ঢাকা ০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

রংপুরে পুলিশি হেফাজতে ট্রাকচালকের মৃত্যুর অভিযোগ: সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০০:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

রংপুরে পুলিশি হেফাজতে মুকুল মিয়া নামের এক ট্রাকচালকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর চিকলি ভাটার এলাকা থেকে আটকের মাত্র ২০ মিনিটের মাথায় তার মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। পুলিশের দাবি, অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়েছে। তবে পরিবারের অভিযোগ, আটকের পর পুলিশি নির্যাতনেই প্রাণ হারিয়েছেন মুকুল। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং বিচারের দাবিতে গভীর রাতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।

নিহত মুকুল মিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে সাদা পোশাকের পাঁচজন পুলিশ সদস্য তাদের বাড়ি থেকে মুকুলকে আটক করেন। আটকের সময় তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন। কিন্তু রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ফোনের মাধ্যমে জানানো হয় যে, মুকুল মিয়া মারা গেছেন। মাত্র ২০ মিনিটের ব্যবধানে এই মৃত্যু নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহতের মেয়ে মুনের অভিযোগ, তার বাবাকে আটকের সময় তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ ছিলেন। কিন্তু হাসপাতালে গিয়ে তারা দেখতে পান তার বাবার শরীরে বালু মাখা এবং আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পরিবারের দাবি, আটকের পর তাকে নির্যাতন করা হয়েছে, যার ফলে তার মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে, ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে রংপুর মেডিকেল মোড় এলাকায় লাশ নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এর ফলে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভকারীরা অভিযুক্ত এসআই মনিরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টদের বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহত মুকুল মিয়ার বিরুদ্ধে মাদক সংক্রান্ত চারটি মামলা রয়েছে। পেশায় তিনি একজন ট্রাকচালক ছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারের পর তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করেছে পুলিশ। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তে ৫ জনকে পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ করল বিজিবি

রংপুরে পুলিশি হেফাজতে ট্রাকচালকের মৃত্যুর অভিযোগ: সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ১০:০০:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

রংপুরে পুলিশি হেফাজতে মুকুল মিয়া নামের এক ট্রাকচালকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর চিকলি ভাটার এলাকা থেকে আটকের মাত্র ২০ মিনিটের মাথায় তার মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। পুলিশের দাবি, অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়েছে। তবে পরিবারের অভিযোগ, আটকের পর পুলিশি নির্যাতনেই প্রাণ হারিয়েছেন মুকুল। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং বিচারের দাবিতে গভীর রাতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।

নিহত মুকুল মিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে সাদা পোশাকের পাঁচজন পুলিশ সদস্য তাদের বাড়ি থেকে মুকুলকে আটক করেন। আটকের সময় তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন। কিন্তু রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ফোনের মাধ্যমে জানানো হয় যে, মুকুল মিয়া মারা গেছেন। মাত্র ২০ মিনিটের ব্যবধানে এই মৃত্যু নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহতের মেয়ে মুনের অভিযোগ, তার বাবাকে আটকের সময় তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ ছিলেন। কিন্তু হাসপাতালে গিয়ে তারা দেখতে পান তার বাবার শরীরে বালু মাখা এবং আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পরিবারের দাবি, আটকের পর তাকে নির্যাতন করা হয়েছে, যার ফলে তার মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে, ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে রংপুর মেডিকেল মোড় এলাকায় লাশ নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এর ফলে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভকারীরা অভিযুক্ত এসআই মনিরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টদের বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহত মুকুল মিয়ার বিরুদ্ধে মাদক সংক্রান্ত চারটি মামলা রয়েছে। পেশায় তিনি একজন ট্রাকচালক ছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারের পর তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করেছে পুলিশ। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।