মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১১:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬

প্রশাসনে দলীয় নিয়োগ বিতর্ক: ‘মার্কিন মডেল’ নিয়ে আলোচনা

জনপ্রশাসন ও বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক নিয়োগ নিয়ে বাংলাদেশে জোর বিতর্ক চলছে। এসব দলীয় নিয়োগের জেরে মার্কিন পদ্ধতির প্রশাসন নিয়ে ব্যাপক আলোচনাও হচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, দলীয় লোকদের রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের মডেল অনুসরণ করাই শ্রেয়।

সরকারের ১২টি সংস্থা, বোর্ড ও করপোরেশনের শীর্ষ পদে সম্প্রতি বিএনপি নেতাদের নিয়োগের পর এ আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যমান প্রশাসনে ঘুষ-দুর্নীতি, অনিয়ম, চাকরি শেষে কর্মকর্তাদের উন্নত রাষ্ট্রে থিতু হওয়ার মানসিকতা এবং সরকারের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে নীতিনির্ধারকদের মধ্যেও ব্যাপক অসন্তোষ রয়েছে।

ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরে তৈরি হওয়া অলিগার্ক শ্রেণি ও আওয়ামী প্রশাসনে নাকাল ছিল অন্তর্বর্তী সরকারও। সেই সরকারের উপদেষ্টারা চোরতান্ত্রিক প্রশাসনের বিদ্যমান কাঠামো ভাঙতে না পারার ব্যর্থতা স্বীকার করে বক্তব্যও দিয়েছেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত প্রশাসনিক সংস্কার কমিশনের সুপারিশ এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সিভিল সোসাইটির সদস্য, শিক্ষাবিদ ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশে কাঙ্ক্ষিত মানের সেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের বিদ্যমান কাঠামো ভেঙে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

প্রশাসনে রাজনৈতিক নেতাদের পুনর্বাসন ও বিভিন্ন স্তরে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগের বিষয়ে পরিসংখ্যান তুলে ধরে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জানান, দেশে মার্কিন পদ্ধতির সরকারের প্রসঙ্গটি বর্তমান সরকারের সময়ে বিশেষভাবে আলোচনায় আসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পদে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগের মাধ্যমে। এরপর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয় দলীয় অনুগতদের।

এছাড়াও দলীয় বিবেচনায় বর্তমান প্রশাসনের মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন সচিবসহ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া সিনিয়র সচিব, সচিব ও সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তার সংখ্যা ২২ জন। এর বাইরে সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিবসহ গ্রেড-২ পদমর্যাদার আরো ১২টি গুরুত্বপূর্ণ পদেও এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা পর্যন্ত চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের পরিধি উল্লেখযোগ্য বেড়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের জনপ্রশাসনে ‘মার্কিন পদ্ধতি’ প্রয়োগের প্রাসঙ্গিকতা এসেছ

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গুলিস্তান আন্ডারপাস পথচারীদের নয়, দোকানিদের দখলে: চরম দুর্ভোগ ও নিরাপত্তা সংকট

প্রশাসনে দলীয় নিয়োগ বিতর্ক: ‘মার্কিন মডেল’ নিয়ে আলোচনা

আপডেট সময় : ০৯:২৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

জনপ্রশাসন ও বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক নিয়োগ নিয়ে বাংলাদেশে জোর বিতর্ক চলছে। এসব দলীয় নিয়োগের জেরে মার্কিন পদ্ধতির প্রশাসন নিয়ে ব্যাপক আলোচনাও হচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, দলীয় লোকদের রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের মডেল অনুসরণ করাই শ্রেয়।

সরকারের ১২টি সংস্থা, বোর্ড ও করপোরেশনের শীর্ষ পদে সম্প্রতি বিএনপি নেতাদের নিয়োগের পর এ আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যমান প্রশাসনে ঘুষ-দুর্নীতি, অনিয়ম, চাকরি শেষে কর্মকর্তাদের উন্নত রাষ্ট্রে থিতু হওয়ার মানসিকতা এবং সরকারের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে নীতিনির্ধারকদের মধ্যেও ব্যাপক অসন্তোষ রয়েছে।

ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরে তৈরি হওয়া অলিগার্ক শ্রেণি ও আওয়ামী প্রশাসনে নাকাল ছিল অন্তর্বর্তী সরকারও। সেই সরকারের উপদেষ্টারা চোরতান্ত্রিক প্রশাসনের বিদ্যমান কাঠামো ভাঙতে না পারার ব্যর্থতা স্বীকার করে বক্তব্যও দিয়েছেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত প্রশাসনিক সংস্কার কমিশনের সুপারিশ এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সিভিল সোসাইটির সদস্য, শিক্ষাবিদ ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশে কাঙ্ক্ষিত মানের সেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের বিদ্যমান কাঠামো ভেঙে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

প্রশাসনে রাজনৈতিক নেতাদের পুনর্বাসন ও বিভিন্ন স্তরে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগের বিষয়ে পরিসংখ্যান তুলে ধরে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জানান, দেশে মার্কিন পদ্ধতির সরকারের প্রসঙ্গটি বর্তমান সরকারের সময়ে বিশেষভাবে আলোচনায় আসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পদে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগের মাধ্যমে। এরপর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয় দলীয় অনুগতদের।

এছাড়াও দলীয় বিবেচনায় বর্তমান প্রশাসনের মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন সচিবসহ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া সিনিয়র সচিব, সচিব ও সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তার সংখ্যা ২২ জন। এর বাইরে সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিবসহ গ্রেড-২ পদমর্যাদার আরো ১২টি গুরুত্বপূর্ণ পদেও এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা পর্যন্ত চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের পরিধি উল্লেখযোগ্য বেড়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের জনপ্রশাসনে ‘মার্কিন পদ্ধতি’ প্রয়োগের প্রাসঙ্গিকতা এসেছ