বাংলার ইতিহাসে স্থানীয় অধিবাসীদের ধর্মান্তরিত হওয়ার চেয়েও বহিরাগত মুসলমানদের আগমন এবং স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপনের বিষয়টি অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও তাৎপর্যপূর্ণ। ঐতিহাসিক তথ্যমতে, মধ্য এশিয়ায় মঙ্গোলদের ভয়াবহ আক্রমণ ও তার ফলে সৃষ্ট চরম রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এই অভিবাসনের অন্যতম প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছিল। সেই উত্তাল সময়ে নিজেদের নিরাপত্তা ও ভাগ্যান্বেষণে অসংখ্য রাজপুত্র, সেনাপতি এবং যোদ্ধা তাদের অনুসারীদের নিয়ে এ দেশে আশ্রয় গ্রহণ করেন। বঙ্গে মুসলিম শাসনের অগ্রদূত ইখতিয়ার উদ্দীন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজিও মূলত এমনই এক বিশাল বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়ে এ ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছিলেন।
ঐতিহাসিক মিনহাজ সিরাজের ‘তাবাকাতে নাসিরী’ গ্রন্থের তথ্য অনুযায়ী, বিহারে বখতিয়ার খলজির অভাবনীয় সামরিক সাফল্যের সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে খলজি উপজাতির বহু মানুষ দলে দলে তার সঙ্গে যোগ দেয়। তিব্বত অভিযানের সময় তার বাহিনীতে প্রায় ১০ হাজার বাছাইকৃত সৈন্য ছিল। যদিও সেই অভিযানটি সফল হয়নি এবং অনেক সৈন্য প্রাণ হারিয়েছিলেন, কিন্তু যারা টিকে ছিলেন তারা দেবকোটে তাদের পরিবারের সঙ্গে মিলিত হয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।
এছাড়া বখতিয়ার খলজির তিন প্রধান সেনাপতি—মুহম্মদ শিরান, হুসামুদ্দীন ইওয়াজ ও আলী মর্দানের অধীনে থাকা বিশাল সেনাবাহিনী বাংলার বিভিন্ন প্রান্তের শাসন ও প্রতিরক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল। কালক্রমে এই বিপুল সংখ্যক সৈন্য ও তাদের অনুসারীরা এ দেশের মাটির সঙ্গে মিশে গিয়ে স্থায়ী আবাস গড়ে তোলেন। মূলত মঙ্গোলদের ধ্বংসলীলার ফলে ইরান ও মধ্য এশিয়া যখন বিপর্যস্ত, ঠিক তখনই বাংলার এই উর্বর ভূখণ্ডে মুসলিম অভিবাসনের একটি শক্তিশালী ধারা তৈরি হয় যা এ অঞ্চলের সমাজ ও সংস্কৃতিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে।
রিপোর্টারের নাম 























