ঢাকা ০৪:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

জমি বিরোধের বলি ৪ বছরের শিশু, আছাড় মেরে হত্যা

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নির্মমভাবে আছাড় মেরে হত্যা করা হয়েছে চার বছরের এক শিশুকে। নিহত নুর আব্দুল্লাহ নামের শিশুটির মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

মঙ্গলবার (তারিখ উল্লেখ করা যেতে পারে, যদি থাকে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাপাহাড় গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত নুর আব্দুল্লাহ (৪) নুর আলম রাসেল ও রূপা আক্তার দম্পতির একমাত্র সন্তান। পরিবারের অভিযোগ, প্রতিবেশী দ্বীন ইসলাম ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের জমি দখলের চেষ্টা করে আসছিল। মঙ্গলবার সকালে তারা ওই জমিতে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করলে ভুক্তভোগী পরিবার বাধা দেয়। এই নিয়ে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয় এবং এই সংঘর্ষের মধ্যেই শিশুটির ওপর নির্মম হামলা চালানো হয়।

নিহত শিশুর বাবা নুর আলম রাসেল কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, অতর্কিত হামলায় তিনি, তার স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্যরা আহত হন। তিনি অভিযোগ করেন, তার চার বছরের শিশুকে প্রথমে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয় এবং পরে তাকে তুলে আছাড় মেরে হত্যা করা হয়। একমাত্র সন্তান হারিয়ে তিনি ন্যায়বিচার চেয়েছেন।

এই ঘটনায় নুরুল মোস্তফা (৬৫), জোসনা আরা বেগম (৫৫) এবং মোহাম্মদ নুর আলম (৩০) সহ পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

গুরুতর আহত অবস্থায় শিশু নুর আব্দুল্লাহকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত শিশুর চাচা মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম জানান, জমি দখলের আশঙ্কায় গত ১৩ জানুয়ারি জোরারগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। এর আগেও অভিযুক্তরা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছিল। জমি সংক্রান্ত বিষয়টি বর্তমানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (উত্তর), চট্টগ্রাম আদালতে ১৪৫ ধারায় মামলা হিসেবে বিচারাধীন রয়েছে।

জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী নাজমুল হক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, এই ঘটনার সঙ্গে দ্বীন ইসলাম, আরিফুল ইসলাম, রহিমা বেগম, মোহাম্মদ সেলিম, মোহাম্মদ মাহফুজ, মোহাম্মদ রাজিব এবং দ্বীন ইসলামের স্ত্রী রিজিয়া জড়িত।

এক নিষ্পাপ শিশুর এমন করুণ মৃত্যুতে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তারেক রহমানের কারাবন্দি জীবনের দুই দশক: এক কঠিন যাত্রার স্মরণ

জমি বিরোধের বলি ৪ বছরের শিশু, আছাড় মেরে হত্যা

আপডেট সময় : ১০:৪১:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নির্মমভাবে আছাড় মেরে হত্যা করা হয়েছে চার বছরের এক শিশুকে। নিহত নুর আব্দুল্লাহ নামের শিশুটির মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

মঙ্গলবার (তারিখ উল্লেখ করা যেতে পারে, যদি থাকে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাপাহাড় গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত নুর আব্দুল্লাহ (৪) নুর আলম রাসেল ও রূপা আক্তার দম্পতির একমাত্র সন্তান। পরিবারের অভিযোগ, প্রতিবেশী দ্বীন ইসলাম ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের জমি দখলের চেষ্টা করে আসছিল। মঙ্গলবার সকালে তারা ওই জমিতে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করলে ভুক্তভোগী পরিবার বাধা দেয়। এই নিয়ে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয় এবং এই সংঘর্ষের মধ্যেই শিশুটির ওপর নির্মম হামলা চালানো হয়।

নিহত শিশুর বাবা নুর আলম রাসেল কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, অতর্কিত হামলায় তিনি, তার স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্যরা আহত হন। তিনি অভিযোগ করেন, তার চার বছরের শিশুকে প্রথমে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয় এবং পরে তাকে তুলে আছাড় মেরে হত্যা করা হয়। একমাত্র সন্তান হারিয়ে তিনি ন্যায়বিচার চেয়েছেন।

এই ঘটনায় নুরুল মোস্তফা (৬৫), জোসনা আরা বেগম (৫৫) এবং মোহাম্মদ নুর আলম (৩০) সহ পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

গুরুতর আহত অবস্থায় শিশু নুর আব্দুল্লাহকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত শিশুর চাচা মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম জানান, জমি দখলের আশঙ্কায় গত ১৩ জানুয়ারি জোরারগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। এর আগেও অভিযুক্তরা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছিল। জমি সংক্রান্ত বিষয়টি বর্তমানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (উত্তর), চট্টগ্রাম আদালতে ১৪৫ ধারায় মামলা হিসেবে বিচারাধীন রয়েছে।

জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী নাজমুল হক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, এই ঘটনার সঙ্গে দ্বীন ইসলাম, আরিফুল ইসলাম, রহিমা বেগম, মোহাম্মদ সেলিম, মোহাম্মদ মাহফুজ, মোহাম্মদ রাজিব এবং দ্বীন ইসলামের স্ত্রী রিজিয়া জড়িত।

এক নিষ্পাপ শিশুর এমন করুণ মৃত্যুতে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।