সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরীর নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন দলটির আমির মাওলানা মামুনুল হক। মঙ্গলবার জগন্নাথপুর স্বরূপ চন্দ্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। তবে কেন্দ্রীয় এই শীর্ষ নেতার উপস্থিতিতে যে বিশাল গণজমায়েতের প্রত্যাশা করা হয়েছিল, বাস্তবে তার প্রতিফলন না ঘটায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে যখন জনসভা শুরু হয়, তখন মাঠের প্যান্ডেল ও চেয়ারের একটি বড় অংশই ছিল ফাঁকা। কেন্দ্রীয় আমিরের আগমনে নির্বাচনি এলাকায় যে ধরনের রাজনৈতিক উদ্দীপনা বা গণজোয়ার তৈরি হওয়ার কথা ছিল, জনসভার চিত্র ছিল তার উল্টো। সামনের দিকের কিছু সারিতে কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি থাকলেও মাঠের পেছনের অংশে সারিবদ্ধ চেয়ারগুলো জনশূন্য পড়ে থাকতে দেখা যায়।
স্থানীয় ভোটার ও সাধারণ মানুষের মতে, শাহীনুর পাশা চৌধুরীর বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান এবং জনসমর্থনে ভাটা পড়ার বিষয়টি এই সল্প উপস্থিতির মাধ্যমে ফুটে উঠেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বেশ কয়েকজন জানান, এক সময় জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে তার যে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী ভোটব্যাংক ছিল, বারবার দলবদলের কারণে তাতে বড় ধরনের ফাটল ধরেছে। এছাড়া তার অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং বারবার অবস্থান পরিবর্তন সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের অনাগ্রহ তৈরি করেছে, যার প্রভাব পড়েছে এই জনসভায়।
মাঠে লোকসমাগম কম থাকলেও মাওলানা মামুনুল হক তার বক্তব্যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, একটি অশুভ চক্র দেশের স্বাভাবিক অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করছে এবং দেশজুড়ে লুটপাট ও দুর্বৃত্তপনার রাজনীতি জেঁকে বসেছে। জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এই অপরাজনীতির অবসান ঘটবে। তিনি দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
রিপোর্টারের নাম 























