ঢাকা ০৯:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অস্ত্র দেখিয়ে শিক্ষার্থী ছিনতাই, ছাত্রদল নেতার সংশ্লিষ্টতা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৫৬:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একদল ছিনতাইকারী স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের চার শিক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রায় ৩০ হাজার টাকা ছিনতাই করেছে। এ সময় ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত এবং অন্যদের মারধর করা হয়। ঘটনার সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা আরিফ ফয়সালের জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে।

রবিবার (২৫ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উদ্যানের রমনা পার্ক সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী চার শিক্ষার্থী হলেন সৌরভ হাসান, মিফতাহুল শাহরিয়ার নিয়াজ, দিয়ান পারভেজ এবং মাহি ইসলাম। তারা সবাই স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, তারা উদ্যানের ভেতর দিয়ে রমনার দিকে হাঁটছিলেন। এ সময় কয়েকজন যুবক তাদের পথ আটকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় জানতে চায় এবং পরে তাদের বসতে বাধ্য করে। একপর্যায়ে তাদের সাথে বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং মিফতাহুল শাহরিয়ার নিয়াজকে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার চোখ ও কপালে জখম হয় এবং রক্তপাত শুরু হয়। অন্য তিন শিক্ষার্থীকে গাছের ডাল দিয়ে মারধর করা হয়।

ছিনতাইকারীরা শিক্ষার্থীদের মানিব্যাগ, মোবাইল ফোন, বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্ট তল্লাশি করে। তারা ভয় দেখিয়ে ‘প্রলয় গ্যাং’ পরিচয়ে পুলিশে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নগদ অ্যাকাউন্ট থেকে ১৫ হাজার টাকা এবং হাতে থাকা আরও ১৫ হাজার টাকা, মোট ৩০ হাজার টাকা ছিনতাই করা হয়। ছিনতাইকারীরা জোরপূর্বক ক্যাশআউট করা অর্থ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্য সেন হল এলাকার একটি নগদ এজেন্ট নম্বরে পাঠায়।

ঘটনার পর লেনদেনকৃত দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, রাত ৮টা ৬ মিনিটে অভিযুক্ত আরিফ ফয়সাল দোকানে আসেন এবং ১৫ হাজার টাকা সংগ্রহ করে রাত ৮টা ৮ মিনিটে চলে যান। তার মোবাইল ফোনে কথোপকথন থেকেও বোঝা যায় যে তিনি পরিচিতদের সাথে কথা বলছিলেন।

জিজ্ঞাসাবাদে আরিফ ফয়সাল জানান, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের কমিউনিকেশন ডিজঅর্ডার বিভাগের শিক্ষার্থী এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর-৩ আসনের ছাত্রদলের নির্বাচন সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক ছিলেন। তিনি স্বীকার করেন যে তার এক বন্ধু টাকা পাঠানোর জন্য নম্বর চেয়েছিল এবং তিনি টাকা সংগ্রহ করেছিলেন, কিন্তু তখন পুরো ঘটনার বিস্তারিত জানতেন না। পরে তিনি ভুক্তভোগীদের সাথে দেখা করে বিষয়টি ‘সমাধান’ করার চেষ্টা করেছেন বলে জানান।

সরাসরি ছিনতাইয়ের সাথে জড়িতদের বিষয়ে জানতে চাইলে আরিফ ফয়সাল সাংবাদিকদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হলে যেতে বলেন। তবে সেখানে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি এবং পরবর্তীতে ফোনেও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তার রুমমেট ও হল সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, তিনি ঘটনার পর থেকে হলে আসেননি এবং ফোনও বন্ধ রেখেছেন।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস জানান, তিনি এ বিষয়ে অবগত নন এবং ছিনতাইকারী যে দলেরই হোক, তাদের আইনের আওতায় আনা উচিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমদ জানান, তারা এ ঘটনা সম্পর্কে অবগত নন এবং এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তারাগঞ্জে পাচারকালে ৪০০ লিটার পেট্রোল জব্দ, আটক ১

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অস্ত্র দেখিয়ে শিক্ষার্থী ছিনতাই, ছাত্রদল নেতার সংশ্লিষ্টতা

আপডেট সময় : ১২:৫৬:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একদল ছিনতাইকারী স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের চার শিক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রায় ৩০ হাজার টাকা ছিনতাই করেছে। এ সময় ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত এবং অন্যদের মারধর করা হয়। ঘটনার সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা আরিফ ফয়সালের জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে।

রবিবার (২৫ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উদ্যানের রমনা পার্ক সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী চার শিক্ষার্থী হলেন সৌরভ হাসান, মিফতাহুল শাহরিয়ার নিয়াজ, দিয়ান পারভেজ এবং মাহি ইসলাম। তারা সবাই স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, তারা উদ্যানের ভেতর দিয়ে রমনার দিকে হাঁটছিলেন। এ সময় কয়েকজন যুবক তাদের পথ আটকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় জানতে চায় এবং পরে তাদের বসতে বাধ্য করে। একপর্যায়ে তাদের সাথে বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং মিফতাহুল শাহরিয়ার নিয়াজকে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার চোখ ও কপালে জখম হয় এবং রক্তপাত শুরু হয়। অন্য তিন শিক্ষার্থীকে গাছের ডাল দিয়ে মারধর করা হয়।

ছিনতাইকারীরা শিক্ষার্থীদের মানিব্যাগ, মোবাইল ফোন, বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্ট তল্লাশি করে। তারা ভয় দেখিয়ে ‘প্রলয় গ্যাং’ পরিচয়ে পুলিশে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নগদ অ্যাকাউন্ট থেকে ১৫ হাজার টাকা এবং হাতে থাকা আরও ১৫ হাজার টাকা, মোট ৩০ হাজার টাকা ছিনতাই করা হয়। ছিনতাইকারীরা জোরপূর্বক ক্যাশআউট করা অর্থ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্য সেন হল এলাকার একটি নগদ এজেন্ট নম্বরে পাঠায়।

ঘটনার পর লেনদেনকৃত দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, রাত ৮টা ৬ মিনিটে অভিযুক্ত আরিফ ফয়সাল দোকানে আসেন এবং ১৫ হাজার টাকা সংগ্রহ করে রাত ৮টা ৮ মিনিটে চলে যান। তার মোবাইল ফোনে কথোপকথন থেকেও বোঝা যায় যে তিনি পরিচিতদের সাথে কথা বলছিলেন।

জিজ্ঞাসাবাদে আরিফ ফয়সাল জানান, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের কমিউনিকেশন ডিজঅর্ডার বিভাগের শিক্ষার্থী এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর-৩ আসনের ছাত্রদলের নির্বাচন সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক ছিলেন। তিনি স্বীকার করেন যে তার এক বন্ধু টাকা পাঠানোর জন্য নম্বর চেয়েছিল এবং তিনি টাকা সংগ্রহ করেছিলেন, কিন্তু তখন পুরো ঘটনার বিস্তারিত জানতেন না। পরে তিনি ভুক্তভোগীদের সাথে দেখা করে বিষয়টি ‘সমাধান’ করার চেষ্টা করেছেন বলে জানান।

সরাসরি ছিনতাইয়ের সাথে জড়িতদের বিষয়ে জানতে চাইলে আরিফ ফয়সাল সাংবাদিকদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হলে যেতে বলেন। তবে সেখানে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি এবং পরবর্তীতে ফোনেও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তার রুমমেট ও হল সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, তিনি ঘটনার পর থেকে হলে আসেননি এবং ফোনও বন্ধ রেখেছেন।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস জানান, তিনি এ বিষয়ে অবগত নন এবং ছিনতাইকারী যে দলেরই হোক, তাদের আইনের আওতায় আনা উচিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমদ জানান, তারা এ ঘটনা সম্পর্কে অবগত নন এবং এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।