ঢাকা ০৫:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

নির্বাচনী মাঠে বাবা-ছেলের ভিন্ন মেরু: ধানের শীষে ভোট চেয়ে বাবার প্রচার, ছেলের প্রতীক শাপলা কলি

লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এক ব্যতিক্রমী ও চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। এই আসনে এক পরিবারের বাবা ও ছেলে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা স্থানীয় নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখানে ছেলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী হলেও, বাবা সক্রিয়ভাবে ভোট চাইছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে। এই ঘটনাটি নির্বাচনী এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং এটি এখন ‘টক অব দ্য টাউন’-এ পরিণত হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের বড় ভাই এবং এনসিপি-এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলম এবার ১০ দলীয় জোটের শরিক হিসেবে শাপলা কলি প্রতীকে নির্বাচন করছেন। অন্যদিকে, তাঁর বাবা আজিজুর রহমান বাচ্চু মোল্লা রামগঞ্জ উপজেলার ৪নং ইছাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

সম্প্রতি, শুক্রবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আজিজুর রহমান বাচ্চু মোল্লা ইছাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি প্রার্থী শাহাদাত হোসেন সেলিমের সঙ্গে একাধিক পথসভায় অংশগ্রহণ করেন। এসব সভায় তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য রাখেন।

এ বিষয়ে বাবা আজিজুর রহমান বাচ্চু মোল্লা তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন, রাজনীতি তাঁর কাছে আদর্শ ও বিশ্বাসের বিষয়। ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে রাজনৈতিক অবস্থান বদলানোর কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি মনে করেন। তাই তিনি বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। তবে, বাবা হিসেবে তিনি তাঁর ছেলের জন্য শুভকামনা ও দোয়া করেন বলেও তিনি জানান।

অন্যদিকে, এনসিপি-এর প্রার্থী মাহবুব আলমের সঙ্গে এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান যে বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে। তবে, এই বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে এই বিরল রাজনৈতিক ঘটনাটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই মন্তব্য করছেন যে, “ঘর না গুছিয়ে মাঠ গোছানো সম্ভব নয়।” এই বিশেষ পরিস্থিতি রামগঞ্জের নির্বাচনী রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় ককরোচ পার্টি, সময় চাইল মোদি সরকার

নির্বাচনী মাঠে বাবা-ছেলের ভিন্ন মেরু: ধানের শীষে ভোট চেয়ে বাবার প্রচার, ছেলের প্রতীক শাপলা কলি

আপডেট সময় : ০৬:০০:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এক ব্যতিক্রমী ও চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। এই আসনে এক পরিবারের বাবা ও ছেলে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা স্থানীয় নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখানে ছেলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী হলেও, বাবা সক্রিয়ভাবে ভোট চাইছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে। এই ঘটনাটি নির্বাচনী এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং এটি এখন ‘টক অব দ্য টাউন’-এ পরিণত হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের বড় ভাই এবং এনসিপি-এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলম এবার ১০ দলীয় জোটের শরিক হিসেবে শাপলা কলি প্রতীকে নির্বাচন করছেন। অন্যদিকে, তাঁর বাবা আজিজুর রহমান বাচ্চু মোল্লা রামগঞ্জ উপজেলার ৪নং ইছাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

সম্প্রতি, শুক্রবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আজিজুর রহমান বাচ্চু মোল্লা ইছাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি প্রার্থী শাহাদাত হোসেন সেলিমের সঙ্গে একাধিক পথসভায় অংশগ্রহণ করেন। এসব সভায় তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য রাখেন।

এ বিষয়ে বাবা আজিজুর রহমান বাচ্চু মোল্লা তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন, রাজনীতি তাঁর কাছে আদর্শ ও বিশ্বাসের বিষয়। ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে রাজনৈতিক অবস্থান বদলানোর কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি মনে করেন। তাই তিনি বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। তবে, বাবা হিসেবে তিনি তাঁর ছেলের জন্য শুভকামনা ও দোয়া করেন বলেও তিনি জানান।

অন্যদিকে, এনসিপি-এর প্রার্থী মাহবুব আলমের সঙ্গে এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান যে বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে। তবে, এই বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে এই বিরল রাজনৈতিক ঘটনাটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই মন্তব্য করছেন যে, “ঘর না গুছিয়ে মাঠ গোছানো সম্ভব নয়।” এই বিশেষ পরিস্থিতি রামগঞ্জের নির্বাচনী রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।