আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে গোপালগঞ্জ-১ আসনে (মুকসুদপুর-কাশিয়ানী একাংশ) এক অভূতপূর্ব নির্বাচনী লড়াইয়ের দৃশ্যপট তৈরি হয়েছে। এই আসনের নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বীদের তালিকায় এমন দুজন প্রার্থীর নাম রয়েছে, যারা বর্তমানে কারাবন্দী। আইনি জটিলতা কাটিয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর, কারা-বন্দী এই দুই প্রার্থী এবং তাদের সমর্থকরা এখন ‘কারাগার বনাম মাঠের’ লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত।
এই দুই কারাবন্দী প্রার্থী হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আশরাফুল আলম শিমুল এবং গণ-অধিকার পরিষদের মনোনীত প্রার্থী কাবির মিয়া।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আশরাফুল আলম শিমুল বর্তমানে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। তাঁর নির্বাচনী প্রতীক ‘ফুটবল’। দাখিলকৃত হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে মোট চারটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। নির্বাচনের আগে তিনি জামিন না পেলে, তাঁর পরিবারের সদস্য এবং ঘনিষ্ঠ সমর্থকরাই তাঁর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণার দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁর অনুসারীদের বিশ্বাস, কারাবন্দী প্রার্থীর প্রতি সাধারণ মানুষের সহানুভূতি তাঁর নির্বাচনী ফলাফলে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
অন্যদিকে, কাশিমপুর কারাগারে বন্দী থেকেই ‘ট্রাক’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন গণ-অধিকার পরিষদের প্রার্থী কাবির মিয়া। তাঁর বিরুদ্ধে মোট সাতটি মামলা রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে তাঁর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে বাতিল হলেও, তিনি দমে যাননি। উচ্চ আদালতে আপিলের মাধ্যমে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় তাঁর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। তাঁর পরিবার জানিয়েছে, যদি তিনি মুক্তি না পান, তবে কারাগার থেকেই তিনি এই নির্বাচনী যুদ্ধের নেতৃত্ব দেবেন।
নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধে অন্তত দুই বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত না হন, তবে তাঁর নির্বাচনে অংশ নিতে আইনগতভাবে কোনো বাধা নেই। এই আইনি সুযোগের কারণেই বিচারাধীন মামলায় বন্দী থাকা অবস্থায় তাঁরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আরিফ-উজ-জামান জানিয়েছেন, মনোনয়নপত্র সংক্রান্ত সকল বিষয় আইন অনুযায়ী পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গোপালগঞ্জ-১ আসনে ঐতিহ্যবাহী হেভিওয়েট প্রার্থীদের পাশাপাশি এই দুই কারাবন্দী প্রার্থীর অংশগ্রহণ নির্বাচনটিকে এক ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। বর্তমানে এই বিষয়টিই স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 
























