## শিরোনাম: ‘পারিবারিক প্রতিহিংসা’ নাকি ‘জনগণের আশা’? – নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা কর্মশালায় পিআইবি মহাপরিচালকের বিতর্কিত মন্তব্য
কক্সবাজার: প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ও জনগণের বৃহত্তর কল্যাণের জন্য নয়, বরং পারিবারিক প্রতিশোধ চরিতার্থ করার লক্ষ্যেই ক্ষমতায় এসেছেন। বুধবার সকালে কক্সবাজার জেলা পরিষদ মিলনায়তনে নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা বিষয়ক দুদিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফারুক ওয়াসিফ নির্বাচনকালীন সময়ে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল, বস্তুনিষ্ঠ এবং জনস্বার্থভিত্তিক সাংবাদিকতার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, অতীতে ‘দালাল সাংবাদিকতা’ দেশের অর্জনকে ম্লান করেছে এবং বর্তমানেও কিছু মহল বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে গণতন্ত্র ও নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
কক্সবাজারের ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং বহু সভ্যতার সঙ্গে এর জনগোষ্ঠীর সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে পিআইবি মহাপরিচালক বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থান—উভয়ই এ দেশের মানুষের রক্তস্নাত অর্জন। এই অর্জনগুলো রক্ষা করার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
তবে, তিনি অভিযোগ করেন যে, সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের অর্জনের মধ্যে কৌশলে ‘ফ্যাসিবাদের দোসররা’ ঢুকে পড়েছে। অতীতেও ‘শিকারি সাংবাদিকতা’ জঙ্গিবাদী ন্যারেটিভ তৈরি করে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে নির্যাতনের পথ প্রশস্ত করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই ধরনের অপতৎপরতা বর্তমানেও নতুন করে শুরু হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গণমাধ্যমের অতীত ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনীতি মুক্তিযুদ্ধের পর ‘বাকশাল’-এর মধ্য দিয়ে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছিল। পরবর্তীতে শেখ হাসিনা প্রতিশোধের রাজনীতি চালিয়ে দেশকে ‘দলীয় রাষ্ট্রের’ দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছেন। এই সবকিছুই গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
পিআইবি মহাপরিচালকের এই মন্তব্যগুলো নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতার প্রেক্ষাপটে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে তার বক্তব্য নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
রিপোর্টারের নাম 
























