ঢাকা ০৪:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

মিয়ানমারে শেষ দফার ভোটগ্রহণ, জান্তাসমর্থিত দলের বড় জয়ের পূর্বাভাস

মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত মাসব্যাপী জাতীয় নির্বাচনের চূড়ান্ত পর্বের ভোটগ্রহণ আজ রোববার সম্পন্ন হচ্ছে। সামরিক জান্তার অধীনে আয়োজিত এই নির্বাচনে সেনাবাহিনী-সমর্থিত দলটির নিরঙ্কুশ জয় প্রায় নিশ্চিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সমালোচকদের মতে, এই নির্বাচনের মূল উদ্দেশ্য হলো সামরিক শাসনকে আরও দীর্ঘায়িত করার জন্য একটি বেসামরিক বৈধতার আড়াল তৈরি করা।

প্রায় এক দশক ধরে বেসামরিক সংস্কারের পথে এগোলেও, ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়া রুদ্ধ হয়ে যায়। গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চিকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই দেশটিতে গৃহযুদ্ধ এবং গভীর মানবিক সংকট বিরাজ করছে।

ইয়াঙ্গুন থেকে প্রাপ্ত সংবাদ অনুযায়ী, সামরিক অভ্যুত্থানের পাঁচ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই নির্বাচনের তৃতীয় ও শেষ দফার ভোটগ্রহণ আজ ভোর ৬টায় শুরু হয়েছে। তবে, বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে থাকা বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়নি।

সেনাবাহিনী জনগণের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিলেও, অং সান সু চিকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখা এবং তার দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) বিলুপ্ত ঘোষণা করার কারণে গণতন্ত্রপন্থীরা নির্বাচনটিকে সামরিক বাহিনীর মিত্রদের পক্ষে সাজানো বলে অভিযোগ করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইয়াঙ্গুনের একজন বাসিন্দা বলেছেন, “এই নির্বাচন থেকে আমার কোনো প্রত্যাশা নেই। আমার মনে হয় পরিস্থিতি আগের মতোই থাকবে।”

বিশ্লেষকদের মতে, ‘ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি’ (ইউএসডিপি) মূলত সামরিক বাহিনীর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত একটি দল, যেখানে সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের প্রভাব অত্যন্ত বেশি। নির্বাচনের প্রথম দুই ধাপে দলটি নিম্নকক্ষের প্রায় ৮৫ শতাংশ এবং উচ্চকক্ষের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভ করেছে।

এছাড়াও, সামরিক বাহিনী প্রণীত সংবিধান অনুযায়ী, সংসদের উভয় কক্ষের ২৫ শতাংশ আসন সরাসরি সেনাবাহিনীর জন্য সংরক্ষিত। নবনির্বাচিত সংসদ পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে, যেখানে জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং নিজেও প্রার্থী হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জান্তা সরকার তাদের শাসনকে বেসামরিক বৈধতা প্রদানের চেষ্টা করছে। তবে, কিছু সাধারণ ভোটার ভিন্নভাবে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। ইয়াঙ্গুনের একজন নারী ভোটার জানিয়েছেন, তিনি ইউএসডিপি ছাড়া অন্য যেকোনো দলকে ভোট দেবেন। তিনি বলেন, “আমি জানি শেষ পর্যন্ত কী হবে, তবুও আমার ভোটের মাধ্যমে তাদের পরিকল্পনায় সামান্য হলেও বাধা দিতে চাই।”

নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে প্রকাশিত হওয়ার কথা থাকলেও, সোমবারই ইউএসডিপি তাদের বিজয় ঘোষণা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের নির্বাচনে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন এনএলডি বিপুল বিজয় লাভ করেছিল। কিন্তু ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি, নির্বাচনের কারচুপির অভিযোগ তুলে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করে। বর্তমানে ৮০ বছর বয়সী নোবেল বিজয়ী নেত্রী অং সান সু চি অজ্ঞাত স্থানে বন্দি রয়েছেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, তাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় আটকে রাখা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ডিজেল সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি: বিপাকে দেশের কৃষক সমাজ ও খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি

মিয়ানমারে শেষ দফার ভোটগ্রহণ, জান্তাসমর্থিত দলের বড় জয়ের পূর্বাভাস

আপডেট সময় : ০২:২০:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত মাসব্যাপী জাতীয় নির্বাচনের চূড়ান্ত পর্বের ভোটগ্রহণ আজ রোববার সম্পন্ন হচ্ছে। সামরিক জান্তার অধীনে আয়োজিত এই নির্বাচনে সেনাবাহিনী-সমর্থিত দলটির নিরঙ্কুশ জয় প্রায় নিশ্চিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সমালোচকদের মতে, এই নির্বাচনের মূল উদ্দেশ্য হলো সামরিক শাসনকে আরও দীর্ঘায়িত করার জন্য একটি বেসামরিক বৈধতার আড়াল তৈরি করা।

প্রায় এক দশক ধরে বেসামরিক সংস্কারের পথে এগোলেও, ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়া রুদ্ধ হয়ে যায়। গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চিকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই দেশটিতে গৃহযুদ্ধ এবং গভীর মানবিক সংকট বিরাজ করছে।

ইয়াঙ্গুন থেকে প্রাপ্ত সংবাদ অনুযায়ী, সামরিক অভ্যুত্থানের পাঁচ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই নির্বাচনের তৃতীয় ও শেষ দফার ভোটগ্রহণ আজ ভোর ৬টায় শুরু হয়েছে। তবে, বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে থাকা বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়নি।

সেনাবাহিনী জনগণের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিলেও, অং সান সু চিকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখা এবং তার দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) বিলুপ্ত ঘোষণা করার কারণে গণতন্ত্রপন্থীরা নির্বাচনটিকে সামরিক বাহিনীর মিত্রদের পক্ষে সাজানো বলে অভিযোগ করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইয়াঙ্গুনের একজন বাসিন্দা বলেছেন, “এই নির্বাচন থেকে আমার কোনো প্রত্যাশা নেই। আমার মনে হয় পরিস্থিতি আগের মতোই থাকবে।”

বিশ্লেষকদের মতে, ‘ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি’ (ইউএসডিপি) মূলত সামরিক বাহিনীর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত একটি দল, যেখানে সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের প্রভাব অত্যন্ত বেশি। নির্বাচনের প্রথম দুই ধাপে দলটি নিম্নকক্ষের প্রায় ৮৫ শতাংশ এবং উচ্চকক্ষের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভ করেছে।

এছাড়াও, সামরিক বাহিনী প্রণীত সংবিধান অনুযায়ী, সংসদের উভয় কক্ষের ২৫ শতাংশ আসন সরাসরি সেনাবাহিনীর জন্য সংরক্ষিত। নবনির্বাচিত সংসদ পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে, যেখানে জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং নিজেও প্রার্থী হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জান্তা সরকার তাদের শাসনকে বেসামরিক বৈধতা প্রদানের চেষ্টা করছে। তবে, কিছু সাধারণ ভোটার ভিন্নভাবে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। ইয়াঙ্গুনের একজন নারী ভোটার জানিয়েছেন, তিনি ইউএসডিপি ছাড়া অন্য যেকোনো দলকে ভোট দেবেন। তিনি বলেন, “আমি জানি শেষ পর্যন্ত কী হবে, তবুও আমার ভোটের মাধ্যমে তাদের পরিকল্পনায় সামান্য হলেও বাধা দিতে চাই।”

নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে প্রকাশিত হওয়ার কথা থাকলেও, সোমবারই ইউএসডিপি তাদের বিজয় ঘোষণা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের নির্বাচনে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন এনএলডি বিপুল বিজয় লাভ করেছিল। কিন্তু ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি, নির্বাচনের কারচুপির অভিযোগ তুলে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করে। বর্তমানে ৮০ বছর বয়সী নোবেল বিজয়ী নেত্রী অং সান সু চি অজ্ঞাত স্থানে বন্দি রয়েছেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, তাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় আটকে রাখা হয়েছে।