ঢাকা ০২:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত: ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৫৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন করেছেন। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) এই প্রতিনিধিদল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

সাক্ষাৎকালে, বন্দর চেয়ারম্যান জুলাই গণ-অভ্যুত্থান–২০২৪ পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে চট্টগ্রাম বন্দরের উল্লেখযোগ্য অর্জনসমূহ মার্কিন প্রতিনিধিদলের সামনে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিগত সময়ে নানা ধরনের অনিয়ম, শ্রমিক অসন্তোষ, বিভিন্ন গোষ্ঠীর আধিপত্য, অগ্নিসংযোগের ঘটনা এবং ডিজিটালাইজেশনে বাধার মতো চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বন্দরটিতে যুগোপযোগী সংস্কার কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর ফলে, সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য হ্যান্ডলিংয়ে নতুন রেকর্ড স্থাপন, জাহাজের টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম ও ডুয়েল টাইম হ্রাস, পোর্ট লিমিট বৃদ্ধি, অভূতপূর্ব মুনাফা অর্জন, পানগাঁও আইসিটি ও লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালে বিদেশি অপারেটর নিয়োগ, বে টার্মিনাল ও মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন, ডিজিটালাইজেশন এবং ইউএস কোস্টগার্ড কর্তৃক আইএসপিএস অডিটে ‘জিরো অবজারভেশন’ অর্জনের মতো গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।

চেয়ারম্যান আরও জানান যে, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও বে টার্মিনাল চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দর আন্তর্জাতিকভাবে বিশ্বের বিভিন্ন বন্দরের সঙ্গে সরাসরি জাহাজ চলাচলের সক্ষমতা অর্জন করবে। এটি প্রতিবেশী দেশগুলোর পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার নৌ-বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে, যা দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে আমদানি করা রেফার কনটেইনার সংরক্ষণের জন্য কোল্ড চেইন ইন্ডাস্ট্রি স্থাপনে মার্কিন সরকারের আগ্রহকে বন্দর চেয়ারম্যান স্বাগত জানান। পাশাপাশি, তিনি রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন যে, বন্দরে শ্রমিক সংগঠনগুলোর ইতিবাচক ভূমিকার কারণে অপারেশনাল কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালিত হচ্ছে।

রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বন্দরটিকে আরও দক্ষ, আধুনিক এবং বিশ্বমানের হিসেবে গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। এছাড়াও, তিনি বাংলাদেশে বন্দর কেন্দ্রিক বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে প্রশিক্ষণ এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেন। পরিশেষে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে রপ্তানিকৃত পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বন্দরের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারকে ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব মির্জা ফখরুলের

চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত: ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন

আপডেট সময় : ০১:৫৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন করেছেন। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) এই প্রতিনিধিদল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

সাক্ষাৎকালে, বন্দর চেয়ারম্যান জুলাই গণ-অভ্যুত্থান–২০২৪ পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে চট্টগ্রাম বন্দরের উল্লেখযোগ্য অর্জনসমূহ মার্কিন প্রতিনিধিদলের সামনে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিগত সময়ে নানা ধরনের অনিয়ম, শ্রমিক অসন্তোষ, বিভিন্ন গোষ্ঠীর আধিপত্য, অগ্নিসংযোগের ঘটনা এবং ডিজিটালাইজেশনে বাধার মতো চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বন্দরটিতে যুগোপযোগী সংস্কার কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর ফলে, সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য হ্যান্ডলিংয়ে নতুন রেকর্ড স্থাপন, জাহাজের টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম ও ডুয়েল টাইম হ্রাস, পোর্ট লিমিট বৃদ্ধি, অভূতপূর্ব মুনাফা অর্জন, পানগাঁও আইসিটি ও লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালে বিদেশি অপারেটর নিয়োগ, বে টার্মিনাল ও মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন, ডিজিটালাইজেশন এবং ইউএস কোস্টগার্ড কর্তৃক আইএসপিএস অডিটে ‘জিরো অবজারভেশন’ অর্জনের মতো গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।

চেয়ারম্যান আরও জানান যে, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও বে টার্মিনাল চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দর আন্তর্জাতিকভাবে বিশ্বের বিভিন্ন বন্দরের সঙ্গে সরাসরি জাহাজ চলাচলের সক্ষমতা অর্জন করবে। এটি প্রতিবেশী দেশগুলোর পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার নৌ-বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে, যা দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে আমদানি করা রেফার কনটেইনার সংরক্ষণের জন্য কোল্ড চেইন ইন্ডাস্ট্রি স্থাপনে মার্কিন সরকারের আগ্রহকে বন্দর চেয়ারম্যান স্বাগত জানান। পাশাপাশি, তিনি রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন যে, বন্দরে শ্রমিক সংগঠনগুলোর ইতিবাচক ভূমিকার কারণে অপারেশনাল কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালিত হচ্ছে।

রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বন্দরটিকে আরও দক্ষ, আধুনিক এবং বিশ্বমানের হিসেবে গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। এছাড়াও, তিনি বাংলাদেশে বন্দর কেন্দ্রিক বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে প্রশিক্ষণ এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেন। পরিশেষে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে রপ্তানিকৃত পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বন্দরের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।