ঢাকা ০২:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জাপানে চাকরির সুযোগ: প্রশিক্ষিত চালক নিতে বাংলাদেশে ড্রাইভিং স্কুল করছেন মিকি ওয়াতানাবে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৮ বার পড়া হয়েছে

এই ওয়াতানাবে হলেন জাপানের বিখ্যাত শিল্প প্রতিষ্ঠান ওয়াতামি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা। শনিবার সন্ধ্যায় তিনি ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে দেখা করতে এসে এই পরিকল্পনার কথা জানান।

ওয়াতানাবে জানান, ‘আমরা এখন ড্রাইভিং স্কুলটি স্থাপন করতে ১২ হাজার বর্গমিটারের একটি জায়গা খুঁজছি।’ তিনি বলেন, জাপানে এখন দক্ষ চালকের প্রচুর চাহিদা রয়েছে এবং বাংলাদেশ এই চাহিদা মেটানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হতে পারে।

এই কথা শুনে প্রধান উপদেষ্টা সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঢাকার আশপাশে উপযুক্ত জমি খুঁজে বের করার নির্দেশ দেন।

মূলত, অধ্যাপক ইউনূস গত মে মাসে জাপান সফরে গিয়েছিলেন, তারই সূত্র ধরে এই বৈঠকটি হলো। সেই সফরে জাপানি উদ্যোক্তারা আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ থেকে এক লাখ কর্মী নেওয়ার ব্যাপারে একটি চুক্তিও করেছিলেন।

ওয়াতানাবে এই বৈঠকে আরও জানান যে, তিনি এরই মধ্যে নরসিংদী জেলার মনোহরদীতে একটি ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করেছেন। সেখানে অন্তত তিন হাজার বাংলাদেশিকে প্রশিক্ষণ দিয়ে জাপানে চাকরি দেওয়ার পরিকল্পনা আছে তার।

তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে নির্মাণ ও কৃষি খাতে কাজের জন্য ৫২ জন কর্মী জাপান গেছেন।’ তিনি আরও জানান, এখন ওই একাডেমিতে প্রতিটি ব্যাচে ৪০ জন করে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে এবং ধীরে ধীরে এর পরিধি আরও বাড়ানো হবে।

প্রধান উপদেষ্টা এই প্রশিক্ষণগুলোতে জাপানি সংস্কৃতি, আদব-কায়দা এবং আচরণ শেখানোর ওপর বিশেষভাবে জোর দেন।

তিনি বলেন, ‘আদব-কায়দা ও সংস্কৃতি শেখানোটা প্রশিক্ষণের একটি জরুরি অংশ হওয়া উচিত। এর মাধ্যমে বাংলাদেশিরা জাপানকে আরও ভালোভাবে বুঝতে পারবে এবং সে দেশে যাওয়ার আগেই ঠিকমতো প্রস্তুত হতে পারবে।’

অধ্যাপক ইউনূস ওয়াতামি গ্রুপের প্রধানকে অনুরোধ করেন যেন তারা সেবা, নার্সিং, নির্মাণ ও কৃষি খাতেও প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন। কারণ এসব খাতে দক্ষ কর্মীরা জাপানে গিয়ে বেশ ভালো আয় করতে পারেন।

ওয়াতানাবে তার এই প্রস্তাবে রাজি হয়ে বলেন, ‘আমরাও এগুলো করতে চাই।’

জাপানি বিনিয়োগকারী ও বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যোগাযোগ সহজ করে দেওয়ায় তিনি প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নতুন ‘জাপান সেল’-এর প্রশংসাও করেন। তিনি চান, জাপানি কোম্পানিগুলোকে যেন কষ্ট করে নরসিংদীর মনোহরদী পর্যন্ত যেতে না হয়, তাই তিনি ঢাকা বা এর কাছাকাছি আরও একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খুলতে আগ্রহ দেখান।

এই শুনে প্রধান উপদেষ্টা কর্মকর্তাদের এমন কোনো অব্যবহৃত আইটি পার্ক বা উপযুক্ত ভবন খুঁজে বের করতে বলেন, যেটিকে কম খরচে জাপানি ভাষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে চালু করা যাবে।

তিনি বলেন, ‘ড্রাইভিং স্কুলের জন্য জমি এবং নতুন প্রশিক্ষণকেন্দ্রের জন্য উপযুক্ত জায়গা খুঁজে বের করতে আমরা একসঙ্গে কাজ করব।’

প্রধান উপদেষ্টার একান্ত সচিব সজীব এম খায়রুল ইসলাম জানিয়েছেন, খুব তাড়াতাড়ি জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য ঢাকার আশপাশের সম্ভাব্য আইটি পার্কগুলো ঘুরে দেখার ব্যবস্থা করা হবে।

অধ্যাপক ইউনূস জাপানি ভাষা শেখার পর যে দক্ষতার পরীক্ষা হয়, তার সংখ্যা বাড়ানোর জন্যেও অনুরোধ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এখন বছরে মাত্র দুবার এই পরীক্ষা হয়, যা চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয়।

এই বৈঠকের এক পর্যায়ে ওয়াতানাবে দশ বছরেরও বেশি সময় আগে গাজীপুরের নারায়ণকূলে তৈরি করা একটি স্কুলের কথা মনে করেন। স্কুলটি তিনি অধ্যাপক ইউনূসের দারিদ্র্যমুক্ত বিশ্বের স্বপ্ন দেখে অনুপ্রাণিত হয়েই গড়ে তুলেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘বিদ্যালয়টিতে এখন ১৫০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। এটি একটি অসাধারণ প্রতিষ্ঠান। এখানকার শিক্ষার্থীরা খুব ভালো করছে।’

এই বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সচিব ও এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শহীদ ওসমান হাদির স্মরণে আলিয়ার দেয়ালে গ্রাফিতি: বিচারের দাবিতে সোচ্চার শিক্ষার্থীরা

জাপানে চাকরির সুযোগ: প্রশিক্ষিত চালক নিতে বাংলাদেশে ড্রাইভিং স্কুল করছেন মিকি ওয়াতানাবে

আপডেট সময় : ১১:১৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫

এই ওয়াতানাবে হলেন জাপানের বিখ্যাত শিল্প প্রতিষ্ঠান ওয়াতামি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা। শনিবার সন্ধ্যায় তিনি ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে দেখা করতে এসে এই পরিকল্পনার কথা জানান।

ওয়াতানাবে জানান, ‘আমরা এখন ড্রাইভিং স্কুলটি স্থাপন করতে ১২ হাজার বর্গমিটারের একটি জায়গা খুঁজছি।’ তিনি বলেন, জাপানে এখন দক্ষ চালকের প্রচুর চাহিদা রয়েছে এবং বাংলাদেশ এই চাহিদা মেটানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হতে পারে।

এই কথা শুনে প্রধান উপদেষ্টা সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঢাকার আশপাশে উপযুক্ত জমি খুঁজে বের করার নির্দেশ দেন।

মূলত, অধ্যাপক ইউনূস গত মে মাসে জাপান সফরে গিয়েছিলেন, তারই সূত্র ধরে এই বৈঠকটি হলো। সেই সফরে জাপানি উদ্যোক্তারা আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ থেকে এক লাখ কর্মী নেওয়ার ব্যাপারে একটি চুক্তিও করেছিলেন।

ওয়াতানাবে এই বৈঠকে আরও জানান যে, তিনি এরই মধ্যে নরসিংদী জেলার মনোহরদীতে একটি ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করেছেন। সেখানে অন্তত তিন হাজার বাংলাদেশিকে প্রশিক্ষণ দিয়ে জাপানে চাকরি দেওয়ার পরিকল্পনা আছে তার।

তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে নির্মাণ ও কৃষি খাতে কাজের জন্য ৫২ জন কর্মী জাপান গেছেন।’ তিনি আরও জানান, এখন ওই একাডেমিতে প্রতিটি ব্যাচে ৪০ জন করে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে এবং ধীরে ধীরে এর পরিধি আরও বাড়ানো হবে।

প্রধান উপদেষ্টা এই প্রশিক্ষণগুলোতে জাপানি সংস্কৃতি, আদব-কায়দা এবং আচরণ শেখানোর ওপর বিশেষভাবে জোর দেন।

তিনি বলেন, ‘আদব-কায়দা ও সংস্কৃতি শেখানোটা প্রশিক্ষণের একটি জরুরি অংশ হওয়া উচিত। এর মাধ্যমে বাংলাদেশিরা জাপানকে আরও ভালোভাবে বুঝতে পারবে এবং সে দেশে যাওয়ার আগেই ঠিকমতো প্রস্তুত হতে পারবে।’

অধ্যাপক ইউনূস ওয়াতামি গ্রুপের প্রধানকে অনুরোধ করেন যেন তারা সেবা, নার্সিং, নির্মাণ ও কৃষি খাতেও প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন। কারণ এসব খাতে দক্ষ কর্মীরা জাপানে গিয়ে বেশ ভালো আয় করতে পারেন।

ওয়াতানাবে তার এই প্রস্তাবে রাজি হয়ে বলেন, ‘আমরাও এগুলো করতে চাই।’

জাপানি বিনিয়োগকারী ও বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যোগাযোগ সহজ করে দেওয়ায় তিনি প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নতুন ‘জাপান সেল’-এর প্রশংসাও করেন। তিনি চান, জাপানি কোম্পানিগুলোকে যেন কষ্ট করে নরসিংদীর মনোহরদী পর্যন্ত যেতে না হয়, তাই তিনি ঢাকা বা এর কাছাকাছি আরও একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খুলতে আগ্রহ দেখান।

এই শুনে প্রধান উপদেষ্টা কর্মকর্তাদের এমন কোনো অব্যবহৃত আইটি পার্ক বা উপযুক্ত ভবন খুঁজে বের করতে বলেন, যেটিকে কম খরচে জাপানি ভাষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে চালু করা যাবে।

তিনি বলেন, ‘ড্রাইভিং স্কুলের জন্য জমি এবং নতুন প্রশিক্ষণকেন্দ্রের জন্য উপযুক্ত জায়গা খুঁজে বের করতে আমরা একসঙ্গে কাজ করব।’

প্রধান উপদেষ্টার একান্ত সচিব সজীব এম খায়রুল ইসলাম জানিয়েছেন, খুব তাড়াতাড়ি জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য ঢাকার আশপাশের সম্ভাব্য আইটি পার্কগুলো ঘুরে দেখার ব্যবস্থা করা হবে।

অধ্যাপক ইউনূস জাপানি ভাষা শেখার পর যে দক্ষতার পরীক্ষা হয়, তার সংখ্যা বাড়ানোর জন্যেও অনুরোধ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এখন বছরে মাত্র দুবার এই পরীক্ষা হয়, যা চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয়।

এই বৈঠকের এক পর্যায়ে ওয়াতানাবে দশ বছরেরও বেশি সময় আগে গাজীপুরের নারায়ণকূলে তৈরি করা একটি স্কুলের কথা মনে করেন। স্কুলটি তিনি অধ্যাপক ইউনূসের দারিদ্র্যমুক্ত বিশ্বের স্বপ্ন দেখে অনুপ্রাণিত হয়েই গড়ে তুলেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘বিদ্যালয়টিতে এখন ১৫০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। এটি একটি অসাধারণ প্রতিষ্ঠান। এখানকার শিক্ষার্থীরা খুব ভালো করছে।’

এই বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সচিব ও এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ।