ভারতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর মতে, এই মুহূর্তে এআই-এর বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতায় ভারত কোনো শক্তিশালী অবস্থানে নেই এবং দেশীয় প্রযুক্তির উৎপাদনও যথেষ্ট নয়। তিনি অভিযোগ করেছেন, সাম্প্রতিক ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে দেশের মূল্যবান ডেটা যুক্তরাষ্ট্রের হাতে চলে যাচ্ছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক।
গত বৃহস্পতিবার কেরালায় এক কলেজ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে রাহুল গান্ধী এসব মন্তব্য করেন। তিনি ভারতের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেন, অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, শিক্ষা খাতে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রভাব বাড়ছে এবং একটি নির্দিষ্ট মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর।
লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে রাহুল গান্ধী বলেন, এআই প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনই প্রধান দুই শক্তি। তিনি পরোক্ষভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এআই-কে কেন্দ্র করে ভারতকে বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে গড়ে তোলার বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, কোনো দেশ এআই-তে শক্তিশালী হতে হলে নিজস্ব ডেটার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকা জরুরি। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, হোয়াটসঅ্যাপের মতো প্ল্যাটফর্মে তৈরি হওয়া ডেটা ভারতের নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকে। বিপরীতে, চীন নিজেদের ডেটা সুরক্ষায় সফল হয়েছে।
রাহুল গান্ধী সতর্ক করে বলেন, ভারত যদি নিজস্ব ডেটা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয় এবং উৎপাদন খাতে শক্তিশালী না হতে পারে, তবে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সমস্যায় পড়বে। তিনি দেশের বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর সমালোচনা করে বলেন, তারা মূলত বিদেশি পণ্য বিক্রির ব্যবসায় বেশি জড়িত।
বিশ্বজুড়ে এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার এবং এর ফলে কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনাও রাহুল গান্ধীকে উদ্বিগ্ন করেছে। তিনি ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও সমালোচনা করেন এবং দাবি করেন, এই চুক্তির ফলে দেশের কৃষক ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 























