ঢাকা ০২:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ ও পর্যবেক্ষকদের গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করতে ইসিতে কমনওয়েলথ প্রতিনিধিদল

রবিবার (২৬ অক্টোবর) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারদের সাথে একটি বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে কমনওয়েলথের নির্বাচন সহায়তা বিভাগের প্রধান লিনফোর্ড অ্যানড্রুজ জানান, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের পর্যবেক্ষক মিশনের ব্যাপারে সব পক্ষের ব্যাপক সমর্থন আছে কি-না, তা নিশ্চিত করতে এবং নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ ও প্রস্তুতি মূল্যায়ন করতে তারা বাংলাদেশে এসেছেন।

লিনফোর্ড অ্যানড্রুজের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন ড. দিনুষা পণ্ডিতরত্ন, ন্যান্সি কানিয়াগো, সার্থক রায় এবং ম্যাডোনা লিঞ্চ। অ্যানড্রুজ বলেন, “কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোতে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের যে রীতি রয়েছে, সেই অনুযায়ী মহাসচিবের পক্ষ থেকে এই মিশন পাঠানো হয়েছে।”

তিনি তাদের সফরের কয়েকটি উদ্দেশ্যের কথা জানান। এর মধ্যে প্রধান উদ্দেশ্য হলো, বাংলাদেশের নির্বাচনে কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক মিশনের উপস্থিতির ব্যাপারে সব অংশীজনের সমর্থন রয়েছে কি-না, তা খতিয়ে দেখা। এর পাশাপাশি তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ এবং নির্বাচনের প্রস্তুতিও মূল্যায়ন করছেন।

নির্বাচনের প্রস্তুতি বিষয়ে তথ্য দিয়ে সহায়তা করায় তিনি অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার, অন্য কমিশনার ও সিনিয়র সচিবকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি আরও জানান, “আজ বাংলাদেশে আমাদের প্রথম দিন। আমরা আগামী শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) পর্যন্ত এখানে থাকবো। এই সময়ে মিশনটি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা, কূটনৈতিক সম্প্রদায় এবং গণমাধ্যমের সাথে দেখা করবে।”

মিশন প্রধান বলেন, “আমরা আমাদের কার্যক্রমে যতটা সম্ভব সব দিক খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছি।”

বাংলাদেশের সাথে কমনওয়েলথের দীর্ঘ ও শক্তিশালী ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি জানি, স্বাধীনতার পরপরই ১৯৭০-এর দশকের শুরুতে বাংলাদেশ প্রথম যে সংস্থাগুলোতে যোগ দিয়েছিল, কমনওয়েলথ তার মধ্যে অন্যতম।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “কমনওয়েলথ সবসময় বাংলাদেশের মানুষের পাশে আছে এবং এই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে সেই সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে তারা আগ্রহী।”

লিনফোর্ড অ্যানড্রুজ আরও বলেন, “আমরা সবসময় বিশ্বাস করি যে, কমনওয়েলথের সব সদস্য দেশেই গণতন্ত্র একটি চলমান প্রক্রিয়া। নির্বাচনের পরেও কমনওয়েলথ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে মিলে আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের পাশে থাকবে।”

তিনি জানান, নির্বাচনের পরবর্তী পরিস্থিতির দিকেও তারা নজর দেবেন এবং আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশকে কীভাবে আরও সহযোগিতা করা যায়, তা তারা গুরুত্বের সাথে দেখবেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শহীদ ওসমান হাদির স্মরণে আলিয়ার দেয়ালে গ্রাফিতি: বিচারের দাবিতে সোচ্চার শিক্ষার্থীরা

জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ ও পর্যবেক্ষকদের গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করতে ইসিতে কমনওয়েলথ প্রতিনিধিদল

আপডেট সময় : ১০:৩২:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫

রবিবার (২৬ অক্টোবর) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারদের সাথে একটি বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে কমনওয়েলথের নির্বাচন সহায়তা বিভাগের প্রধান লিনফোর্ড অ্যানড্রুজ জানান, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের পর্যবেক্ষক মিশনের ব্যাপারে সব পক্ষের ব্যাপক সমর্থন আছে কি-না, তা নিশ্চিত করতে এবং নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ ও প্রস্তুতি মূল্যায়ন করতে তারা বাংলাদেশে এসেছেন।

লিনফোর্ড অ্যানড্রুজের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন ড. দিনুষা পণ্ডিতরত্ন, ন্যান্সি কানিয়াগো, সার্থক রায় এবং ম্যাডোনা লিঞ্চ। অ্যানড্রুজ বলেন, “কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোতে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের যে রীতি রয়েছে, সেই অনুযায়ী মহাসচিবের পক্ষ থেকে এই মিশন পাঠানো হয়েছে।”

তিনি তাদের সফরের কয়েকটি উদ্দেশ্যের কথা জানান। এর মধ্যে প্রধান উদ্দেশ্য হলো, বাংলাদেশের নির্বাচনে কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক মিশনের উপস্থিতির ব্যাপারে সব অংশীজনের সমর্থন রয়েছে কি-না, তা খতিয়ে দেখা। এর পাশাপাশি তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ এবং নির্বাচনের প্রস্তুতিও মূল্যায়ন করছেন।

নির্বাচনের প্রস্তুতি বিষয়ে তথ্য দিয়ে সহায়তা করায় তিনি অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার, অন্য কমিশনার ও সিনিয়র সচিবকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি আরও জানান, “আজ বাংলাদেশে আমাদের প্রথম দিন। আমরা আগামী শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) পর্যন্ত এখানে থাকবো। এই সময়ে মিশনটি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা, কূটনৈতিক সম্প্রদায় এবং গণমাধ্যমের সাথে দেখা করবে।”

মিশন প্রধান বলেন, “আমরা আমাদের কার্যক্রমে যতটা সম্ভব সব দিক খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছি।”

বাংলাদেশের সাথে কমনওয়েলথের দীর্ঘ ও শক্তিশালী ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি জানি, স্বাধীনতার পরপরই ১৯৭০-এর দশকের শুরুতে বাংলাদেশ প্রথম যে সংস্থাগুলোতে যোগ দিয়েছিল, কমনওয়েলথ তার মধ্যে অন্যতম।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “কমনওয়েলথ সবসময় বাংলাদেশের মানুষের পাশে আছে এবং এই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে সেই সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে তারা আগ্রহী।”

লিনফোর্ড অ্যানড্রুজ আরও বলেন, “আমরা সবসময় বিশ্বাস করি যে, কমনওয়েলথের সব সদস্য দেশেই গণতন্ত্র একটি চলমান প্রক্রিয়া। নির্বাচনের পরেও কমনওয়েলথ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে মিলে আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের পাশে থাকবে।”

তিনি জানান, নির্বাচনের পরবর্তী পরিস্থিতির দিকেও তারা নজর দেবেন এবং আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশকে কীভাবে আরও সহযোগিতা করা যায়, তা তারা গুরুত্বের সাথে দেখবেন।