ঢাকা ০৫:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

মোহাম্মদাবাদ: ঝিনাইদহের মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা এক প্রাচীন মসজিদের শহর

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৩২:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ শহর থেকে কিছুটা দক্ষিণে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী জনপদ মোহাম্মদাবাদ, যা বর্তমানে বারোবাজার নামে পরিচিত। পঞ্চদশ শতাব্দীতে বিখ্যাত সুফি সাধক হজরত খানজাহান আলী (রহ.) তার ১২ জন সঙ্গী নিয়ে এই অঞ্চলে আসেন, যার ফলে স্থানটির নাম হয় ‘বারোবাজার’। দীর্ঘকাল লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকার পর ১৯৯৩ সালে প্রত্নতাত্ত্বিক খননের মাধ্যমে এখানে ১৯টি প্রাচীন মসজিদের নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়, যা এই অঞ্চলের ঐতিহাসিক গুরুত্বকে বিশ্ব দরবারে নতুন করে তুলে ধরে।

সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের পরিচালিত সেই অনুসন্ধানে কেবল মসজিদই নয়, বরং মাটির নিচ থেকে বেরিয়ে আসে প্রাচীন সেনা ছাউনি, সুগঠিত সিঁড়ি, কবরস্থান এবং একটি নদীবন্দরের ধ্বংসাবশেষ। এখানকার অন্যতম আকর্ষণ হলো সুলতানি আমলের স্থাপত্যশৈলী। এর মধ্যে ‘সাতগাছিয়া মসজিদ’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যার আয়তন ৭৭ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৫৫ ফুট প্রস্থ। ৩৫টি গম্বুজ বিশিষ্ট এই মসজিদে এক সময় ৪৮টি পিলার ছিল এবং এর পশ্চিম দেয়ালে লতাপাতার চমৎকার নকশা এখনো প্রাচীন শৈল্পিক নিপুণতার সাক্ষ্য দেয়।

আরেকটি দর্শনীয় স্থান হলো ‘গলাকাটা মসজিদ’। ১৯৯৪ সালে খননকৃত এই ছয় গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটির ভেতরে দুটি বিশাল কালো পাথর পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এই মসজিদটির নামকরণের পেছনে স্থানীয়ভাবে একটি প্রাচীন জনশ্রুতি প্রচলিত রয়েছে। এছাড়া নুনগোলা মসজিদসহ আরও বেশ কিছু স্থাপনা মোহাম্মদাবাদকে প্রকৃত অর্থেই একটি প্রাচীন মসজিদের শহরে পরিণত করেছে, যা বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক ইতিহাসের এক অমূল্য সম্পদ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শেষ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি: গভীর সংকটের মুখে কূটনৈতিক তৎপরতা

মোহাম্মদাবাদ: ঝিনাইদহের মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা এক প্রাচীন মসজিদের শহর

আপডেট সময় : ০৩:৩২:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ শহর থেকে কিছুটা দক্ষিণে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী জনপদ মোহাম্মদাবাদ, যা বর্তমানে বারোবাজার নামে পরিচিত। পঞ্চদশ শতাব্দীতে বিখ্যাত সুফি সাধক হজরত খানজাহান আলী (রহ.) তার ১২ জন সঙ্গী নিয়ে এই অঞ্চলে আসেন, যার ফলে স্থানটির নাম হয় ‘বারোবাজার’। দীর্ঘকাল লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকার পর ১৯৯৩ সালে প্রত্নতাত্ত্বিক খননের মাধ্যমে এখানে ১৯টি প্রাচীন মসজিদের নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়, যা এই অঞ্চলের ঐতিহাসিক গুরুত্বকে বিশ্ব দরবারে নতুন করে তুলে ধরে।

সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের পরিচালিত সেই অনুসন্ধানে কেবল মসজিদই নয়, বরং মাটির নিচ থেকে বেরিয়ে আসে প্রাচীন সেনা ছাউনি, সুগঠিত সিঁড়ি, কবরস্থান এবং একটি নদীবন্দরের ধ্বংসাবশেষ। এখানকার অন্যতম আকর্ষণ হলো সুলতানি আমলের স্থাপত্যশৈলী। এর মধ্যে ‘সাতগাছিয়া মসজিদ’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যার আয়তন ৭৭ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৫৫ ফুট প্রস্থ। ৩৫টি গম্বুজ বিশিষ্ট এই মসজিদে এক সময় ৪৮টি পিলার ছিল এবং এর পশ্চিম দেয়ালে লতাপাতার চমৎকার নকশা এখনো প্রাচীন শৈল্পিক নিপুণতার সাক্ষ্য দেয়।

আরেকটি দর্শনীয় স্থান হলো ‘গলাকাটা মসজিদ’। ১৯৯৪ সালে খননকৃত এই ছয় গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটির ভেতরে দুটি বিশাল কালো পাথর পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এই মসজিদটির নামকরণের পেছনে স্থানীয়ভাবে একটি প্রাচীন জনশ্রুতি প্রচলিত রয়েছে। এছাড়া নুনগোলা মসজিদসহ আরও বেশ কিছু স্থাপনা মোহাম্মদাবাদকে প্রকৃত অর্থেই একটি প্রাচীন মসজিদের শহরে পরিণত করেছে, যা বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক ইতিহাসের এক অমূল্য সম্পদ।