ঢাকা ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

যশোর বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে নিরাপত্তা মহড়া সম্পন্ন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৮:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

মঙ্গলবার, দুপুর ১২টার দিকে যশোর বিমানবন্দরে একটি পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার লক্ষ্য ছিল আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (ICAO) মান এবং জাতীয় বেসামরিক বিমান নিরাপত্তা কর্মসূচির (NCASP) নির্দেশনা অনুযায়ী বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সক্ষমতা যাচাই করা। প্রতি দুই বছর অন্তর এই ধরনের মহড়া আয়োজন করা বাধ্যতামূলক। হাইজ্যাক, বোমা হামলাসহ বিভিন্ন ধরনের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় অংশীজনদের প্রস্তুতি বৃদ্ধি এবং সম্মিলিত প্রতিক্রিয়া সমন্বয়ের উদ্দেশ্যে এই মহড়ার আয়োজন করা হয়।

মহড়ার প্রেক্ষাপট হিসেবে একটি কাল্পনিক ঘটনাকে কেন্দ্র করা হয়। যেখানে, ২০২৬ সালের ২৭ জানুয়ারি সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে এয়ার বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট (ফ্লাইট নং Air Bangladesh-247) ১০ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যশোরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। উড্ডয়নের প্রায় ১০ মিনিট পর, যশোর বিমানবন্দর ব্যবস্থাপকের কাছে একটি বেনামী টেলিফোন আসে। কলদাতা দাবি করেন যে বিমানে একটি বোমা রাখা আছে এবং কোনো অতিরিক্ত তথ্য না দিয়েই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

এই তথ্যের ভিত্তিতে, বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক দ্রুত কন্ট্রোল টাওয়ারকে অবহিত করেন। কন্ট্রোল টাওয়ার বিষয়টি যশোর বিমানবন্দরের এভিয়েশন সিকিউরিটি ইন-চার্জকে জানান এবং বিমানবন্দর ফায়ার সার্ভিসকে স্ট্যান্ডবাই থাকার নির্দেশ দেন। পরিস্থিতিকে বাস্তবসম্মত হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে, বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক রিস্ক অ্যাডভাইজরি গ্রুপের সাথে আলোচনা করে পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দর জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন এবং ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার (EOC) সক্রিয় করার নির্দেশ দেন। এরপর EOC বিমানবাহিনী, সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং মেডিকেল ইউনিটসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থাকে অবহিত করে এবং সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা করে।

এই মহড়ায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক), বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), র‍্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), আনসার, সিভিল সার্জন ও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল টিম এবং বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও ডিফেন্সসহ বিভিন্ন সংস্থা অংশ নেয়।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোঃ মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক, বিএসপি, জিইউপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, এসিএসসি, পিএসসি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মহড়ার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব এবং বেবিচকের সদস্য (প্রশাসন) এস এম লাবলুর রহমান। মহড়ার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মোঃ আসিফ ইকবাল, বিএসপি, বিইউপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, জিডি(পি)।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সকল অংশীজনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই ধরনের মহড়া কেবল সম্ভাব্য দুর্বলতা চিহ্নিত করতেই সহায়ক নয়, বরং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার করে যাত্রীসেবায় আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি মহড়ার সফলতাকে সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও দায়িত্বশীলতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও স্মরণ করেন যে, গত ১৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছিল, যার ফলে রাত ৯টার মধ্যেই বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুনরায় স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়েছিল।

প্রধান অতিথি আশা প্রকাশ করেন যে, চলতি বছর অনুষ্ঠিতব্য আইকাও নিরাপত্তা অডিটের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে এই ধরনের মহড়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও জানান যে, যশোর বিমানবন্দরের নতুন বহির্গমন টার্মিনাল ভবন ও নতুন এপ্রোনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বিদ্যমান রানওয়ের শক্তিবৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে রানওয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় আকারের বিমান নিরাপদে ওঠানামার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

মহড়ায় বেবিচকের কর্মকর্তাবৃন্দ, অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিবৃন্দ এবং গণমাধ্যমের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন সমাপ্ত: ২৫ কার্যদিবসে রেকর্ড ৯৪ বিল পাস

যশোর বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে নিরাপত্তা মহড়া সম্পন্ন

আপডেট সময় : ০৮:৪৮:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

মঙ্গলবার, দুপুর ১২টার দিকে যশোর বিমানবন্দরে একটি পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার লক্ষ্য ছিল আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (ICAO) মান এবং জাতীয় বেসামরিক বিমান নিরাপত্তা কর্মসূচির (NCASP) নির্দেশনা অনুযায়ী বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সক্ষমতা যাচাই করা। প্রতি দুই বছর অন্তর এই ধরনের মহড়া আয়োজন করা বাধ্যতামূলক। হাইজ্যাক, বোমা হামলাসহ বিভিন্ন ধরনের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় অংশীজনদের প্রস্তুতি বৃদ্ধি এবং সম্মিলিত প্রতিক্রিয়া সমন্বয়ের উদ্দেশ্যে এই মহড়ার আয়োজন করা হয়।

মহড়ার প্রেক্ষাপট হিসেবে একটি কাল্পনিক ঘটনাকে কেন্দ্র করা হয়। যেখানে, ২০২৬ সালের ২৭ জানুয়ারি সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে এয়ার বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট (ফ্লাইট নং Air Bangladesh-247) ১০ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যশোরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। উড্ডয়নের প্রায় ১০ মিনিট পর, যশোর বিমানবন্দর ব্যবস্থাপকের কাছে একটি বেনামী টেলিফোন আসে। কলদাতা দাবি করেন যে বিমানে একটি বোমা রাখা আছে এবং কোনো অতিরিক্ত তথ্য না দিয়েই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

এই তথ্যের ভিত্তিতে, বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক দ্রুত কন্ট্রোল টাওয়ারকে অবহিত করেন। কন্ট্রোল টাওয়ার বিষয়টি যশোর বিমানবন্দরের এভিয়েশন সিকিউরিটি ইন-চার্জকে জানান এবং বিমানবন্দর ফায়ার সার্ভিসকে স্ট্যান্ডবাই থাকার নির্দেশ দেন। পরিস্থিতিকে বাস্তবসম্মত হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে, বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক রিস্ক অ্যাডভাইজরি গ্রুপের সাথে আলোচনা করে পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দর জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন এবং ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার (EOC) সক্রিয় করার নির্দেশ দেন। এরপর EOC বিমানবাহিনী, সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং মেডিকেল ইউনিটসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থাকে অবহিত করে এবং সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা করে।

এই মহড়ায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক), বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), র‍্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), আনসার, সিভিল সার্জন ও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল টিম এবং বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও ডিফেন্সসহ বিভিন্ন সংস্থা অংশ নেয়।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোঃ মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক, বিএসপি, জিইউপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, এসিএসসি, পিএসসি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মহড়ার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব এবং বেবিচকের সদস্য (প্রশাসন) এস এম লাবলুর রহমান। মহড়ার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মোঃ আসিফ ইকবাল, বিএসপি, বিইউপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, জিডি(পি)।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সকল অংশীজনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই ধরনের মহড়া কেবল সম্ভাব্য দুর্বলতা চিহ্নিত করতেই সহায়ক নয়, বরং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার করে যাত্রীসেবায় আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি মহড়ার সফলতাকে সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও দায়িত্বশীলতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও স্মরণ করেন যে, গত ১৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছিল, যার ফলে রাত ৯টার মধ্যেই বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুনরায় স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়েছিল।

প্রধান অতিথি আশা প্রকাশ করেন যে, চলতি বছর অনুষ্ঠিতব্য আইকাও নিরাপত্তা অডিটের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে এই ধরনের মহড়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও জানান যে, যশোর বিমানবন্দরের নতুন বহির্গমন টার্মিনাল ভবন ও নতুন এপ্রোনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বিদ্যমান রানওয়ের শক্তিবৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে রানওয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় আকারের বিমান নিরাপদে ওঠানামার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

মহড়ায় বেবিচকের কর্মকর্তাবৃন্দ, অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিবৃন্দ এবং গণমাধ্যমের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।