স্মার্ট বাংলাদেশের মূল চালিকাশক্তি হবে সাশ্রয়ী ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট’: তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী

ভোট প্রচারে মায়েদের ওপর হামলা: জামায়াত আমিরের কঠোর হুঁশিয়ারি, ‘কেউ হাত বাড়ালে বসে থাকব না’

আপডেট সময় : ০৭:১৫:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনের প্রচারণার সময় মা-বোনদের ওপর যারা হামলা করেছে, তাদের ক্ষমা চাইতে হবে এবং তওবা করতে হবে। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের অপকর্মের চিন্তাও যেন না করা হয়। মায়েদের গায়ে কেউ হাত বাড়ালে আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমরা হাত গুটিয়ে বসে থাকবো না, গর্জে উঠবো। বুধবার বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের প্রধান বালিকা ক্যাম্পাসে ঢাকা-১৫ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য আয়োজিত এক মহিলা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ভাইদের পাশাপাশি মা-বোনেরাও ভোটের প্রচারে যাবেন—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কিছু জায়গায় মায়েদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের থামিয়ে দেওয়া হচ্ছে, হেনস্থা করা হচ্ছে। এভাবে চোখ রাঙিয়ে তাদের দমানো যাবে না; তারা তাদের দায়িত্ব পালন করে যাবেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যদি কেউ মায়েদের গায়ে হাত বাড়ানোর চেষ্টা করে, তাহলে জামায়াত গালে হাত দিয়ে বসে থাকবে না, যেকোনো মূল্যে মায়েদের মর্যাদা রক্ষা করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তারা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো অপশক্তির কাছে মাথা নত করবে না।

ঢাকা-১৫ আসনের প্রার্থী ডা. শফিকুর রহমান নারী জাতিকে মায়ের জাতি হিসেবে দেখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে প্রতিটি ঘর জান্নাতি হবে এবং দেশ সভ্য হবে। জামায়াত সমাজকে মায়ের স্নেহ ও ভালোবাসায় গড়ে তুলতে চায় এবং মায়েদের সম্মান ও মর্যাদা যেকোনো মূল্যে নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি মেয়েদের জন্য নিরাপদ যানবাহন, কর্মক্ষেত্রে বেবি কর্নার, ব্রেস্টফিডিং ও ডে-কেয়ার ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেন। জামায়াত আমির আরও বলেন, মায়েদের জন্য কর্মঘণ্টা ৫ ঘণ্টা করার প্রস্তাব নিয়ে অনেকে ভুল বুঝে চিৎকার করেছেন। কিন্তু অনেক মা সন্তানের জন্য চাকরি ছেড়ে দেন; তাদের জন্য ৫ ঘণ্টার কর্মঘণ্টা ও বেবি কেয়ার ব্যবস্থা থাকলে চাকরি ছাড়তে হবে না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, মায়েদের পুরুষের সমান কর্মঘণ্টা অবিচার নয় কি? তিনি সুবিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেন এবং জানান, এই সুযোগ শুধু মুসলিম মায়েদের জন্য নয়, সব ধর্মের মায়েদের জন্যই থাকবে। এছাড়া, নারীদের জরুরি প্রয়োজনে মার্কেটে পর্যাপ্ত ওয়াশরুম ও নামাজের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। তিনি নারী-পুরুষ উভয়ের সমন্বয়ে একটি মানবিক সমাজ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির দুটি ভোটের কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ মানে বাংলাদেশ জিতে যাওয়া, ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদী, ‘হ্যাঁ’ জেতা মানে ফ্যাসিবাদ ফিরে না আসা। ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ কে বিজয়ী করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বেশি অতীতে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, চব্বিশের বিপ্লবের পর কার আচার-আচরণ কেমন, কার চলাফেরা কেমন তা পরিষ্কার হয়ে গেছে। যাদের ওপর আস্থা রাখা যাবে, যারা আমানত রক্ষা করতে পারবে, তাদের পক্ষে ভোট দিতে হবে। ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে সবার আমানত পৌঁছে দেওয়া যাবে।

ডা. শফিকুর রহমান একটি পরিশীলিত, সভ্য ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সেখানে যুবক-যুবতীদের পেশাগত শিক্ষা দেওয়া হবে, যাতে তারা কাজ নিয়ে থাকতে পারে। কোনো বেকার ভাতা দেওয়া হবে না, কারণ এটি অপমানের শামিল। তাদের হাতে কাজ তুলে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ১২ তারিখের বিজয় যেন জামায়াতের না হয়ে ১৮ কোটি মানুষের বিজয় হয়। জামায়াত সত্যিকার মানবতার বিজয় চায় এবং কোনো ধর্ম-বর্ণ না দেখে আশরাফুল মাখলুকাত মানুষ হিসেবেই সবাইকে দেখবে। আগামী দিনের বাংলাদেশ মা-বোনদের ইজ্জতের বাংলাদেশ, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার বাংলাদেশ এবং ন্যায়-ইনসাফের বাংলাদেশ হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের নায়েবে আমির ও ঢাকা-১৫ আসন পরিচালক আব্দুর রহমান মুসার সভাপতিত্বে এই সমাবেশে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, শিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলামসহ জামায়াতের মহিলা বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখেন।