নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানার ভেতরে পরিবারসহ দুই আওয়ামী লীগ নেতার ‘বেয়াইখানা’ (বর-কনের বাবার আপ্যায়ন) আয়োজনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পাঁচ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে হাতিয়া উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে বুধবার রাতে নোয়াখালী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যাহারকৃত পুলিশ সদস্যরা হলেন: সহকারী শহর উপ-পরিদর্শক (এটিএসআই) জাহেদুল ইসলাম, এটিএসআই কবির আহম্মদ ভূঁইয়া, কনস্টেবল সাইফুল ইসলাম, বিল্লাল হোসেন এবং মো. হাসান। নোয়াখালী পুলিশ সুপার টি. এম. মোশাররফ হোসেনের নির্দেশে এই ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) লিয়াকত আকবর এবং পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের পরিদর্শক (ক্রাইম) মো. শাহ আলম। আগামী ২৬ জানুয়ারির মধ্যে এই তদন্ত কমিটিকে তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ জানুয়ারি দুপুরে নারী হাজতখানার ভেতরে কর্তব্যরত পুলিশের সহায়তায় এই ঘটনাটি ঘটে। কারাগারে বন্দি দুই নেতা হলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আজম পাশা চৌধুরী রুমেল এবং হাতিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদ। তারা হত্যা ও বিস্ফোরকসহ একাধিক মামলার আসামি হিসেবে নোয়াখালী জেলা কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
কারাগারে থাকাকালীন সময়ে দুই নেতার পারিবারিক আলোচনার মাধ্যমে কোম্পানীগঞ্জ যুবলীগ নেতা আজম পাশা চৌধুরী রুমেলের মেয়ে ফালিহা আজম চৌধুরী অর্থি এবং হাতিয়া আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদের ছেলে ছাইম উদ্দিন সাকিবের মধ্যে বিয়ের আয়োজন হয়। গত ৩০ ডিসেম্বর পারিবারিকভাবে এই বিয়ে সম্পন্ন হয়।
পরবর্তীতে, ১৯ জানুয়ারি মামলার হাজিরার জন্য আদালতে আনা হলে পুলিশের উপস্থিতিতেই হাজতখানার ভেতরে পরিবারের সদস্যরা ‘বেয়াইখানা’র আয়োজন করেন। এ সময় নারী আসামিদের জন্য নির্ধারিত হাজতখানায় উপস্থিত ছিলেন আজম পাশা রুমেলের স্ত্রী খোদেজা আক্তার সুমি, মেয়ে ফালিহা আজম চৌধুরী অর্থি, বর ছাইম উদ্দিন সাকিব এবং আরও একজন যুবক।
আদালত সূত্রমতে, আজম পাশা চৌধুরী রুমেলের বিরুদ্ধে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর সাত কর্মীকে গুলি করে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। অন্যদিকে, অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে হাতিয়া, চরজব্বর এবং কবিরহাট থানায় বিস্ফোরকসহ মোট পাঁচটি মামলা বিচারাধীন।
ঘটনার দিন হাজতখানার দায়িত্বে ছিলেন সহকারী শহর উপ-পরিদর্শক (এটিএসআই) জাহেদুল ইসলামের নেতৃত্বে এটিএসআই কবির আহম্মদ ভূঁইয়া এবং কনস্টেবল বিল্লাল হোসেন (নং-৬৩৬), মো. হাসান (নং-৩৪০) ও সাইফুল ইসলাম (নং-২২০)।
উল্লেখ্য, হত্যা ও বিস্ফোরক মামলার আসামি হিসেবে কারাবন্দি দুই নেতার পরিবারের মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্ক তৈরি হওয়ায় আদালতে হাজিরার দিনেই চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানায় এই ‘বেয়াইখানা’র আয়োজন দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 





















