ঢাকা ০২:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬

সীতাকুণ্ডে মাটিখেকো চক্রের দৌরাত্ম্য: ফসলি জমি ধ্বংস, পরিবেশ বিপন্ন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় এক ভয়াবহ চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। একশ্রেণীর অসাধু চক্র ফসলি জমির উর্বর মাটি কেটে রাতের অন্ধকারে বা প্রকাশ্য দিবালোকে ট্রাক ও ডাম্পারে করে অন্যত্র বিক্রি করে দিচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন তিন ফসলি কৃষিজমি দ্রুত উর্বরতা হারাচ্ছে, তেমনি কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় পরিবেশের ওপরও এর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে দিনে-দুপুরে স্কেভেটর মেশিন ব্যবহার করে কৃষিজমির টপ সয়েল কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে, যেমন বালু উত্তোলন, পুকুর ভরাট, কৃষিজমি ও সরকারি খাস জমি ভরাট করার কাজে। এই অনিয়ন্ত্রিত কর্মকাণ্ডের ফলে কৃষিব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে।

সম্প্রতি, শনিবার দুপুরে উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের নডালিয়া এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের একটি বিশেষ অভিযানে অবৈধভাবে কৃষিজমির মাটি কাটা ও পরিবহনের সঙ্গে জড়িত দুজন ব্যক্তিকে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সীতাকুণ্ড উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে মাটি কাটার কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী, গাড়িচালক কাউছার হোসেন সাকিব ও আব্দুল মোতালেবকে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

এ বিষয়ে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন দৃঢ়ভাবে বলেন, “ফসলি জমির উর্বর মাটি কেটে বিক্রি করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষায় এই ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের অভিযান সত্ত্বেও প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন এলাকায় এখনো কৃষিজমি কাটা ও ভরাট করার মতো অবৈধ কর্মকাণ্ড চলছে। এতে একদিকে যেমন কৃষিজমির পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমছে, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্যও চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

সম্প্রতি বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের এসকেএম জুট মিল এলাকায় মহাসড়কের পাশের জায়গা দখল করে পুকুর ভরাট এবং দিনের বেলায় কৃষিজমি ভরাটের মতো ঘটনাও ঘটেছে। একইভাবে, বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের আরআর জুট মিল এলাকায় একটি কারখানার নাম ব্যবহার করে প্রকাশ্যেই বালু দিয়ে ফসলি জমি ভরাট করা হচ্ছে। অন্যদিকে, সৈয়দপুর ইউনিয়নে সাগর থেকে বালু উত্তোলন করে প্রায় অর্ধশত একর খাস জমি ভরাটের ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এছাড়াও, সৈয়দপুর ও বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে স্কেভেটর ব্যবহার করে ফসল নষ্ট করে জমির উর্বর মাটি কেটে ট্রাকে করে অন্যত্র বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড চললেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি ও কঠোর পদক্ষেপের অভাবে অসাধু চক্রগুলো আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এর ফলে একদিকে যেমন কৃষিজমি ধ্বংস হচ্ছে, তেমনি পরিবেশের ভারসাম্যও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

এই পরিস্থিতিতে, এলাকাবাসী অবৈধভাবে ফসলি জমি কাটা, বালু উত্তোলন ও জমি ভরাট বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি, নিয়মিত অভিযান এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারকে ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব মির্জা ফখরুলের

সীতাকুণ্ডে মাটিখেকো চক্রের দৌরাত্ম্য: ফসলি জমি ধ্বংস, পরিবেশ বিপন্ন

আপডেট সময় : ০১:০৪:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় এক ভয়াবহ চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। একশ্রেণীর অসাধু চক্র ফসলি জমির উর্বর মাটি কেটে রাতের অন্ধকারে বা প্রকাশ্য দিবালোকে ট্রাক ও ডাম্পারে করে অন্যত্র বিক্রি করে দিচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন তিন ফসলি কৃষিজমি দ্রুত উর্বরতা হারাচ্ছে, তেমনি কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় পরিবেশের ওপরও এর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে দিনে-দুপুরে স্কেভেটর মেশিন ব্যবহার করে কৃষিজমির টপ সয়েল কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে, যেমন বালু উত্তোলন, পুকুর ভরাট, কৃষিজমি ও সরকারি খাস জমি ভরাট করার কাজে। এই অনিয়ন্ত্রিত কর্মকাণ্ডের ফলে কৃষিব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে।

সম্প্রতি, শনিবার দুপুরে উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের নডালিয়া এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের একটি বিশেষ অভিযানে অবৈধভাবে কৃষিজমির মাটি কাটা ও পরিবহনের সঙ্গে জড়িত দুজন ব্যক্তিকে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সীতাকুণ্ড উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে মাটি কাটার কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী, গাড়িচালক কাউছার হোসেন সাকিব ও আব্দুল মোতালেবকে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

এ বিষয়ে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন দৃঢ়ভাবে বলেন, “ফসলি জমির উর্বর মাটি কেটে বিক্রি করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষায় এই ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের অভিযান সত্ত্বেও প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন এলাকায় এখনো কৃষিজমি কাটা ও ভরাট করার মতো অবৈধ কর্মকাণ্ড চলছে। এতে একদিকে যেমন কৃষিজমির পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমছে, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্যও চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

সম্প্রতি বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের এসকেএম জুট মিল এলাকায় মহাসড়কের পাশের জায়গা দখল করে পুকুর ভরাট এবং দিনের বেলায় কৃষিজমি ভরাটের মতো ঘটনাও ঘটেছে। একইভাবে, বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের আরআর জুট মিল এলাকায় একটি কারখানার নাম ব্যবহার করে প্রকাশ্যেই বালু দিয়ে ফসলি জমি ভরাট করা হচ্ছে। অন্যদিকে, সৈয়দপুর ইউনিয়নে সাগর থেকে বালু উত্তোলন করে প্রায় অর্ধশত একর খাস জমি ভরাটের ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এছাড়াও, সৈয়দপুর ও বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে স্কেভেটর ব্যবহার করে ফসল নষ্ট করে জমির উর্বর মাটি কেটে ট্রাকে করে অন্যত্র বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড চললেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি ও কঠোর পদক্ষেপের অভাবে অসাধু চক্রগুলো আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এর ফলে একদিকে যেমন কৃষিজমি ধ্বংস হচ্ছে, তেমনি পরিবেশের ভারসাম্যও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

এই পরিস্থিতিতে, এলাকাবাসী অবৈধভাবে ফসলি জমি কাটা, বালু উত্তোলন ও জমি ভরাট বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি, নিয়মিত অভিযান এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছে।