মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১০:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬

অভিবাসন সংকট মোকাবিলায় ইইউর জরুরি বৈঠক, সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে উত্তেজনা

স্পেনের ছিটমহল সেউতায় উদ্ভূত অভিবাসন সংকট এবং সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা নিরসনের লক্ষ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) একটি জরুরি বৈঠকের আয়োজন করেছে। আগামী মঙ্গলবার এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি রবিবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে মরক্কো থেকে বিপুল সংখ্যক প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসী সেউতায় প্রবেশ করেন, যা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করে তোলে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, ইইউর বহিঃসীমান্ত সুরক্ষিত করা এবং একটি সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সদস্যরাষ্ট্রগুলোর পক্ষ থেকে একটি যৌথ চিঠির মাধ্যমে আহ্বান জানানো হয়েছে। ২২ জন ইইউ নেতার স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে যে, অবৈধ প্রবেশের সহজলভ্যতার ধারণা ইউরোপজুড়ে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং এটি অভিবাসীদের আরও উৎসাহিত করবে, যা ইইউর যৌথ নীতির উপর আস্থাকে ক্ষুণ্ন করবে।

চিঠিটি ইইউ প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন এবং বর্তমানে ইইউ কাউন্সিলের সভাপতিত্বকারী আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনকে উদ্দেশ্য করে লেখা হয়েছে। এই চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে নেদারল্যান্ডস, ফিনল্যান্ড এবং বেলজিয়ামের শীর্ষ নেতারাও রয়েছেন। সীমান্ত পারাপারের এই আকস্মিক স্রোতে কমপক্ষে ৬৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যদিও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে ৩০ জুলাই সেউতায় পৌঁছানো ব্যক্তিদের প্রায় সকলেই ইতিমধ্যে ফিরে গেছেন।

এই সংকটকে কেন্দ্র করে ইইউ সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতালি সাময়িকভাবে স্পেনের সঙ্গে শেনজেন চুক্তি এক মাসের জন্য স্থগিত করেছে, যা ফিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক সমর্থন জানিয়েছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির এই সিদ্ধান্তকে তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্পেন একে ‘স্বার্থপর, বিভাজনমূলক ও বেআইনি’ বলে আখ্যা দিয়েছে। এছাড়াও, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স এবং পর্তুগাল তাদের সীমান্তে তল্লাশি জোরদার করার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্টকে লেখা একটি পৃথক চিঠিতে, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ কয়েকটি সদস্যরাষ্ট্রের ভূমিকার ওপর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, স্প্যানিশ সরকার ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে সীমান্তের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে, যা ইউরোপের দিকে অবৈধ অনুপ্রবেশের ঢল আটকাতে সহায়ক হয়েছে। স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মার্লাস্কা শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন যে, সেউতার পরিস্থিতি এখন প্রায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কুবির বিজয়-২৪ হলে সিট বণ্টনে নতুন বিতর্ক: ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে গণরুম ফেরানোর অভিযোগ

অভিবাসন সংকট মোকাবিলায় ইইউর জরুরি বৈঠক, সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে উত্তেজনা

আপডেট সময় : ০৮:১৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

স্পেনের ছিটমহল সেউতায় উদ্ভূত অভিবাসন সংকট এবং সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা নিরসনের লক্ষ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) একটি জরুরি বৈঠকের আয়োজন করেছে। আগামী মঙ্গলবার এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি রবিবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে মরক্কো থেকে বিপুল সংখ্যক প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসী সেউতায় প্রবেশ করেন, যা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করে তোলে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, ইইউর বহিঃসীমান্ত সুরক্ষিত করা এবং একটি সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সদস্যরাষ্ট্রগুলোর পক্ষ থেকে একটি যৌথ চিঠির মাধ্যমে আহ্বান জানানো হয়েছে। ২২ জন ইইউ নেতার স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে যে, অবৈধ প্রবেশের সহজলভ্যতার ধারণা ইউরোপজুড়ে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং এটি অভিবাসীদের আরও উৎসাহিত করবে, যা ইইউর যৌথ নীতির উপর আস্থাকে ক্ষুণ্ন করবে।

চিঠিটি ইইউ প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন এবং বর্তমানে ইইউ কাউন্সিলের সভাপতিত্বকারী আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনকে উদ্দেশ্য করে লেখা হয়েছে। এই চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে নেদারল্যান্ডস, ফিনল্যান্ড এবং বেলজিয়ামের শীর্ষ নেতারাও রয়েছেন। সীমান্ত পারাপারের এই আকস্মিক স্রোতে কমপক্ষে ৬৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যদিও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে ৩০ জুলাই সেউতায় পৌঁছানো ব্যক্তিদের প্রায় সকলেই ইতিমধ্যে ফিরে গেছেন।

এই সংকটকে কেন্দ্র করে ইইউ সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতালি সাময়িকভাবে স্পেনের সঙ্গে শেনজেন চুক্তি এক মাসের জন্য স্থগিত করেছে, যা ফিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক সমর্থন জানিয়েছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির এই সিদ্ধান্তকে তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্পেন একে ‘স্বার্থপর, বিভাজনমূলক ও বেআইনি’ বলে আখ্যা দিয়েছে। এছাড়াও, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স এবং পর্তুগাল তাদের সীমান্তে তল্লাশি জোরদার করার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্টকে লেখা একটি পৃথক চিঠিতে, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ কয়েকটি সদস্যরাষ্ট্রের ভূমিকার ওপর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, স্প্যানিশ সরকার ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে সীমান্তের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে, যা ইউরোপের দিকে অবৈধ অনুপ্রবেশের ঢল আটকাতে সহায়ক হয়েছে। স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মার্লাস্কা শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন যে, সেউতার পরিস্থিতি এখন প্রায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।