ঢাকা ০৯:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিক ইস্যুতে ইসির অভিমুখে জুলাই ঐক্যের পদযাত্রা: ১৪ দল ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি

ঋণখেলাপি, দ্বৈত নাগরিক, জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবিতে মঙ্গলবার (তারিখ) নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করবে জুলাই ঐক্য। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে জুলাই ঐক্যের সংগঠক প্লাবন তারিক জানান, আসন্ন নির্বাচনে ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের অংশগ্রহণের বৈধতা দেওয়ার প্রতিবাদে এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির পরিপ্রেক্ষিতে এই পদযাত্রা আয়োজন করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জুলাই ঐক্যের আরেক সংগঠক ইসরাফিল ফরাজী অভিযোগ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাষ্ট্রের আইন উপেক্ষা করে ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের নির্বাচনে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সহ বিভিন্ন আইনে ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুনির্দিষ্ট বাধা থাকা সত্ত্বেও কমপক্ষে ৪৫ জন ঋণখেলাপি প্রার্থী এবার অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। অথচ একই ধরনের অভিযোগে ৬৮ জনকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফরাজী দাবি করেন, নির্বাচন কমিশন নিজেদের মনমতো মনোনয়নের বৈধতা দিচ্ছে। যারা রাষ্ট্রের অর্থ আত্মসাৎ করেছে, তাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া এবং গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে তাদের ভোট দিতে বাধ্য হওয়া সাংঘর্ষিক। তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি করে দেশের টাকা বিদেশে পাচার করে যারা আশ্রয় নিয়েছে, সেই দ্বৈত নাগরিকদেরও বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

লিখিত বক্তব্যে ইসরাফিল ফরাজী উল্লেখ করেন, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে সরাসরি গণহত্যার সঙ্গে জড়িত এবং সংস্কারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার দাবিতে জুলাই ঐক্য গত দুই মাস ধরে আন্দোলন করে আসছে। এই বিষয়ে হাইকোর্টে রিট এবং নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রা ও স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন গণহত্যাকারীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে। জুলাই ঐক্য নির্বাচন কমিশনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, অবিলম্বে জাতীয় পার্টি, এনডিএফসহ ১৪ দল ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের মনোনয়ন বাতিল করতে হবে। অন্যথায় দেশের সাধারণ ছাত্রজনতা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে তার সব দায়ভার নির্বাচন কমিশনকে বহন করতে হবে।

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার প্রসঙ্গে ফরাজী বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রচারের সময় রাজধানীতে জুলাই ঐক্যের অন্যতম সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত খুনিকে গ্রেপ্তার বা মামলার দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না, সেনাবাহিনী মাঠে থাকলেও কোনো অভিযান পরিচালিত হচ্ছে না। তিনি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার আচরণকে “বসন্তের কুকিলের মতো” আখ্যা দিয়ে বলেন, এর ফলে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে। জুলাই ঐক্য অবিলম্বে দাবি জানিয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা জাতির সামনে প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে সব ক্ষেত্রে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যত প্রকার বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে, তার সব দায়-দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বহন করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন জুলাই ঐক্যের সংগঠক জয়নাল আবেদিন শিশির ও মুন্সি বুরহান মাহমুদ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তারাগঞ্জে পাচারকালে ৪০০ লিটার পেট্রোল জব্দ, আটক ১

ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিক ইস্যুতে ইসির অভিমুখে জুলাই ঐক্যের পদযাত্রা: ১৪ দল ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি

আপডেট সময় : ০৯:০৪:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

ঋণখেলাপি, দ্বৈত নাগরিক, জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবিতে মঙ্গলবার (তারিখ) নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করবে জুলাই ঐক্য। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে জুলাই ঐক্যের সংগঠক প্লাবন তারিক জানান, আসন্ন নির্বাচনে ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের অংশগ্রহণের বৈধতা দেওয়ার প্রতিবাদে এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির পরিপ্রেক্ষিতে এই পদযাত্রা আয়োজন করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জুলাই ঐক্যের আরেক সংগঠক ইসরাফিল ফরাজী অভিযোগ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাষ্ট্রের আইন উপেক্ষা করে ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের নির্বাচনে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সহ বিভিন্ন আইনে ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুনির্দিষ্ট বাধা থাকা সত্ত্বেও কমপক্ষে ৪৫ জন ঋণখেলাপি প্রার্থী এবার অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। অথচ একই ধরনের অভিযোগে ৬৮ জনকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফরাজী দাবি করেন, নির্বাচন কমিশন নিজেদের মনমতো মনোনয়নের বৈধতা দিচ্ছে। যারা রাষ্ট্রের অর্থ আত্মসাৎ করেছে, তাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া এবং গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে তাদের ভোট দিতে বাধ্য হওয়া সাংঘর্ষিক। তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি করে দেশের টাকা বিদেশে পাচার করে যারা আশ্রয় নিয়েছে, সেই দ্বৈত নাগরিকদেরও বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

লিখিত বক্তব্যে ইসরাফিল ফরাজী উল্লেখ করেন, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে সরাসরি গণহত্যার সঙ্গে জড়িত এবং সংস্কারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার দাবিতে জুলাই ঐক্য গত দুই মাস ধরে আন্দোলন করে আসছে। এই বিষয়ে হাইকোর্টে রিট এবং নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রা ও স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন গণহত্যাকারীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে। জুলাই ঐক্য নির্বাচন কমিশনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, অবিলম্বে জাতীয় পার্টি, এনডিএফসহ ১৪ দল ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের মনোনয়ন বাতিল করতে হবে। অন্যথায় দেশের সাধারণ ছাত্রজনতা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে তার সব দায়ভার নির্বাচন কমিশনকে বহন করতে হবে।

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার প্রসঙ্গে ফরাজী বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রচারের সময় রাজধানীতে জুলাই ঐক্যের অন্যতম সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত খুনিকে গ্রেপ্তার বা মামলার দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না, সেনাবাহিনী মাঠে থাকলেও কোনো অভিযান পরিচালিত হচ্ছে না। তিনি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার আচরণকে “বসন্তের কুকিলের মতো” আখ্যা দিয়ে বলেন, এর ফলে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে। জুলাই ঐক্য অবিলম্বে দাবি জানিয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা জাতির সামনে প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে সব ক্ষেত্রে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যত প্রকার বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে, তার সব দায়-দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বহন করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন জুলাই ঐক্যের সংগঠক জয়নাল আবেদিন শিশির ও মুন্সি বুরহান মাহমুদ।