লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের চেষ্টাকালে এক মানবপাচারকারীসহ তিন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গত শুক্রবার রাতে দহগ্রাম ইউনিয়নের আঙ্গরপোতা এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। আটককৃতদের মধ্যে একজন মানবপাচার চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং বাকি দুজন পাচারের শিকার ব্যক্তি।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে আঙ্গরপোতা বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ডিএএমপি-১ প্রধান পিলার ও উপ-পিলার ৮-এর নিকট দিয়ে এক ব্যক্তি ও এক শিশুকে ভারতে পাচারের চেষ্টা চলছিল। এ সময় আঙ্গরপোতা বিজিবি ক্যাম্পের টহলদল অভিযান চালিয়ে দহগ্রামের মিস্ত্রিপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৫ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তর থেকে তাদের আটক করে।
আটককৃতরা হলেন— পাটগ্রাম পৌরসভার বেংকান্দা এলাকার মানবপাচারকারী সুজন দাস (৩০), পাচারের শিকার হাতীবান্ধা উপজেলার পুরাতন কাচারী গাওচুল্কা এলাকার হেমন্ত দাস (২৫) এবং শিশু বলরাম রায় (১২)।
রংপুর-৫১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, পাটগ্রাম উপজেলার একটি মানবপাচারকারী চক্রের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের এই চুক্তি হয়েছিল। আটক সুজন দাস মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন এবং আরও পাঁচজন পলাতক পাচারকারীর নাম প্রকাশ করেছেন। তারা হলেন— দহগ্রামের আঙ্গরপোতা এলাকার জাহিনুর রহমান (৩০), শাকিরুল ইসলাম (২৮), নুরুজ্জামান (৪০), বেলাল হোসেন (৩০) ও শুভ (২৫)।
এই ঘটনায় আঙ্গরপোতা বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েব সুবেদার আখেরুজ্জামান বাদী হয়ে মানবপাচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। পরবর্তীতে আটক তিনজনকে পাটগ্রাম থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
রংপুর-৫১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সেলিম আলদীন জানান, “সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং তল্লাশি চৌকি স্থাপন করা হয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশ, মানবপাচার এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবি সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”
পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক জানান, “বিজিবি মানবপাচার আইনে মামলা দায়ের করে আসামিদের থানায় হস্তান্তর করেছে। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশি পাহারায় তাদের লালমনিরহাট আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
রিপোর্টারের নাম 

























