মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের আসন্ন ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা এবং চা শিল্পে সৃষ্ট অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রতিবাদে চা-শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি পেশ করেছেন। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার ভাড়াউড়া চা বাগান থেকে প্রায় পাঁচ শতাধিক চা-শ্রমিকের অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি ভাড়াউড়া চা বাগান থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে ভানুগাছ সড়কস্থ শ্রীমঙ্গল বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
পরে, বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের প্রধান নির্বাচন কমিশন ও শ্রীমঙ্গলস্থ বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের উপ-পরিচালক মহব্বত হোসেনের মাধ্যমে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসলাম উদ্দিনের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কাছেও পৃথক একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে।
স্মারকলিপি প্রদানকালে বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পংকজ এ কন্দ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল, সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা, অর্থ সম্পাদক পরেশ কালিন্দী, কার্যকরী সভাপতি বৈশিষ্ঠ তাঁতী, সহ-সভাপতি জেসমিন আক্তার, সহ-সম্পাদক রেখা বাক্তি, বালিশিরা ভ্যালীর সাংগঠনিক সম্পাদক কর্ণ তাঁতী, সহ-সভাপতি সবিতা গোয়ালা এবং মনু ধলাই ভ্যালীর সম্পাদক নির্মল পাইনকা সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা বলেন, “আমরা একটি নির্বাচিত কমিটি। আমাদের কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আমরা নিয়মতান্ত্রিক নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করে আসছি। সাধারণ চা শ্রমিকদের দাবির প্রেক্ষিতে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের জন্য আমরা বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু একটি পক্ষ হঠাৎ করে নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টায় নেমেছে। সারাদেশের চা শ্রমিকরা যখন নির্বাচন চায়, তখন তারা নির্বাচন ছাড়াই জোরপূর্বক ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে আজ আমরা সরকারের উচ্চ পর্যায়ে স্মারকলিপি প্রদান করেছি।”
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের উপ-পরিচালক মহব্বত হোসেন বলেন, “চা শিল্প রক্ষায় আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করবো। শ্রমিকরা যে স্মারকলিপি দিয়েছেন, তা মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো হবে এবং তাদের দাবির বিষয়টি মৌখিকভাবেও জানানো হবে।”
রিপোর্টারের নাম 
























