দেশের দুগ্ধশিল্পে বিশেষ অবদান রাখা খামারিদের সম্মান জানাতে একটি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে এক অনুষ্ঠানে ‘খাঁটি খামারি সম্মাননা ২০২৬’ শীর্ষক একটি ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো দুগ্ধশিল্পের টেকসই উন্নয়নে নিবেদিত খামারিদের নিরলস পরিশ্রম ও অবদানের স্বীকৃতি প্রদান করা। পাশাপাশি, তাদের অনুপ্রেরণামূলক গল্পগুলো সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সামনে তুলে ধরে দুগ্ধশিল্পের উন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করা।
অনুষ্ঠানে প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াছ মৃধা আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা স্মারক উন্মোচন করেন। আয়োজকরা জানান, এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে দেশের দুগ্ধশিল্পের বিকাশে যারা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের শ্রম ও নিষ্ঠাকে জনসমক্ষে তুলে ধরা হবে।
আগামী ১লা ফেব্রুয়ারি থেকে এই সম্মাননার জন্য দেশব্যাপী নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হবে। পাবনা, রংপুর, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, সাতক্ষীরা, খুলনা, যশোর, মাগুরা, কুড়িগ্রাম, নাটোরসহ বিভিন্ন জেলায় অবস্থিত প্রাণ ডেইরি’র ১২৪টি গ্রামীণ দুধ সংগ্রহ কেন্দ্রে (ভিএমসিসি) খামারিরা সরাসরি নিবন্ধন করতে পারবেন। প্রাণ ডেইরি’র তালিকাভুক্ত প্রায় ১৬ হাজার দুগ্ধ খামারি এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন।
প্রাথমিক নিবন্ধনের পর, প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ জুরিবোর্ড গঠন করা হবে। এই জুরিবোর্ড প্রাথমিকভাবে ১০ জন ‘খাঁটি খামারি’ নির্বাচন করবে। চূড়ান্ত পর্যায়ে জুরিবোর্ডের দেওয়া নম্বর এবং ভোক্তাদের ভোটের মাধ্যমে সেরা তিনজনকে ‘খাঁটি খামারি’ হিসেবে নির্বাচিত করা হবে। শীর্ষ তিন খামারির জন্য থাকবে সম্মাননা স্মারক ও লাখ টাকা সমমূল্যের আকর্ষণীয় পুরস্কার। এছাড়াও, নির্বাচিত বাকি সাতজন খামারিকেও বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হবে।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াছ মৃধা বলেন, “দুগ্ধশিল্পের অগ্রগতিতে খামারিদের অবদান অনস্বীকার্য। এই ক্যাম্পেইনের মধ্য দিয়ে আমরা তাদের সম্মানিত ও অনুপ্রাণিত করতে চাই। একই সঙ্গে, তাদের সফলতার গল্পগুলো তুলে ধরে অন্যদেরও গাভি লালন-পালনে উৎসাহিত করা আমাদের লক্ষ্য। ভোক্তাদের হাতে নিরাপদ ও মানসম্মত দুধ পৌঁছে দেওয়ার যে অঙ্গীকার আমাদের রয়েছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সেটিও সবার সামনে আরও স্পষ্ট হবে।”
প্রাণ ডেইরি’র চিফ অপারেটিং অফিসার মাকসুদুর রহমান জানান, “গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রাণ ডেইরি দেশের অসংখ্য খেটে খাওয়া খামারির পাশে রয়েছে। তাদের ন্যায্য মূল্য, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, ভেটেরিনারি চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা প্রদানের ফলে অধিকাংশ খামারির জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাণ এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার (মার্কেটিং) মো. আলী হাসান, প্রাণ ডেইরি’র হেড অব মার্কেটিং সৈয়দ মুস্তায়িন কাদের এবং ব্র্যান্ড ম্যানেজার ফজলে এলাহি নাঈমসহ প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
রিপোর্টারের নাম 























