ঢাকা ০২:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফেরানোর আপিল: চতুর্থ দিনের শুনানিতে জামায়াতের পক্ষে লড়ছেন শিশির মনির

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩৫:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে

নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবিতে করা আপিলের ওপর চতুর্থ দিনের মতো শুনানি চলছে। আজ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে আদালতে সওয়াল করছেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত ৭ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চে এই শুনানি কার্যক্রম শুরু হয়।

এর আগে গত ২৩ অক্টোবর এই আপিলের তৃতীয় দিনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেদিন আদালতে একজন ইন্টারভেনর (মধ্যস্থতাকারী) হিসেবে ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিকী তার বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

গত ২২ অক্টোবর মামলার দ্বিতীয় দিনের শুনানি শেষ হয়েছিল। ওই দিন মূল রিটকারী বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে তার আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন।

এর ঠিক আগের দিন, অর্থাৎ ২১ অক্টোবর, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে এই আপিল শুনানি শুরু হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, গত ২৭ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দেওয়া পূর্বের রায়টি পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে করা আবেদনের ওপর শুনানি হয় এবং আদালত এ বিষয়ে আপিলের অনুমতি দেন।

আদালতের অনুমতির পর, ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এই আপিলগুলো দায়ের করেন।

মূল ঘটনার সূত্রপাত হয় ১৯৯৬ সালে, যখন সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাস করা হয়। এই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৯৯৮ সালে অ্যাডভোকেট এম সলিম উল্লাহসহ তিনজন আইনজীবী হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেন। ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগ সেই রিটটি খারিজ করে দেন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বৈধ বলে রায় দেন।

এই সংশোধনীর বৈধতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম সলিমউল্লাহ ও অন্যরা ১৯৯৮ সালে যে রিটটি করেছিলেন, তার প্রাথমিক শুনানির পর হাইকোর্ট রুল জারি করেছিলেন। পরবর্তীতে হাইকোর্টের একটি বিশেষ বেঞ্চ চূড়ান্ত শুনানি গ্রহণ করে এবং ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট রায় প্রদান করে।

হাইকোর্টের সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে সরাসরি আপিলের অনুমতি দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৫ সালে রিট আবেদনকারীরা আপিল করেন। সেই আপিলের চূড়ান্ত রায়ে, ২০১১ সালের ১০ মে, আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীকে (তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা) বাতিল ঘোষণা করেন।

আপিল বিভাগের ওই রায়ের পর, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করাসহ আরও কিছু পরিবর্তন এনে ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস করা হয়। একই বছরের ৩ জুলাই এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশিত হয়।

(সাম্প্রতিক) সরকার পরিবর্তনের পর, আপিল বিভাগের (২০১১ সালের) সেই রায়টি পুনর্বিবেচনার জন্য গত ৫ আগস্ট আবেদন করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন বিশিষ্ট ব্যক্তি। অন্য চার আবেদনকারী হলেন তোফায়েল আহমেদ, এম হাফিজউদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া ও জাহরা রহমান।

আপিল বিভাগের একই রায় পুনর্বিবেচনার জন্য গত ১৬ অক্টোবর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও একটি আবেদন দায়ের করেন।

এছাড়া, ওই রায় পুনর্বিবেচনার জন্য গত বছরের ২৩ অক্টোবর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার আরেকটি আবেদন করেছিলেন।

পরবর্তীতে, নওগাঁর রানীনগরের নারায়ণপাড়ার বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেনও আপিল বিভাগের রায়টি পুনর্বিবেচনার জন্য গত বছর একটি আবেদন দায়ের করেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শহীদ ওসমান হাদির স্মরণে আলিয়ার দেয়ালে গ্রাফিতি: বিচারের দাবিতে সোচ্চার শিক্ষার্থীরা

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফেরানোর আপিল: চতুর্থ দিনের শুনানিতে জামায়াতের পক্ষে লড়ছেন শিশির মনির

আপডেট সময় : ১০:৩৫:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫

নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবিতে করা আপিলের ওপর চতুর্থ দিনের মতো শুনানি চলছে। আজ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে আদালতে সওয়াল করছেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত ৭ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চে এই শুনানি কার্যক্রম শুরু হয়।

এর আগে গত ২৩ অক্টোবর এই আপিলের তৃতীয় দিনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেদিন আদালতে একজন ইন্টারভেনর (মধ্যস্থতাকারী) হিসেবে ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিকী তার বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

গত ২২ অক্টোবর মামলার দ্বিতীয় দিনের শুনানি শেষ হয়েছিল। ওই দিন মূল রিটকারী বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে তার আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন।

এর ঠিক আগের দিন, অর্থাৎ ২১ অক্টোবর, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে এই আপিল শুনানি শুরু হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, গত ২৭ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দেওয়া পূর্বের রায়টি পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে করা আবেদনের ওপর শুনানি হয় এবং আদালত এ বিষয়ে আপিলের অনুমতি দেন।

আদালতের অনুমতির পর, ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এই আপিলগুলো দায়ের করেন।

মূল ঘটনার সূত্রপাত হয় ১৯৯৬ সালে, যখন সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাস করা হয়। এই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৯৯৮ সালে অ্যাডভোকেট এম সলিম উল্লাহসহ তিনজন আইনজীবী হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেন। ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগ সেই রিটটি খারিজ করে দেন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বৈধ বলে রায় দেন।

এই সংশোধনীর বৈধতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম সলিমউল্লাহ ও অন্যরা ১৯৯৮ সালে যে রিটটি করেছিলেন, তার প্রাথমিক শুনানির পর হাইকোর্ট রুল জারি করেছিলেন। পরবর্তীতে হাইকোর্টের একটি বিশেষ বেঞ্চ চূড়ান্ত শুনানি গ্রহণ করে এবং ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট রায় প্রদান করে।

হাইকোর্টের সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে সরাসরি আপিলের অনুমতি দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৫ সালে রিট আবেদনকারীরা আপিল করেন। সেই আপিলের চূড়ান্ত রায়ে, ২০১১ সালের ১০ মে, আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীকে (তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা) বাতিল ঘোষণা করেন।

আপিল বিভাগের ওই রায়ের পর, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করাসহ আরও কিছু পরিবর্তন এনে ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস করা হয়। একই বছরের ৩ জুলাই এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশিত হয়।

(সাম্প্রতিক) সরকার পরিবর্তনের পর, আপিল বিভাগের (২০১১ সালের) সেই রায়টি পুনর্বিবেচনার জন্য গত ৫ আগস্ট আবেদন করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন বিশিষ্ট ব্যক্তি। অন্য চার আবেদনকারী হলেন তোফায়েল আহমেদ, এম হাফিজউদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া ও জাহরা রহমান।

আপিল বিভাগের একই রায় পুনর্বিবেচনার জন্য গত ১৬ অক্টোবর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও একটি আবেদন দায়ের করেন।

এছাড়া, ওই রায় পুনর্বিবেচনার জন্য গত বছরের ২৩ অক্টোবর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার আরেকটি আবেদন করেছিলেন।

পরবর্তীতে, নওগাঁর রানীনগরের নারায়ণপাড়ার বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেনও আপিল বিভাগের রায়টি পুনর্বিবেচনার জন্য গত বছর একটি আবেদন দায়ের করেন।