ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সিলেট নগরীর ঐতিহাসিক সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে এক বিশাল জনসভার মধ্য দিয়ে তাদের নির্বাচনী কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেছে। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জনসভা শুরু হয় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এতে যোগ দেন। তার আগমনকে কেন্দ্র করে জনসভাস্থল নির্ধারিত সময়ের বহু আগেই নেতাকর্মীদের পদচারণায় কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে, যা এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করে।
ভোর থেকেই সিলেট, সুনামগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা আলিয়া মাদরাসা মাঠে জড়ো হতে শুরু করেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে জনসভা মাঠ ছাড়িয়ে আশপাশের সড়ক ও উপ-সড়কেও হাজার হাজার মানুষ অবস্থান নেন, যা এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। নেতাকর্মীদের হাতে শোভা পাচ্ছিল দলীয় পতাকা, ধানের শীষের প্রতিকৃতি এবং তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত ব্যানার ও ফেস্টুন। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা, যা নেতাকর্মীদের মধ্যে অভাবনীয় উৎসাহ-উদ্দীপনার জানান দেয়।
এই জনসভার মাধ্যমেই দেশজুড়ে বিএনপির নির্বাচনী কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো। প্রায় দুই দশক পর তারেক রহমানের সিলেট সফরকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ভিন্ন আমেজ লক্ষ্য করা গেছে। মঞ্চ থেকে তিনি সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন আসনের দলীয় প্রার্থীদের জনগণের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন এবং আসন্ন নির্বাচন ও চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। দলীয় জ্যেষ্ঠ নেতারা আশা করছেন, তারেকের এই নির্দেশনা নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা জাগাবে।
তারেক রহমানের সফর ও জনসভাকে কেন্দ্র করে সিলেট নগরীতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পুলিশ, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জনসভাস্থল ও আশপাশের এলাকায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেন, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো যায়।
উল্লেখ্য, বুধবার রাতে আকাশপথে সিলেট পৌঁছান তারেক রহমান এবং হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। সিলেটের এই জনসভা শেষে তার সড়কপথে ঢাকা ফেরার পথে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জসহ আরও কয়েকটি জেলায় নির্বাচনী পথসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 
























