ঢাকা ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬

সিরাজগঞ্জে জমি ও নির্বাচন বিরোধে হত্যা: স্বামী-স্ত্রীসহ ১০ জনের যাবজ্জীবন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:১৬:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত বদিউজ্জামান হত্যা মামলায় স্বামী-স্ত্রী ও তাদের ছেলেসহ ১০ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক লায়লা শারমিন এই রায় ঘোষণা করেন।

আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) শামসুজ্জোহা শাহান শাহ জানান, রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত ১০ আসামির মধ্যে ৬ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকি ৪ জন পলাতক রয়েছেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন কামারখন্দ উপজেলার ময়নাকান্দি গ্রামের আবু সাঈদ, তার স্ত্রী আনোয়ারা বেগম, ছেলে মনির হোসেন, একই গ্রামের সাহেব উদ্দিন, সোহেল রানা, শাহজাহান মন্ডল, শফিকুল ইসলাম, এরশাদ শেখ, রমজান আলী ও আবুল কালাম আজাদ।

মামলার অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে বদিউজ্জামান ময়নাকান্দি গ্রামের দবির মন্ডলের ছেলে আলমের কাছ থেকে তিন শতক জমি দলিল মূলে ক্রয় করেন। কিন্তু প্রতিবেশী আবু সাঈদ ওই জমিতে বাড়ি নির্মাণ করে জোরপূর্বক দখল করে নেন। বদিউজ্জামান জমি ছেড়ে দেওয়ার কথা বললে আসামিরা তাকে হত্যার হুমকি দেয়। জমি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করলে আসামিরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

এর পাশাপাশি, বদিউজ্জামান ও আসামি আব্দুস ছাত্তার ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বার পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। নির্বাচনে পরাজিত হয়ে আব্দুস ছাত্তার তার পরাজয়ের জন্য বদিউজ্জামানকে দায়ী করেন। এভাবেই জমি সংক্রান্ত ও ইউপি নির্বাচন নিয়ে বদিউজ্জামান এবং আসামিদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছিল।

২০১১ সালের ২৪ জুন বদিউজ্জামান জমির কাগজপত্র নিয়ে সকালে আইনজীবীর অফিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর তিনি আর বাড়ি ফিরে আসেননি। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরের দিন, ২৫ জুন সকালে ময়নাকান্দি গ্রামের সাইফুল ইসলামের ঘুমচি ক্ষেতে বদিউজ্জামানের গলাকাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পরিবারকে খবর দেয়। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ শনাক্ত করেন।

এ ঘটনায় নিহত বদিউজ্জামানের স্ত্রী রতনা বেগম ওরফে সুফিয়া বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে কামারখন্দ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি পুলিশ ১০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশীট) দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ এই মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবাদিকতা শিক্ষার পথিকৃৎ অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান আর নেই

সিরাজগঞ্জে জমি ও নির্বাচন বিরোধে হত্যা: স্বামী-স্ত্রীসহ ১০ জনের যাবজ্জীবন

আপডেট সময় : ০৬:১৬:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত বদিউজ্জামান হত্যা মামলায় স্বামী-স্ত্রী ও তাদের ছেলেসহ ১০ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক লায়লা শারমিন এই রায় ঘোষণা করেন।

আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) শামসুজ্জোহা শাহান শাহ জানান, রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত ১০ আসামির মধ্যে ৬ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকি ৪ জন পলাতক রয়েছেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন কামারখন্দ উপজেলার ময়নাকান্দি গ্রামের আবু সাঈদ, তার স্ত্রী আনোয়ারা বেগম, ছেলে মনির হোসেন, একই গ্রামের সাহেব উদ্দিন, সোহেল রানা, শাহজাহান মন্ডল, শফিকুল ইসলাম, এরশাদ শেখ, রমজান আলী ও আবুল কালাম আজাদ।

মামলার অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে বদিউজ্জামান ময়নাকান্দি গ্রামের দবির মন্ডলের ছেলে আলমের কাছ থেকে তিন শতক জমি দলিল মূলে ক্রয় করেন। কিন্তু প্রতিবেশী আবু সাঈদ ওই জমিতে বাড়ি নির্মাণ করে জোরপূর্বক দখল করে নেন। বদিউজ্জামান জমি ছেড়ে দেওয়ার কথা বললে আসামিরা তাকে হত্যার হুমকি দেয়। জমি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করলে আসামিরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

এর পাশাপাশি, বদিউজ্জামান ও আসামি আব্দুস ছাত্তার ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বার পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। নির্বাচনে পরাজিত হয়ে আব্দুস ছাত্তার তার পরাজয়ের জন্য বদিউজ্জামানকে দায়ী করেন। এভাবেই জমি সংক্রান্ত ও ইউপি নির্বাচন নিয়ে বদিউজ্জামান এবং আসামিদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছিল।

২০১১ সালের ২৪ জুন বদিউজ্জামান জমির কাগজপত্র নিয়ে সকালে আইনজীবীর অফিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর তিনি আর বাড়ি ফিরে আসেননি। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরের দিন, ২৫ জুন সকালে ময়নাকান্দি গ্রামের সাইফুল ইসলামের ঘুমচি ক্ষেতে বদিউজ্জামানের গলাকাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পরিবারকে খবর দেয়। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ শনাক্ত করেন।

এ ঘটনায় নিহত বদিউজ্জামানের স্ত্রী রতনা বেগম ওরফে সুফিয়া বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে কামারখন্দ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি পুলিশ ১০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশীট) দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ এই মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।